
দেশজুড়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ মোকাবিলায় বাড়িঘর, অফিস-আদালত, খাল-ডোবা ও আশপাশের অপরিচ্ছন্ন স্থান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে নড়াইলের কালিয়া উপজেলার নড়াগাতী থানার পহরডাঙ্গা ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী মূলশ্রী খাল দীর্ঘদিন ধরে কচুরিপানায় ঢেকে থাকায় মশার উপদ্রব বেড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। এতে খালপাড়ের বাসিন্দাসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মূলশ্রী খালের বিভিন্ন অংশে বিপুল পরিমাণ কচুরিপানা জমে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। এর সঙ্গে খালের পানিতে ময়লা-আবর্জনা জমে তৈরি হয়েছে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ। ফলে সন্ধ্যা নামার পরই বেড়ে যায় মশার উৎপাত। বাড়িঘরের পাশাপাশি স্থানীয় বাজার, রাস্তাঘাট ও বিভিন্ন জনসমাগমস্থলেও মশার উপদ্রব থেকে রেহাই মিলছে না বলে জানান তারা।
এলাকাবাসী বলছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে দেশের বিভিন্ন এলাকায় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন, সামাজিক সংগঠন ও সচেতন মানুষ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। এমন সময়ে মূলশ্রী খালের দীর্ঘদিনের এই পরিস্থিতি স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। দ্রুত কচুরিপানা ও ময়লা-আবর্জনা অপসারণ করে খালটি পরিষ্কার করা না হলে মশার বংশবিস্তার আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা তাদের।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশা সাধারণত জমে থাকা পানিতে বংশবিস্তার করে। তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়ির আশপাশের জমে থাকা পানি অপসারণের পাশাপাশি সম্ভাব্য মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত করে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালানো জরুরি।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, শুধু ব্যক্তিগত পর্যায়ে সচেতনতা সৃষ্টি করলেই হবে না, পরিবেশগত দিক থেকেও খাল, ডোবা ও জলাশয় পরিষ্কার রাখা প্রয়োজন। মূলশ্রী খালের কচুরিপানা অপসারণ, ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার এবং পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
তাদের দাবি, দ্রুত মূলশ্রী খাল পরিদর্শন করে কচুরিপানা ও ময়লা-আবর্জনা অপসারণের ব্যবস্থা করা হোক। পাশাপাশি নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও মশক নিধন অভিযান পরিচালনা করা হলে এলাকার মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ সুরক্ষার স্বার্থে দ্রুত মূলশ্রী খাল পরিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।