
যশোর সদর উপজেলার বসুন্দিয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ৩৯ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে যশোর কোতোয়ালি থানায় মামলাটি করেন বসুন্দিয়া সদুল্লাপুর গ্রামের বাসিন্দা ও ঢাকা উত্তর ভাষানটেক ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীর হোসেন। মামলায় আরও ৫০ থেকে ৬০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৬ জুন রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে বাদী খবর পান যে কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী জঙ্গলবাধাল মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে জড়ো হয়ে নাশকতার পরিকল্পনা করছেন। পরে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে তিনি সেখানে গেলে দেখতে পান, অভিযুক্তরা ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিয়ে পাশের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, হামলাকারীরা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, বিএনপির চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, প্রয়াত মন্ত্রী তরিকুল ইসলাম এবং প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের ছবি ভাঙচুর করেন। প্রায় ২০ মিনিট ধরে তারা কার্যালয়ে তাণ্ডব চালান বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলায় যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছেন সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বিপুল, যশোর পৌরসভার সাবেক ৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাজী সুমন, উপশহর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এহসানুল হক লিটুসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের একাধিক নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন ইউনিয়নের সাবেক জনপ্রতিনিধিরা। বাদী আলমগীর হোসেন দাবি করেন, তিনি ও অন্যান্য বিএনপি নেতাকর্মীরা চিৎকার করলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
এ বিষয়ে যশোর কোতোয়ালি থানার ওসি (অপারেশন) মমিনুল হক বলেন, অভিযোগ গ্রহণ করে মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।