
যশোরের মণিরামপুর উপজেলা আনসার গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর কর্মকর্তা আব্দুর রউফে'র (পি.ভি.এম) বিরুদ্ধে অন্তহীন দুর্নীতির পাহাড় সমান অভিযোগের সত্যতা ও দৈনিক যশোর দর্পণ ডটকমসহ বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় তার বিরুদ্ধে বাস্তবিক অসংগতি সহকারে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি আমলে নিয়ে শাস্তি হিসেবে আব্দুর রউফ'কে খাগড়াছড়ি জেলার দিঘীনালা উপজেলায় বদলি করা হয়েছে।
যশোর দর্পণ ডটকমসহ কয়েকটি পত্রিকায় তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তোলা হয়েছে মর্মে স্থানীয় একটি মহলের সহযোগিতায় দৈনিক প্রজন্ম একাত্তর পত্রিকায় মঙ্গলবার (৬ই অক্টোবর) একটি প্রতিবাদ দিয়ে উপজেলা প্রশাসন ও জেলা আনসার কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে এখনো বীরদর্পে তার আগ্রাসন চালিয়ে যাচ্ছিলো আঃ রউফ।
পরবর্তীতে ঐ মিথ্যা ভিত্তিহীন প্রতিবাদ উল্লেখ করে দৈনিক যশোর দর্পণ ডটকমে পুনরায় সংবাদ প্রকাশ হলে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক বিশেষ নোটিশে বদলির এ আদেশ জারি করেন।
সোমবার (১২ই অক্টোবর) আব্দুর রউফ দুপুর ২টা নাগাত মণিরামপুর উপজেলা কার্যালয় ত্যাগ করেছেন বলে তথ্য নিশ্চিত করেছে মণিরামপুর উপজেলা আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর কার্যালয়ের রাজীব হোসেন।
উল্লেখ্য, রাষ্ট্রীয় সম্মানের স্বর্ণ পদক দিতে অর্থ আত্মসাৎ করা এই ধরণের জালিয়াতি ও অসদুপায় অবলম্বন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর গৌরবময় ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ণ করেছে বলে সমস্ত অসংগতি ও অভিযোগ শতভাগ নির্ভুল থাকা সত্বেও আঃ রউফ বহালে থাকাটা বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর শৃঙ্খলা, সততা এবং ভাবমূর্তিকে চরমভাবে ক্ষুণ্ণ করেছে এবং তাঁর এই রূপ কাজে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে প্রতারণা এবং গুরুদণ্ডযোগ্য অপরাধ।
একই সাথে মাঠপর্যায়ের সৎ, যোগ্য এবং প্রকৃত পরিশ্রমী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অধিকার ও মনোবল খর্ব করা রাষ্ট্রদ্রহী অপরাাধের সমতূল বলে মনে করছেন একাধিক আনসার সদস্য। হেলাঞ্চী-কৃষ্ণবাটী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রশিক্ষণার্থী প্রত্যেকের নিকট থেকে মাথা প্রতি ৬৪ জনের কাছ থেকে ১০০০-১২০০ টাকা নেওয়া, প্রতিদিনের নাস্তার খরচ বাবদ জন প্রতি ৬৫ টাকা বরাদ্দ থাকলেও মাত্র ১৫ টাকা (১টি কলা, ১প্যাকেট কেক, ১টি সিংগাড়া) নাস্তা খরচ করা, আসন্ন দূর্গাপূজা উপলক্ষে পূজার ডিউটির জন্য প্রত্যেকের নিকট ১০০০ টাকা করে দাবি করা হয়।
বিশ্বস্ত তথ্যসূত্র বলছে, খেদাপাড়া ইউনিয়নের ১০দিনের ঐ প্রশিক্ষন ক্যাম্পে ৬৪ জন সদস্য মণিরামপুর উপজেলার নাগরিকের বাধ্যতামূলক থাকলেও নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার ইমা খনাম নামে এক সুন্দরী নারীর নাম প্রশিক্ষনার্থীদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিলো। যার সত্যতা ইমা খানম নিজেই স্বীকার করে।
এ বিষয়ে জানতে মণিরামপুর উপজেলা আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর কার্যালয়ে গেলে আব্দুর রউফের কক্ষে তালাবদ্ধ দেখে জানতে চাইলে রাজীব হোসেন জানান, বদলি হয়েছে তিনি চলেও গেছেন। কিন্তু এখন আমি নোটিশের কপি আপনাদের দিতে পারছিনা।