
যশোরের মণিরামপুরে কুয়াদায় মায়ের সঙ্গে এক ব্যক্তির অনাকাঙ্ক্ষিত সম্পর্কের প্রতিবাদ করায় ছেলেসহ একই পরিবারের চার সদস্যকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করার অভিযোগ উঠেছে। গত ২১ অক্টোবর সকালে উপজেলার ভোজগাতী ইউনিয়নের জামজামি গ্রামে এ বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় আহতদের উদ্ধার করে মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর পরই ভুক্তভোগী আব্দুল হক বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখ করে মণিরামপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগপত্র সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী পরিবারের অভিভাবক সুলতান আহমেদ ২০০৯ সালে মারা যান। গত দুই বছর ধরে যশোর শহরের নাজির শংকরপুর এলাকার জাকির হোসেন (৫০) নামে এক ব্যক্তি তাঁদের বাড়িতে নিয়মিত যাতায়াত শুরু করেন। এতে পরিবারের সদস্যরা একাধিকবার আপত্তি জানালেও তিনি যাতায়াত অব্যাহত রাখেন। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পরিবারটির মধ্যে তীব্র মনোমালিন্য চলছিল।
গত ২১ অক্টোবর সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে সুলতান আহমেদের ছেলে হাফিজুর রহমান লিটন (৪৫) তাঁর মায়ের সঙ্গে জাকির হোসেনের যাতায়াতের তীব্র প্রতিবাদ জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে জাকির হোসেনসহ স্থানীয় অলিয়ার রহমান (৩৫), হাসিবুর রহমান (৪০) ও আছিরন নেছা (৬০) সংঘবদ্ধ হয়ে লিটনের ওপর চড়াও হন। একপর্যায়ে লোহার রড দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে লিটনের মাথা, কান ও চোখের ওপর গুরুতর জখম করা হয়।
লিটনকে বাঁচাতে তাঁর চাচা আব্দুল হক (৬৫), চাচাতো ভাই আলমগীর হোসেন (৩৭) ও স্বজন আশিকুর রহমান এগিয়ে এলে তাঁদের ওপরও হামলা চালানো হয়। এতে আলমগীরের কপাল ফেটে গেলে হাসপাতালে তাঁর কপালে তিনটি সেলাই দিতে হয়। এছাড়া আব্দুল হক ও আশিকুর রহমান শরীরের বিভিন্ন স্থানে লোহার রডের আঘাতে মারাত্মক রক্তাক্ত হন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী রিপন হোসেন ও স্থানীয় বাসিন্দা মহিউদ্দিন জানান, স্বচক্ষে আমরা মারামারির ঘটনা দেখেছি এবং থামানোর চেষ্টা করেছি। চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এলে অভিযুক্তরা দেশীয় ধারালো অস্ত্র উঁচিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের পাওয়া যায়নি।
মণিরামপুর থানা পুলিশ জানায়, এ সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অন্যদিকে এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।