
দর্শকে কানায় কানায় পূর্ণ মাঠ, দুই দলের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই আর শেষ মুহূর্তের উত্তেজনা। নির্ধারিত ৫০ মিনিটের খেলা ১-১ গোলে ড্র হওয়ার পর টাইব্রেকারে নিউজিল্যান্ড প্রবাসী একাদশকে হারিয়ে আরাফাত রহমান স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬-এর চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বেনাপোল সি অ্যান্ড এফ স্টাফ অ্যাসোসিয়েশন।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টায় শার্শার কাগজপুকুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হয় টুর্নামেন্টের বহুল প্রতীক্ষিত ফাইনাল। ১৬টি দলের অংশগ্রহণে আয়োজিত প্রতিযোগিতার শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হয় নিউজিল্যান্ড প্রবাসী একাদশ ও বেনাপোল সি অ্যান্ড এফ স্টাফ অ্যাসোসিয়েশন।
৫০ মিনিটের নির্ধারিত খেলায় দুই দলই একটি করে গোল করে। ফলে ১-১ গোলে সমতায় শেষ হয় ম্যাচ। পরে টাইব্রেকারে নিউজিল্যান্ড প্রবাসী দলকে পরাজিত করে শিরোপা নিজেদের করে নেয় বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ স্টাফ অ্যাসোসিয়েশন। ফাইনালের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দুই দলের আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে মাঠজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে উত্তেজনা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শার্শা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ নুরুজ্জামান লিটন। তিনি বলেন, মরহুম আরাফাত রহমান কোকো ছিলেন একজন ক্রীড়াপ্রেমী মানুষ। তাঁর স্মৃতিকে সম্মান জানিয়ে এমন ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজন অত্যন্ত প্রশংসনীয়। মহান আল্লাহ তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন।
তিনি আরও বলেন, কাগজপুকুর মাঠে হাজার হাজার দর্শকের উপস্থিতি প্রমাণ করে, এ অঞ্চলের মানুষের মধ্যে খেলাধুলার প্রতি ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। ভবিষ্যতে এ মাঠে আরও সুন্দর ও বড় পরিসরে ফুটবল খেলার আয়োজন হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেনাপোল পোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ শহীদ তিতুমীর।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন বেনাপোল পৌর বিএনপির সভাপতি নাজিম উদ্দিন, বেনাপোল সি অ্যান্ড এফের সাবেক সভাপতি মফিজুর রহমান সজন, সাংগঠনিক সম্পাদক আখতারুজ্জামান, শার্শা উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি আমিরুল ইসলাম, কাগজপুকুর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ইয়াকুব আলী, সাবেক প্রধান শিক্ষক আব্দুল মান্নান, বেনাপোল পৌর যুবদলের আহ্বায়ক মফিজুর রহমান বাবু, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব ওমর ফারুক, শার্শা উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম চয়ন এবং বেনাপোল পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আরিফসহ স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক ও ক্রীড়া সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
টুর্নামেন্টের ফাইনালকে কেন্দ্র করে কাগজপুকুর এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বিকেল থেকেই মাঠে দর্শকদের ভিড় বাড়তে থাকে। কানায় কানায় পূর্ণ মাঠে দুই দলের সমর্থকেরা নিজ নিজ দলকে উৎসাহ দেন। ফাইনালের শ্বাসরুদ্ধকর লড়াই শেষে টাইব্রেকারে জয় পেয়ে চ্যাম্পিয়ন দলের খেলোয়াড় ও সমর্থকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে আনন্দ-উচ্ছ্বাস।
স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীরা বলেন, এমন আয়োজন তরুণদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করার পাশাপাশি এলাকার ক্রীড়াঙ্গনকে আরও প্রাণবন্ত করবে। আয়োজকদের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তাঁরা ভবিষ্যতেও এ ধরনের টুর্নামেন্ট আয়োজনের প্রত্যাশা করেন।