
চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হচ্ছে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই)। দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত এ পরীক্ষায় নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে অংশ নিচ্ছেন ১২ লাখ ৬৭ হাজার ৪৮৬ জন পরীক্ষার্থী। রসারা দেশের ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে একযোগে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত পরীক্ষা চলবে। তবে পরীক্ষার্থীদের অবশ্যই পরীক্ষা শুরুর অন্তত ৩০ মিনিট আগে নির্ধারিত কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে।
এ বছর সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার্থী ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে। এ বোর্ডের ৩১০টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নেবেন ৩ লাখ ৩৯৩ জন শিক্ষার্থী। এ ছাড়া রাজশাহী বোর্ডের ২০৮টি কেন্দ্রে ১ লাখ ৪০ হাজার ৮৩০ জন, দিনাজপুর বোর্ডের ২১২টি কেন্দ্রে ১ লাখ ১৩ হাজার ৪৭৯ জন, যশোর বোর্ডের ২৪০টি কেন্দ্রে ১ লাখ ১৭ হাজার ২১০ জন, চট্টগ্রাম বোর্ডের ১১৪টি কেন্দ্রে ৯৯ হাজার ৬৮৮ জন, কুমিল্লা বোর্ডের ১৯৩টি কেন্দ্রে ৯৪ হাজার ৮০২ জন, সিলেট বোর্ডের ৯৬টি কেন্দ্রে ৭১ হাজার ৭১১ জন, ময়মনসিংহ বোর্ডের ১১১টি কেন্দ্রে ৭৩ হাজার ৩৭ জন এবং বরিশাল বোর্ডের ১৪২টি কেন্দ্রে ৫৮ হাজার ৬৬৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেবেন।
বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৪৬১টি কেন্দ্রে ৯২ হাজার ৯০৫ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ৬১০টি কেন্দ্রে ১ লাখ ৭ হাজার ৯৬৪ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেবেন। পরীক্ষা সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নকলমুক্ত পরিবেশে আয়োজনের লক্ষ্যে শিক্ষা বোর্ডগুলো কেন্দ্র পরিচালনা, প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা, কক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারিসহ বিভিন্ন বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে।
প্রতিটি পরীক্ষার কক্ষে প্রতি ২০ জন পরীক্ষার্থীর জন্য একজন করে কক্ষ পরিদর্শক দায়িত্ব পালন করবেন। কোনো কক্ষে দুইজনের কম পরিদর্শক রাখা যাবে না। বসার ক্ষেত্রেও নির্ধারিত মানদণ্ড অনুসরণ করতে হবে। পরীক্ষার্থীরা সকাল সাড়ে ৮টা থেকে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন। তবে পরীক্ষা শুরুর কমপক্ষে ৩০ মিনিট আগে সবাইকে নিজ নিজ কক্ষে অবস্থান নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ পরিস্থিতিতে বিলম্বে আসা শিক্ষার্থীদের তথ্য রেজিস্টারে সংরক্ষণ করে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া যাবে।
পরীক্ষা শুরুর তিন দিন আগে ট্রেজারি বা থানা লকারে সংরক্ষিত প্রশ্নপত্র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে যাচাই করতে হবে। পরীক্ষার দিন ট্যাগ অফিসার ও পুলিশের প্রহরায় প্রশ্নপত্র কেন্দ্রে পৌঁছানো হবে। মোবাইলের মাধ্যমে নির্ধারিত সেট কোড পাওয়ার পরই প্রশ্নপত্র খোলা যাবে। নির্ধারিত সেটের বাইরে পরীক্ষা নেওয়া হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এবার সব পরীক্ষা কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা চালু রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ক্যামেরার আইডি, পাসওয়ার্ড, ব্র্যান্ড, ডিভাইসের সিরিয়াল নম্বর এবং ডিভিআর/এনভিআর সংযোগসংক্রান্ত তথ্য শিক্ষা বোর্ডে জমা দিতে হবে। সার্বক্ষণিক ইন্টারনেট সংযোগের মাধ্যমে কেন্দ্রগুলোর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হবে। কোনো কেন্দ্রে সিসিটিভি অকার্যকর থাকলে বা নিরাপত্তা ব্যবস্থায় শৈথিল্য দেখা দিলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছাড়া অন্য কেউ মোবাইল ফোন বা কোনো ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন না। পরীক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও কাঁটাযুক্ত সাধারণ হাতঘড়ি ছাড়া অন্য কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস বহন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এইচএসসি পরীক্ষা উপলক্ষে সার্বিক সমন্বয় ও জরুরি যোগাযোগের জন্য ঢাকা শিক্ষা বোর্ড বিশেষ কন্ট্রোল রুম চালু করেছে। পরীক্ষার্থীদের নির্ধারিত সময়ের আগেই কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে বোর্ডের সব নির্দেশনা মেনে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে শিক্ষা কর্তৃপক্ষ।