
মানুষের জীবনে আনন্দের সময় আসে, আসে দুঃখ-কষ্টও। আনন্দের দিনে পাশে থাকার মানুষ অনেক পাওয়া যায়, কিন্তু দুঃসময়ে হাত বাড়িয়ে দেওয়ার মানুষই হয়ে ওঠেন সত্যিকারের আপনজন। তেমনই এক মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন যশোর সদর উপজেলার ১১ নম্বর রামনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মাসুদুর রহমান শামীম।
রামনগর ইউনিয়নের কামালপুর গ্রামের ছোটবেলার এক বন্ধুর ছেলে ক্যান্সারে আক্রান্ত—খবরটি শোনার পর থেমে থাকেননি শামীম। অসুস্থ শিশুটির চিকিৎসার কথা চিন্তা করে তিনি পুরোনো বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। একে একে একত্রিত করেন বাল্যবন্ধুদের। উদ্দেশ্য একটাই—বন্ধুর অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং শিশুটির চিকিৎসায় সামান্য হলেও সহযোগিতা করা।
শামীমের আহ্বানে সাড়া দিয়ে বন্ধুরাও এগিয়ে আসেন। যার যতটুকু সামর্থ্য, তা নিয়েই পাশে দাঁড়ান সবাই। এভাবেই সম্মিলিতভাবে সংগ্রহ করা হয় ৫০ হাজার টাকা। পরে সেই অর্থ অসুস্থ শিশুটির চিকিৎসার জন্য প্রদান করা হয়।
মাসুদুর রহমান শামীম বলেন, কামালপুর গ্রামে আমাদের এক বাল্যবন্ধুর সন্তান ক্যান্সারে আক্রান্ত। তার চিকিৎসার্থে আমরা বন্ধুমহলের উদ্যোগে নগদ ৫০ হাজার টাকা প্রদান করেছি। আমরা চাই, আমাদের সন্তান সুস্থ হয়ে আমাদের মাঝে ফিরে আসুক।
এই উদ্যোগে হয়তো ৫০ হাজার টাকা খুব বড় কোনো অঙ্ক নয়। কিন্তু একজন অসহায় শিশুর চিকিৎসার সময়ে কয়েকজন বন্ধুর এক হয়ে দাঁড়ানোর যে মানসিকতা—তার মূল্য অনেক বেশি। বিপদের মুহূর্তে বন্ধুর পাশে দাঁড়ানোর মধ্য দিয়েই যেন আবারও প্রমাণ হলো, সময় পেরিয়ে গেলেও প্রকৃত বন্ধুত্বের বন্ধন কখনো পুরোনো হয় না।
শৈশবের সেই বন্ধুত্ব আজও তাদের হৃদয়ে অটুট। তাই বন্ধুর সন্তানের অসুস্থতার খবর তাদের সবাইকে এক করেছে। আনন্দের স্মৃতি ভাগ করে নেওয়া সেই বন্ধুরাই এবার ভাগ করে নিলেন দুঃসময়ের ভারও। শামীমের এই উদ্যোগ এবং তাঁর বন্ধুদের সম্মিলিত মানবিক সহযোগিতা প্রশংসা কুড়িয়েছে। কারণ এখানে মূল বিষয় অর্থের পরিমাণ নয়; মূল বিষয় হলো বিপদের সময়ে একজন মানুষের জন্য সবাই মিলে পাশে দাঁড়ানোর সাহস ও আন্তরিকতা।
বন্ধুত্বের সবচেয়ে সুন্দর সংজ্ঞা হয়তো এটাই—আনন্দের দিনে হাততালি দেওয়া নয়, বরং কান্নার দিনে কাঁধে হাত রাখা। এ সময় বন্ধুমহলের একাংশ উপস্থিত ছিলেন।