
বৃষ্টির দিনে ঘরের ভেতরেও পলিথিন গায়ে দিয়ে বসে থাকতে হতো বৃদ্ধা কালো মনিকে। ভাঙাচোরা টিনের ঘর, নষ্ট বেড়া আর চরম অনিশ্চয়তার মধ্যেই কেটে যাচ্ছিল তার জীবন। সন্তান নেই, নেই কোনো স্বজন। যশোর সদর উপজেলার আরবপুর ইউনিয়নের ধর্মতলা রেললাইনের পাশের সেই জরাজীর্ণ ঘরই ছিল তার একমাত্র আশ্রয়।
অসহায় এই বৃদ্ধার দুর্দশার কথা স্থানীয়দের মাধ্যমে জানতে পারেন ধর্মতলা বাজার কমিটির সভাপতি ও ইউপি সদস্য জাহিদুল ইসলাম ডালিম। পরে তিনি সরেজমিনে গিয়ে কালো মনির বসবাসের অবস্থা দেখে নতুন একটি ঘর নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন। প্রতিশ্রুতির মাত্র দুই দিনের মধ্যেই নতুন টিন দিয়ে একটি বসবাসযোগ্য ঘর নির্মাণ করে দেন তিনি। শুক্রবার (৩ জুলাই) নিজ হাতে কালো মনির কাছে নতুন ঘরের চাবি তুলে দেন জাহিদুল ইসলাম ডালিম।
জানা গেছে, পুরোনো ঘরটির টিন ও বেড়া প্রায় সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। বৃষ্টির সময় ঘরের ভেতর পানি পড়ত। মাথার ওপর পলিথিন টাঙিয়ে কোনোমতে রাত কাটাতে হতো তাকে। রান্নারও ছিল না কোনো নিরাপদ ব্যবস্থা।
জাহিদুল ইসলাম ডালিম বলেন, “বৃদ্ধা কালো মনির দুর্দশার কথা শুনে গিয়ে দেখি, তিনি অত্যন্ত মানবেতর অবস্থায় বসবাস করছেন। বৃষ্টির সময় ঘরের ভেতরেও পলিথিন গায়ে দিয়ে থাকতে হতো। দৃশ্যটি আমাকে খুব ব্যথিত করেছে। তাই আমার সামর্থ্য অনুযায়ী দ্রুত একটি নতুন ঘর নির্মাণ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। আল্লাহর রহমতে অল্প সময়ের মধ্যেই সেটি সম্পন্ন করতে পেরেছি।”
নতুন ঘর পেয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন কালো মনি। তিনি বলেন, “জীবনে ভাবিনি আবার ভালো একটা ঘরে থাকতে পারব। আল্লাহ যেন ডালিম বাবাকে ভালো রাখেন, তার মঙ্গল করেন।” কথাগুলো বলতে বলতেই তার চোখে আনন্দের অশ্রু ঝরে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, একজন জনপ্রতিনিধির এমন মানবিক উদ্যোগ অন্যদের জন্যও অনুকরণীয়। সমাজের সামর্থ্যবান মানুষ ও জনপ্রতিনিধিরা এভাবে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ালে অনেক দুঃখী মানুষের জীবন বদলে যেতে পারে।