
স্বাস্থ্যঝুঁকি, অপর্যাপ্ত স্যানিটেশন, অপরিকল্পিত পয়োনিষ্কাশন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ নানা সংকটে পড়েছেন যশোরের ঝিকরগাছা পৌরবাসী। পৌর এলাকার বিভিন্ন ড্রেনে মলমূত্রমিশ্রিত পানি প্রবাহিত হওয়া, নিয়মিত পরিষ্কারের অভাবে ড্রেন ভরাট, সড়কে পর্যাপ্ত আলোর অভাব এবং বেওয়ারিশ কুকুরের উৎপাত নাগরিক দুর্ভোগ বাড়াচ্ছে। এসব সমস্যা সমাধানে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের।
পৌরবাসীর অভিযোগ, শহর ও শহরতলির অধিকাংশ আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন এবং সুপারমার্কেটের শৌচাগারের মলমূত্রমিশ্রিত পানি পৌরসভার ড্রেনেজ ব্যবস্থায় যুক্ত করা হচ্ছে। এতে ড্রেন থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। পর্যাপ্ত স্যানিটেশন ব্যবস্থা এবং পরিকল্পিত পয়োনিষ্কাশনব্যবস্থা না থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, নিয়মিত পরিষ্কার না করায় পৌরসভার অনেক ড্রেন ভরাট হয়ে গেছে। কোনো কোনো এলাকায় ড্রেনেজ ব্যবস্থা অত্যন্ত নাজুক। আবার কোথাও ড্রেনের ঢাকনা না থাকায় উন্মুক্ত অবস্থায় রয়েছে, যা পথচারীদের জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ। পৌরসভার নির্মিত গণশৌচাগারগুলোর ধারণক্ষমতার তুলনায় ব্যবহারকারীর চাপ বেশি হওয়ায় অল্প সময়েই সেপটিক ট্যাংক ভরে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে বর্জ্যমিশ্রিত অতিরিক্ত পানি সরাসরি ড্রেনে গিয়ে পড়ছে।
এ ছাড়া কিছু ভবনমালিক আর্থিক সাশ্রয়ের জন্য পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সহযোগিতায় সেপটিক ট্যাংকের সঙ্গে ড্রেনের সংযোগ স্থাপন করেছেন বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পৌর এলাকার পাশাপাশি উপজেলার প্রশাসনিক এলাকা ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এবং গলিতে পর্যাপ্ত সড়কবাতি নেই বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে সন্ধ্যার পর কোনো কোনো এলাকায় অন্ধকারাচ্ছন্ন পরিবেশ তৈরি হয়। ফলে বাসিন্দাদের চলাচল ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
ঝিকরগাছা পৌর এলাকায় বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা ও উৎপাত বেড়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। সম্প্রতি এসব কুকুরের একাধিক আক্রমণের ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গেছে। এতে জনমনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে পৌর কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, উচ্চ আদালতের আদেশ ও প্রচলিত আইনের বাধ্যবাধকতার কারণে বেওয়ারিশ কুকুর নিধন সম্ভব নয়। ফলে কুকুরের সংখ্যা ও উৎপাত নিয়ন্ত্রণে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
পৌরসভার বিভিন্ন উন্নয়নকাজ সম্পন্ন হলেও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিল পরিশোধে বিলম্ব হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কর্তৃপক্ষের মতে, পৌর প্রকৌশলী না থাকায় বিল ছাড়ের প্রক্রিয়ায় জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। তবে দ্রুত এ সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন পৌর প্রশাসক শপথ বৈরাগী।
এদিকে চলতি অর্থবছরের শুরুতে পৌরসভার কয়েকটি সড়ক, কালভার্ট, ড্রেন ও অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ করা হলেও সংশ্লিষ্ট কয়েকটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিল আটকে থাকায় অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, পৌর প্রকৌশলী না থাকায় বিল ছাড়ের ক্ষেত্রে বিলম্ব ও জটিলতা তৈরি হয়েছে। পৌর প্রশাসক ও সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী কমিশনার (ভূমি) শপথ বৈরাগী জানিয়েছেন, এ বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পৌরবাসীর প্রত্যাশা, স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে পরিকল্পিত পয়োনিষ্কাশন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালু, ড্রেন নিয়মিত পরিষ্কার, পর্যাপ্ত সড়কবাতি স্থাপন এবং বেওয়ারিশ কুকুর নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে চলমান উন্নয়নকাজের বিলসংক্রান্ত জটিলতা নিরসন করে পৌরসভার নাগরিক সেবার মান বাড়ানো হবে।