
সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার কুলিয়া ইউনিয়নের টিকেট এলাকায় প্রায় ৭০ বছরের পুরোনো বসতভিটা থেকে এক বৃদ্ধাকে উচ্ছেদের উদ্দেশ্যে ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও জবরদখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, বসতভিটায় থাকা ঘর ভেঙে সেখানে সিমেন্টের পিলার স্থাপন করে ত্রিপলের ছাউনি তুলে দখলের চেষ্টা করা হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, কুলিয়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান প্রভাস মণ্ডলের নেতৃত্বে এলাকার দুখে বর্দি, তারেক বর্দি, রঞ্জন বর্দি, পাগল বর্দি ও আমজাদ হোসেনসহ কয়েকজন এ ঘটনায় জড়িত।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, গত ২৮ জুলাই ২০২৬ তারিখে তাদের বসতভিটায় ভাঙচুর চালানো হয়। ওই সময় বাড়ির মালিক অরবিন্দু রফতান চিকিৎসার জন্য ভারতে অবস্থান করছিলেন। বাড়িতে থাকা তাঁর বৃদ্ধা স্ত্রী সুভদ্রা রফতান বিষয়টি নিয়ে থানায় অভিযোগ করেন।
অভিযোগের পর ৩১ জুলাই তদন্ত কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে গিয়ে সরেজমিন তদন্ত করেন। পরে ৭ আগস্ট উভয় পক্ষ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে বিস্তারিত শুনানি ও মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেখানে চূড়ান্ত মীমাংসার দায়িত্ব কুলিয়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান প্রভাস মণ্ডল এবং ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি বাবু শেখের ওপর দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, বাবু শেখ একাধিকবার মীমাংসার জন্য বৈঠকের উদ্যোগ নিতে প্রভাস মণ্ডলকে অনুরোধ করলেও শেষ পর্যন্ত বিষয়টির নিষ্পত্তি হয়নি।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে গিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সুভদ্রা রফতানকে বসতভিটা ছেড়ে দেওয়ার জন্য দুই লাখ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব ও চাপ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগী সুভদ্রা রফতান বলেন, “দুচালা ছোট ঘরের মধ্যে থাকতে আমার খুব কষ্ট হয়। বর্ষার সময় ঘরের ভেতরে পানি পড়ে, সারারাত জেগে থাকতে হয়। কিন্তু তারা আমাকে নতুন করে ঘর তৈরি বা পুরোনো ঘর সংস্কার করতে দেয় না। ভাঙচুর করা টিন, বাঁশ ও খুঁটিগুলোও পানিতে পচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।”
৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি ইসমাইল হোসেন বলেন, তাঁর জানা মতে, সুভদ্রা রফতানের পরিবার ৭০ থেকে ৮০ বছর ধরে ওই এলাকায় বসবাস করে আসছে। তাঁর অভিযোগ, ওই ব্যক্তিরা আবারও দুই লাখ টাকা দাবি করে সুভদ্রা রফতানকে স্বামীর অনুপস্থিতিতে উচ্ছেদ ও প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে এবং দফায় দফায় হয়রানি ও ভাঙচুর করছে। একই সঙ্গে নতুন ঘর নির্মাণ বা সংস্কারেও বাধা দেওয়া হচ্ছে।
ইসমাইল হোসেন আরও বলেন, যারা দলের নাম ভাঙিয়ে এসব করছে, তারা আমাদের দলের কেউ নয়। তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া উচিত।
এ ঘটনায় শান্তি প্রতিষ্ঠা ও ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ এবং দ্রুত বিষয়টির নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।