
যশোর শহরের রেলরোড ফুডগোডাউনের দক্ষিণ পাশে একটি বসতঘরের চাল কেটে চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ঘর থেকে আড়াই ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা চুরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বাড়ির মালিকের পরিবারের সদস্য রবিউল ইসলাম রবি।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাত থেকে শুক্রবার (২১ আগস্ট) ভোরের মধ্যে শহরের রেলরোড ফুডগোডাউনের দক্ষিণ পাশে ৯৯২ নম্বর হোল্ডিংয়ের ওই বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী রবিউল ইসলাম রবি লোকমান সিকদারের ছেলে। তিনি পেশায় ইলেকট্রিক মিস্ত্রি। পরিবারের সদস্যরা জানান, বৃহস্পতিবার সকালে তাঁরা সপরিবারে এক আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যান। এ সময় বাড়িতে কেউ ছিলেন না। রাতের কোনো একসময় চোরেরা ঘরের চাল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে।
শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে ফিরে দেখতে পান, ঘরের চাল কাটা এবং তিনটি কক্ষের বিভিন্ন জিনিসপত্র তছনছ করা হয়েছে। পরে তাঁরা খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, ঘর থেকে আড়াই ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা চুরি হয়েছে।
চুরি যাওয়া স্বর্ণালংকারের মধ্যে রয়েছে দুই জোড়া কানের দুল, দুটি চেইন ও দুটি আংটি। রবিউল ইসলাম রবি বলেন, এসব গহনা তাঁর ছেলের স্ত্রীর। ছেলের বিয়ের সময় তিনি দেড় ভরি স্বর্ণ দিয়েছিলেন। পরে তাঁর ছেলে নিজে কাজ করে আরও এক ভরি স্বর্ণ তৈরি করে স্ত্রীকে দেন। সব মিলিয়ে গহনার পরিমাণ ছিল আড়াই ভরি।
নগদ টাকা চুরির বিষয়ে রবিউল ইসলাম বলেন, ইলেকট্রিক মিস্ত্রি হিসেবে কাজ করে প্রায় তিন বছর ধরে তিনি ধীরে ধীরে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা জমিয়েছিলেন। বাড়ির সামনে একটি দোকান নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাঁর। সেই সঞ্চয়ের টাকাই চোরেরা নিয়ে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, রেলরোড ফুডগোডাউনের দক্ষিণ পাশের এলাকায় সম্প্রতি আরও কয়েকটি চুরির ঘটনা ঘটেছে। নতুন করে বসতঘরের চাল কেটে চুরির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা দেখা দিয়েছে।
রবিউল ইসলাম রবি চুরি যাওয়া স্বর্ণালংকার ও টাকা উদ্ধারের পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। তিনি জানান, এ ঘটনায় যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।