
মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, যশোর অঞ্চলের মুজিব বাহিনীর প্রধান এবং প্রবীণ রাজনীতিক বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী হোসেন মনি আর নেই। শুক্রবার (১২ জুন) সকালে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছরের বেশি।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে তিনি হৃদরোগ, কিডনি জটিলতা, শ্বাসকষ্টসহ বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন। তাঁর সহধর্মিণী ও একমাত্র ছেলে রাজেন আলী রাজু আগেই মারা গেছেন। বর্তমানে তাঁর একমাত্র মেয়ে কানাডাপ্রবাসী ফারজানা আলী দেশে এসে বাবার চিকিৎসার দেখভাল করছিলেন। গত ১২ মে শহরের রেলবাজার এলাকার নিজ বাসভবনে অসুস্থ হয়ে পড়লে আলী হোসেন মনিকে যশোর জেনারেল হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে ভর্তি করা হয়। দুই দিন পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে রাজধানীর ধানমন্ডির একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসা শেষে তাঁকে আবার যশোরে ফিরিয়ে আনা হয়।
সর্বশেষ গত সোমবার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে পুনরায় যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার আরও অবনতি ঘটলে মঙ্গলবার রাতে তাঁকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সকালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যুতে যশোরের রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শুক্রবার বাদ আসর যশোর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে তাঁর নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে সদর উপজেলার কাজীপুর গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে।
বর্তমানে তাঁর মরদেহ শহরের রেলবাজার এলাকার নিজ বাসভবনে রাখা হয়েছে। সেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মী, মুক্তিযোদ্ধা এবং শুভানুধ্যায়ীরা শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ভিড় করছেন। মৃত্যুর খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানাতে ছুটে যান বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম, জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, যশোর সংবাদপত্র পরিষদের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা একরাম-উদ-দ্দৌলাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নেতৃবৃন্দ।
আলী হোসেন মনি ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। ষাটের দশকে তিনি তৎকালীন যশোর জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। সে সময় জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন একরামুল কবির। তিনি যশোর মুসলিম একাডেমি থেকে এসএসসি, মাইকেল মধুসূদন (এমএম) কলেজ থেকে এইচএসসি এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেন।
১৯৬৯ সালে তিনি ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন। মহান মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে ১৯৭১ সালে প্রথম ব্যাচে ভারতে দেরাদুনে সামরিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন এবং পরে যশোর অঞ্চলে মুক্তিযুদ্ধ সংগঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। স্বাধীনতা সংগ্রামে তাঁর অবদান যশোরের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।