
যশোর সদর উপজেলার চান্দুটিয়া এলাকায় নসিমন চুরির অভিযোগে গণপিটুনিতে মিজানুর রহমান (৩২) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন মো. মনিরুজ্জামান (৩৫) নামে আরেক ব্যক্তি। তাঁকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রোববার (১১ অক্টোবর) ভোরে চান্দুটিয়া এলাকার পৃথক দুটি স্থানে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মিজানুর রহমান চৌগাছা উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামের খায়রুল ইসলামের ছেলে। আহত মনিরুজ্জামান ঝিকরগাছা উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামের জালাল উদ্দিনের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (১০ অক্টোবর) দিবাগত রাতে চান্দুটিয়া এলাকায় একটি নসিমন চুরি করে পালানোর চেষ্টার অভিযোগ ওঠে দুজনের বিরুদ্ধে। এ অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় লোকজনের বরাত দিয়ে জানা যায়, রাত আনুমানিক ৩টার দিকে মনিরুজ্জামানকে আটক করে মারধর করা হয়। পরে রোববার ভোর ৬টার দিকে একই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে চান্দুটিয়া বটতলা ব্রিজ এলাকা থেকে মিজানুর রহমানকে আটক করা হয়। সেখানেও উত্তেজিত লোকজনের মারধরের শিকার হন তিনি। এতে দুজনই গুরুতর আহত হন।
খবর পেয়ে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত দুজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মিজানুর রহমানকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত মনিরুজ্জামানকে হাসপাতালের পুরুষ সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। আহত মনিরুজ্জামানের শারীরিক অবস্থা বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত।
যশোর কোতোয়ালি মডেল থানা-পুলিশ জানিয়েছে, নিহত মিজানুর রহমানের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। তবে হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হয়েছে কি না কিংবা কাউকে আটক করা হয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।