
নড়াইল সদর উপজেলার গন্ধর্ব্যখালী এলাকায় চিত্রা নদীর ভাঙন রোধ ও নদীগর্ভে বিলীন হওয়া পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী। মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে গন্ধর্ব্যখালী এলাকায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে স্থানীয়রা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে গন্ধর্ব্যখালী এলাকায় চিত্রা নদীর ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। এরই মধ্যে শতাধিক বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের কারণে অনেক পরিবার ঘরবাড়ি ও জমিজমা হারিয়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছে। পাশাপাশি আবাদি জমি, গাছপালা ও অন্যান্য সম্পদও নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা লুৎফর সিকদার বলেন, গন্ধর্ব্যখালী দক্ষিণপাড়া পাম্প হাউজ থেকে পুরাতন ঈদগাহ পর্যন্ত এলাকায় ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। কবরস্থান, বসতভিটা ও বিভিন্ন স্থাপনা ইতোমধ্যে নদীগর্ভে চলে গেছে। অনেক পরিবার তাদের শেষ সম্বলটুকুও হারিয়েছে।
তিনি জানান, নদীভাঙনে সিহাব মোল্যা, সিরাজ মোল্যা, ছত্তার কাজী, আব্দুর রহমান, আয়শা, আছুপ সেখ, সেলিম ফকির, হামিদ মোল্যা, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নান মোল্যা, আবু সাইদ, লুৎফর সিকদার, আহসান হাবীব, মিজানুর মোল্যা, আব্বাস, সেকন, অরবিন্দ সাহা, আনন্দ সাহা ও দেলোয়ার সরদারসহ অনেক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বক্তারা বলেন, প্রতিদিনই কোনো না কোনো পরিবার নদীভাঙনের ঝুঁকিতে পড়ছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে আগামীতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।
মানববন্ধন থেকে ভাঙনপ্রবণ এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে নদীর তীর সংরক্ষণ, জিওব্যাগ ফেলা এবং প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি নদীগর্ভে বিলীন হওয়া পরিবারগুলোর তালিকা তৈরি করে তাদের পুনর্বাসন ও আর্থিক সহায়তার দাবিও জানান ভুক্তভোগীরা।
এ সময় এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তাদের দাবি, স্থায়ীভাবে চিত্রা নদীর ভাঙন রোধে উদ্যোগ নেওয়া না হলে গন্ধর্ব্যখালী এলাকায় আরও বহু বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।