
দেশের তরুণদের কর্মসংস্থান নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, এমন একটি অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে, যেখানে চাকরির জন্য দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হবে না; বরং তরুণরা নিজেরাই কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে সক্ষম হবে। সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে সরে এসে উৎপাদন ও বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে। দেশীয় শিল্পের বিকাশ, বন্ধ ও রুগ্ন শিল্পকারখানার পুনরুজ্জীবন এবং নতুন শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ করা হবে। সরকারের লক্ষ্য রপ্তানিমুখী ও উদ্ভাবননির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলা, যাতে তরুণরা শুধু চাকরিপ্রার্থী না হয়ে উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারে।
দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতের ভুল নীতি, অব্যবস্থাপনা ও অর্থ পাচারের কারণে অর্থনীতি চাপে পড়ে। উৎপাদন ও বিনিয়োগ স্থবির হয়ে যায় এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও সংকট সৃষ্টি হয়। সরকার এই বাস্তবতাকে অস্বীকার করছে না, তবে এটিকে কোনো অজুহাত হিসেবেও ব্যবহার করবে না। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কার্যকর নীতি গ্রহণের মাধ্যমে অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, এবারের বাজেট শুধু আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়; এটি দেশের অর্থনীতিকে নতুন ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর একটি রূপরেখা। উন্নয়ন ব্যয় বাড়িয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং উৎপাদন বৃদ্ধিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রকৃত উন্নয়ন তখনই অর্থবহ হবে, যখন সাধারণ মানুষের জীবনে স্বস্তি ফিরবে এবং তরুণরা তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী কাজের সুযোগ পাবে।
অর্থনৈতিক কৌশল বাস্তবায়নে তিন ধাপের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, প্রথম ধাপে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে। দ্বিতীয় ধাপে রাজস্ব ব্যবস্থার সংস্কার ও ব্যাংকিং খাত পুনর্গঠন করা হবে। আর তৃতীয় ধাপে উৎপাদনশীল ও প্রতিযোগিতামূলক অর্থনীতির ভিত্তি আরও শক্তিশালী করা হবে।