
খুলনা-নড়াইল জেলার সীমান্তবর্তী ও দীর্ঘদিন ধরে অপরাধ কর্মকাণ্ডে আলোচিত গাজীরহাট বাজারে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্ব বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন নড়াইল-১ আসনের সংসদ সদস্য বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে গাজীরহাট বাজারে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ও সন্ত্রাস-চাঁদাবাজি প্রতিরোধে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এ ঘোষণা দেন।
নড়াইল জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আল-মামুন শিকদারের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান বক্তা ছিলেন সংসদ সদস্য বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম। বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমান।
সভায় খুলনা জেলা পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুক, খুলনা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এ সার্কেল) সাইফুল ইসলাম, নড়াইল জেলার সহকারী পুলিশ সুপার (এ সার্কেল) রবিন হালদার, দিঘলিয়া থানার ওসি হাওলাদার সানোয়ার হোসেন মাসুম এবং কালিয়া থানার ওসি মো. ইদ্রিস আলী বক্তব্য দেন।
এ ছাড়া সভায় কালিয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক স. ম. ওয়াহিদুজ্জামান মিলু, দিঘলিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুর রহমান মিন্টু, কালিয়া পৌর বিএনপির সভাপতি শেখ সেলিম হোসেনসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান বক্তার বক্তব্যে সংসদ সদস্য বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “গাজীরহাট বাজারে কোনো সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজের স্থান হবে না।” ব্যবসায়ীরা যাতে নির্বিঘ্নে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন, সে জন্য বাজারে একটি পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের তথ্য সংগ্রহে বাজারে একটি অভিযোগ বক্স স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী গাজীরহাট ও হামিদপুর ইউনিয়নের যুবসমাজের মধ্যে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বাড়াতে একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গাজীরহাট বাজারে দ্রুত একটি পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
খুলনা জেলা পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুক বলেন, এলাকার শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে সবাইকে মারামারি, হিংসা-বিদ্বেষ, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্ব থেকে বিরত থাকতে হবে। অন্যথায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেবে।
সভায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ বাজারে স্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের ঘোষণাকে স্বাগত জানান। তাঁদের প্রত্যাশা, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে গাজীরহাট এলাকায় দীর্ঘদিনের সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ আরও স্বাভাবিক হবে।