
দেশের অর্থনীতিতে স্বস্তির বার্তা নিয়ে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরেও শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে রেমিট্যান্স প্রবাহ। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, অর্থবছরের ৮ জুন পর্যন্ত প্রবাসী বাংলাদেশিরা বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে মোট ৩৩ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার দেশে পাঠিয়েছেন। গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এ প্রবাহ বেড়েছে প্রায় ১৯ শতাংশ।
মঙ্গলবার প্রকাশিত বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ৮ জুন পর্যন্ত দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৩৩ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন ডলার। এর আগের অর্থবছরের একই সময়ে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ২৮ দশমিক ৪১ বিলিয়ন ডলার।
তুলনামূলক হিসাবে দেখা যায়, এক বছরের ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রবাহ ১৮ দশমিক ৭৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, এ প্রবৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ ও সামষ্টিক অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক সংকেত বহন করছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, শুধু ৮ জুন একদিনেই প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ১০৭ দশমিক ৯৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। বৈধ ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা বাড়তে থাকায় রেমিট্যান্স প্রবাহও ধারাবাহিকভাবে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।
চলতি জুন মাসের প্রথম আট দিনেও রেমিট্যান্সে ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত রয়েছে। এ সময়ে দেশে এসেছে ৯৭৯ দশমিক ৯ লাখ মার্কিন ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭ দশমিক ৯২ শতাংশ বেশি। গত বছরের জুন মাসের প্রথম আট দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ৯০৭ দশমিক ২০ মিলিয়ন ডলার।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে অর্থ পাঠানোর সুবিধা বৃদ্ধি, সরকারের উৎসাহমূলক নীতি এবং বৈধ পথে অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রণোদনা দেওয়ার ফলে প্রবাসীরা হুন্ডির পরিবর্তে ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহারে বেশি আগ্রহী হচ্ছেন।
অর্থনীতিবিদদের মতে, প্রবাসী আয় বৃদ্ধি এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রতি আস্থা বাড়ার কারণে রেমিট্যান্স প্রবাহে ইতিবাচক ধারা বজায় রয়েছে। দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী রাখা, আমদানি ব্যয় নির্বাহ এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে রেমিট্যান্সের এ প্রবৃদ্ধি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তাদের ধারণা, বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে চলতি অর্থবছরেও রেমিট্যান্সে নতুন রেকর্ড গড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।