
যশোরের কেশবপুর উপজেলার পরচক্রা বাজারে সরকারি জমি দখল করে দোকানঘর নির্মাণ ও দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। বাজারের প্রধান সড়কের পশ্চিম পাশের সরকারি জমি দখলমুক্ত করতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) আবেদন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দখলদার ও জমির মালিকদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। যেকোনো সময় অপ্রীতিকর ঘটনা ও সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পরচক্রা বাজারের প্রধান সড়কের পশ্চিম পাশে সরকারি জমি দখল করে দীর্ঘ প্রায় তিন দশক ধরে বিভিন্ন ব্যক্তি দোকানঘর নির্মাণ করে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। সেখানে মাছ, চা, পান, মুদি, সবজি, কাপড়, কীটনাশক, ইট-বালু-সিমেন্টসহ বিভিন্ন পণ্যের ব্যবসা চলছে। এ ছাড়া কম্পিউটার দোকান, মোটরগ্যারেজসহ নানা ধরনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, এভাবে সরকারি জমি দখল করে দোকানঘর নির্মাণ করায় সড়কসংলগ্ন ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির মালিকেরা সমস্যায় পড়েছেন। তাঁদের জমির সামনে দোকানঘর থাকায় জমি ব্যবহার ও উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এ পরিস্থিতি চলতে থাকায় ক্ষোভ বাড়ছে স্থানীয় জমির মালিকদের মধ্যে।
এ পরিস্থিতিতে সরকারি জমি অবৈধ দখলমুক্ত করার দাবিতে গত বৃহস্পতিবার এলাকাবাসীর পক্ষে ইসমাইল হোসেনসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তির স্বাক্ষরিত একটি আবেদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। আবেদনকারীরা সরকারি জমির প্রকৃত সীমানা নির্ধারণ করে অবৈধ স্থাপনা থাকলে তা উচ্ছেদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বাজারের বিভিন্ন স্থানে সরকারি জমি দখল করে অসংখ্য দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। তবে এসব স্থাপনার মালিকানা, জমির প্রকৃত সীমানা এবং দখলের বৈধতা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
পরচক্রা বাজার কমিটির সভাপতি আবু সাঈদ বলেন, অনেকেই সরকারি জায়গা দখল করে ঘর নির্মাণ করে ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করছেন। এখন এসব জায়গা থেকে স্থাপনা উচ্ছেদ করা হলে বাজারের সৌন্দর্য নষ্ট হবে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য দবির উদ্দিন বিশ্বাস বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এলাকার প্রভাবশালীরা রাস্তার পাশের সরকারি জমি দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে রাস্তার পাশে থাকা ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির মালিকেরা সমস্যায় পড়েছেন। তাঁদের জমির সামনে দোকানঘর থাকায় জমিগুলো ব্যবহার করা যাচ্ছে না। এ নিয়ে যেকোনো সময় দখলদার ও জমির মালিকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।
এ বিষয়ে কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সরকারি জমির সঠিক সীমানা নির্ধারণ করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অবস্থা যাচাই করা হবে। পাশাপাশি সরকারি জমি দখলের অভিযোগের নিষ্পত্তি ও বাজারে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।