
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে যশোর জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে দুই দিনব্যাপী ‘জুলাই উৎসব’ শুরু হয়েছে।
যশোর সংস্কৃতি কেন্দ্রের উদ্যোগে ‘লাল জুলাইয়ের সেই উত্তাল দিন, রক্তে নাচুক ঢেউ, বাজাও সে বীণ’ স্লোগানকে সামনে রেখে বুধবার বিকেলে শিল্পকলা একাডেমির মিলনায়তনে ঐতিহাসিক ডকুমেন্টারি প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে উৎসবের সূচনা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জুলাই শহীদ আব্দুল্লাহর বাবা আব্দুল জব্বার প্রধান উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অধ্যাপক গোলাম রসুল।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে গোলাম রসুল বলেন, ‘২৪-এর গণবিপ্লবে ফ্যাসিবাদমুক্ত ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠনের জন্য হাজারো তরুণ জীবন দিয়েছিল। কিন্তু মাত্র দুই বছরের মাথায় জাতি যেন সাড়ে ১৫ বছরের সেই চরম নির্যাতন ও নিষ্পেষণের ইতিহাস ভুলে যাচ্ছে। যে বৈষম্যহীন, মানবিক ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ গঠনে তরুণরা রক্ত দিয়েছিল, আজ সর্বত্র আবারও সেই দলীয়করণ ও বৈষম্য শুরু হয়েছে। ‘আবু সাঈদ-আব্দুল্লাহদের রক্ত ও চেতনার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করলে আবারও জুলাই ফিরে আসবে।'
সাংস্কৃতিক অঙ্গনে সরকারি বরাদ্দে বৈষম্যের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, যশোরের নিবন্ধিত প্রায় ৫৬টি সাংস্কৃতিক সংগঠন অর্থ বরাদ্দ পেলেও যশোর সংস্কৃতি কেন্দ্র বা ফুলকড়ির মতো শিশু সংগঠনকে কোনো অর্থ দেওয়া হয়নি। অথচ তাঁর অভিযোগ, বিগত সাড়ে ১৫ বছর ফ্যাসিবাদী সরকারকে টিকিয়ে রাখতে কাজ করেছে এমন সংগঠনকে সরকারি অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষেত্রে দলীয়করণের সমালোচনা করে গোলাম রসুল বলেন, ‘এভাবে ক্ষমতার দাপট ও দলীয়করণ চালাতে থাকলে ইতিহাস কাউকে ছাড় দেবে না। ফ্যাসিবাদী সরকার ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেয়নি, কিন্তু ইতিহাস তাদের শিক্ষা দিয়েছে।’
বর্তমান সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, ‘আবু সাঈদ যদি ১৬ জুলাই বুক পেতে না দিতেন, তবে আজকে যারা ক্ষমতায় বা এমপি-মন্ত্রী হয়েছেন, তারা কেউ এই জায়গায় আসতে পারতেন না। আবু সাঈদের রক্ত ও ত্যাগের অনুভূতি যদি আমরা ভুলে যাই, তবে এ দেশে আবারও জুলাই ফিরে আসবে। তরুণরা আবারও লড়াই করে অধিকার ছিনিয়ে আনবে।’
যশোর সংস্কৃতি কেন্দ্রের সদস্যসচিব অধ্যাপক আবুল হাশিম রেজার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহা. কামরুজ্জামান।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন যশোর-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হক, মাতবউদ্দিন ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ ড. মাহবুবুর রহমান, যশোর এমএম কলেজের সাবেক ভিপি আব্দুল কাদেরসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিরা।
আয়োজকেরা জানান, দুই দিনব্যাপী ‘জুলাই উৎসবে’ আলোচনা সভা, জুলাই বিপ্লবের স্মৃতিচারণ, পুরস্কার বিতরণ, ডকুমেন্টারি প্রদর্শন, বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও নাটক পরিবেশন করা হবে।