
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার উড়াকান্দি ইউনিয়নে ফসলি জমি থেকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। প্রশাসনের নাকের ডগায় দিনের পর দিন এভাবে বালু উত্তোলন চললেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। এতে হুমকির মুখে পড়েছে কৃষিজমি, পরিবেশ ও স্থানীয়দের জীবন-জীবিকা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উড়াকান্দি ঠাকুরবাড়ির উত্তর পাশে কয়েক একর ফসলি জমিতে ড্রেজার বসিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বালু উত্তোলন করছেন টগর শেখ নামে এক ব্যক্তি। শক্তিশালী পাইপের মাধ্যমে মাটি কেটে বালু তুলে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ফসলি জমির বিভিন্ন অংশে মাটি কেটে ড্রেজার মেশিন বসানো হয়েছে। পাইপের মাধ্যমে ভূগর্ভ থেকে বালু তুলে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এতে জমির স্বাভাবিক গঠন নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি আশপাশের জমিও ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।
কৃষকদের দাবি, ড্রেজারের কারণে জমির উর্বরতা কমে যাচ্ছে। একই সঙ্গে জমির আইল ও পাড় ভেঙে পানি ঢুকে ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কৃষক বলেন, বছরের পর বছর আমরা এসব জমিতে চাষাবাদ করি। এখন ড্রেজার দিয়ে মাটি কেটে জমি নষ্ট করে দেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনকে জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাচ্ছি না।
আরেক কৃষক বলেন, রাতের বেলায় বেশি করে বালু তোলা হয়। ড্রেজারের শব্দে ঘুমানো যায় না। জমির পাড় ভেঙে পড়ার আশঙ্কায় আছি।
উড়াকান্দি ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা শংকর কুমার বাড়ৈ বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। কৃষিজমি থেকে এভাবে বালু উত্তোলন আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। একাধিকবার ওই ড্রেজার মেশিনটি বন্ধ করা হয়েছে। জানি না কোন শক্তির বলয়ে আবারও ড্রেজার চালানো হচ্ছে। বিষয়টি দ্রুত উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হবে।
কাশিয়ানী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) পাপিয়া সুলতানা লিজা বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরিবেশবিদদের মতে, ফসলি জমি থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন করলে জমির গঠন ও উর্বরতা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি আশপাশের পরিবেশ ও ভূগর্ভস্থ পানির ভারসাম্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে কৃষি ও জনজীবনে। অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে দ্রুত অভিযান পরিচালনা এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষক ও বাসিন্দারা।
অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগের বিষয়ে টগর শেখের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।