
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিনিয়র স্টাফ নার্স মুফিদা আক্তারকে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। রোগীর স্বজনের কাছ থেকে ইনজেকশন দেওয়ার জন্য অর্থ দাবি এবং রোগীকে হয়রানির অভিযোগের প্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আসাদুজ্জামান ভূঁইয়ার স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
অফিস আদেশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ জুন রাত আনুমানিক ৮টার দিকে হাসপাতালে ভর্তি এক রোগীকে ইনজেকশন দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট নার্স রোগীর স্বজনের কাছে ২০০ টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ ওঠে। রোগীর স্বজন টাকা না থাকার কথা জানালে পরে টাকা নিয়ে আসতে বলার পাশাপাশি তার সঙ্গে অশোভন আচরণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বিষয়টি স্বাস্থ্য বিভাগের নজরে আসে। পরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা এবং হাসপাতালের ভাবমূর্তি রক্ষার স্বার্থে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত মোছা. মুফিদা আক্তারকে দায়িত্ব থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়। অফিস আদেশে আরও উল্লেখ করা হয়, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করা হবে।
এদিকে পৃথক এক কৈফিয়ত তলব নোটিশে সংশ্লিষ্ট নার্সকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নোটিশে বলা হয়, সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে রোগীর কাছ থেকে অর্থ দাবি এবং কর্মস্থলে শৃঙ্খলাবিরোধী আচরণের মাধ্যমে কর্মপরিবেশ ব্যাহত করার অভিযোগ উঠেছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর অভিযোগের সত্যতা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।