
গাইবান্ধায় যুগ পুরুষোত্তম ভগবান শ্রীরামচন্দ্রের প্রতিকৃতির অবমাননা এবং দেশব্যাপী সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উপাসনালয় ও মন্দির ভাঙার হুমকির প্রতিবাদে সুনামগঞ্জে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকালে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ সুনামগঞ্জ জেলা শাখা এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে শহরের আলফাত উদ্দিন স্কয়ার ট্রাফিক পয়েন্টে এ মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে অংশ নেয় কৃষ্ণ অনুরাগী জাগ্রত যুব সংঘ, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, ব্রাহ্মণ সংসদ, সনাতনী যুব সংঘসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা। ব্যানার-ফেস্টুন হাতে নিয়ে অংশগ্রহণকারীরা ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষার আহ্বান জানান এবং প্রতিবাদী স্লোগান দেন।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট বিমান কান্তি রায়ের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক বিমল বণিকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। একটি কুচক্রী মহল পরিকল্পিতভাবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে এবং দেব-দেবীর অবমাননার মাধ্যমে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
বক্তারা গাইবান্ধাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মন্দির ভাঙার হুমকির নিন্দা জানিয়ে বলেন, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সম্প্রীতির বিরুদ্ধে যেকোনো অপচেষ্টা প্রতিহত করতে হবে। তারা অবিলম্বে জড়িতদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন ব্রাহ্মণ সংসদের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সুবিমল চক্রবর্তী চন্দন, জেলা সভাপতি নারায়ণ চক্রবর্তী, সহ-সভাপতি অমিত ভট্টাচার্য, সহ-সাধারণ সম্পাদক অমর চক্রবর্তী, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের প্রচার সম্পাদক বিপ্লব কান্তি তালুকদার, লোকনাথ সেবা সংঘের সভাপতি মতিলাল চন্দ, কৃষ্ণ অনুরাগী জাগ্রত যুব সংঘের সভাপতি হিমাদ্রি রায় প্রাপ্ত, সৎসঙ্গের সভাপতি অ্যাডভোকেট কুশল রাজ পাল, রিংকু চৌধুরী, মহিতুষ চৌধুরী ও লিপন বৈদ্যসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ধর্মীয় অবমাননা ও উপাসনালয়ের ওপর হামলার ঘটনায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে সনাতনী সমাজ বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবে।