
যশোরের কেশবপুর উপজেলার পরচক্রা বাজারে দোকানঘর ভাঙচুর, মারধর, মালামাল লুট ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় তপন মণ্ডল নামে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ মামলার অপর ছয় আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সোমবার রাতে মামলার এক নং আসামি তপন মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি পরচক্রা গ্রামের চিত্তরঞ্জন মণ্ডলের ছেলে। মঙ্গলবার তাঁকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় স্থানীয় মিষ্টি ব্যবসায়ী মোঃ ইসমাইল হোসেন (৪৮) কেশবপুর আমলি আদালতে সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। মামলার অন্য আসামিরা হলেন, প্রতাপ মণ্ডল, লক্ষণ মণ্ডল, স্বপন মণ্ডল, রুহি দাস মণ্ডল, অমিত মণ্ডল ও বালই মণ্ডল।
আদালতে দায়ের করা অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ অক্টোবর দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে পরচক্রা বাজারে ইসমাইল হোসেনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগে বলা হয়েছে, আসামিরা সংঘবদ্ধভাবে তাঁর দোকানে প্রবেশ করে তাঁকে মারধর করেন। এ সময় দোকানঘর ভাঙচুর, মালামাল লুট এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। এতে তাঁর প্রায় ৭ থেকে ৮ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৪৩, ৪৪৭, ৩২৩, ৩২৫, ৩২৬, ৩০৭, ৩৭৯, ৪২৭, ৫০৬(২) ও ১১৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
ইসমাইল হোসেন জানান, কেশবপুর উপজেলার বিদ্যানন্দকাটি ইউনিয়নের পরচক্রা গ্রামের মৃত সোনাই মণ্ডলের স্ত্রী মহারানী মণ্ডলের কাছ থেকে ৮৮ নম্বর পরচক্রা মৌজার ১৪৫২ দাগে আট শতক জমি ১২ লাখ টাকায় কিনেছেন তিনি। জমি কেনার পর সেখানে দুটি দোকানঘর নির্মাণ করে দীর্ঘদিন ধরে মিষ্টির ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। গত ১৭ অক্টোবর ৭ জন আসামি সহ ২৫/৩০ জন ব্যক্তি ইসমাইল হোসেনকে দোকান ঘর থেকে উচ্ছেদ করতে ভাঙচুর ও মারপিট করে।
জমি বিক্রেতা মহারানী মণ্ডল জানান, পৈতৃক সূত্রে তাঁর স্বামীর পাওয়া আট শতক জমি তিনি ১২ লাখ টাকায় ইসমাইল হোসেনের কাছে বিক্রি করেছেন এবং জমির দখল বুঝিয়ে দিয়েছেন।
এ বিষয়ে কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ হাফিজুর রহমান জানান, মামলার আসামি তপন মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করে মঙ্গলবার আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার অপর ছয় আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।