
যশোরের কেশবপুরে চাঁদা না পেয়ে জমি দখলের উদ্দেশ্যে দোকানঘরে ভাঙচুর ও মারপিটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মিষ্টি ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেন ও তাঁর ছেলে সালমান আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। এ ছাড়া দোকানঘরে ভাঙচুর চালিয়ে ৭ থেকে ৮ লাখ টাকার ক্ষতি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ওই ব্যবসায়ী।
গত শনিবার (২৫ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার পরচক্রা বাজারে গ্রামবাসীকে সঙ্গে নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন ইসমাইল হোসেন। এ সময় তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ইসমাইল হোসেন বলেন, উপজেলার পরচক্রা গ্রামের মৃত সোনাই মণ্ডলের স্ত্রী মহারানী মণ্ডলের কাছ থেকে তিনি ৮৮ নম্বর পরচক্রা মৌজার ১৪৫২ দাগে ৮ শতক জমি কিনেছেন। জমিটি ১২ লাখ টাকায় কেনার পর সেখানে দুটি দোকানঘর নির্মাণ করে দীর্ঘদিন ধরে মিষ্টির ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, কয়েক মাস আগে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি তাঁর কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করেন। চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকার করায় তাঁকে দোকানঘর থেকে উচ্ছেদের ষড়যন্ত্র শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৭ অক্টোবর জমির অন্য শরিক প্রতাপ মণ্ডল, তপন মণ্ডল, লক্ষণ মণ্ডল, স্বপন মণ্ডল, রুহিদাস মণ্ডল ও অমিত মণ্ডলসহ ২৫ থেকে ৩০ জন ব্যক্তি দোকানঘরে ভাঙচুর চালান এবং তাঁকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ইসমাইল হোসেনের দাবি, এ সময় বাধা দিতে গেলে প্রতাপ মণ্ডল, তপন মণ্ডল, লক্ষণ মণ্ডল, স্বপন মণ্ডল ও অমিত মণ্ডলের নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁর ও তাঁর ছেলে সালমানের ওপর হামলা চালান। এতে তাঁরা গুরুতর আহত হন। ভাঙচুরের ঘটনায় তাঁর প্রায় ৭ থেকে ৮ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ ও আদালতে একাধিক মামলা দায়ের করে হয়রানি করা হচ্ছে বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন ইসমাইল হোসেন। এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে জমি বিক্রেতা মহারানী মণ্ডল বলেন, পৈতৃক সূত্রে তাঁর স্বামীর পাওয়া ৮ শতক জমি তিনি ১২ লাখ টাকায় ইসমাইল হোসেনের কাছে বিক্রি করে দখল বুঝিয়ে দিয়েছেন। জমি নিয়ে বিরোধের জেরে তাঁকেও ভিটাবাড়ি থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা এবং নির্যাতন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকার ইউপি সদস্য দবিরউদ্দীন বিশ্বাস বলেন, জমি কেনার পর থেকে ইসমাইল হোসেন একটি পক্ষের মাধ্যমে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ইসমাইল হোসেন ওই জমির প্রকৃত মালিক।