
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার ফুলবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ছুরিকাঘাতে এক ব্যবসায়ীসহ দুজন আহত হওয়ার ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, অস্ত্র প্রদর্শন ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার পর ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর একটি অংশ অভিযুক্তের বাড়িতে হামলার উদ্দেশ্যে এগিয়ে গেলে এলাকায় সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা দেয়।
মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ফুলবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন ব্যবসায়ী আবুল হোসেন ও সরকারি কর্মকর্তা দিদার। তবে তাঁদের আঘাতের ধরন ও বর্তমান শারীরিক অবস্থা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উত্তর শেরপুর এলাকার হোসেন মিয়ার ছেলে দুঃখু মিয়া দীর্ঘদিন ধরে ফুলবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত। তাঁর বিরুদ্ধে অস্ত্র নিয়ে চলাফেরা, দা-ছুরি দিয়ে হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও লুটতরাজের অভিযোগ রয়েছে। এমনকি বাসস্ট্যান্ডের পাহারাদার নাহিদকেও অস্ত্র দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে বলে দাবি তাঁদের।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, এর আগে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হলেও কারাভোগের পর জামিনে মুক্ত হয়ে আবারও এলাকায় অশান্তি সৃষ্টি করেন তিনি। তবে এসব অভিযোগ ও তাঁর বিরুদ্ধে পূর্ববর্তী মামলার তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ছুরিকাঘাতের ঘটনার পর স্থানীয়রা অভিযুক্তকে ধাওয়া করলেও আটক করতে পারেননি। এদিকে ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা বাড়তে থাকে। স্থানীয়দের একাংশ মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে সতর্ক হন এবং নিজেদের নিরাপত্তায় লাঠিসোঁটা নিয়ে অবস্থান নেন।
রাত সোয়া ১১টার দিকে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। স্থানীয়দের দাবি, ক্ষুব্ধ একদল বাসিন্দা লাঠিসোঁটা নিয়ে অভিযুক্তের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের উদ্দেশ্যে রওনা হন। এতে এলাকায় সংঘর্ষ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এ অবস্থায় সম্ভাব্য সংঘর্ষ ঠেকাতে দ্রুত পুলিশি হস্তক্ষেপ, আহতদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
ঘটনার বিষয়ে পুলিশ প্রশাসনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পরবর্তী পরিস্থিতি ও প্রশাসনের পদক্ষেপ জানা গেলে সংবাদটি হালনাগাদ করা হবে।