
সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রিপন বিশ্বাসের বিরুদ্ধে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ তুলে তাঁর অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম। আগামী ২৮ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১০টায় এ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির লাইব্রেরি হলরুমে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভায় বক্তারা অভিযোগ করেন, গত ১৯ অক্টোবর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলার আদেশকে কেন্দ্র করে সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট আকরাম আলী এবং আইনজীবী সমিতির সদস্য অ্যাডভোকেট আলহাজ মো. নুরুল আমিনের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রিপন বিশ্বাস। এ ঘটনায় আইনজীবীদের পেশাগত মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে দাবি করেন তাঁরা।
বক্তারা বলেন, আইনজীবীদের সঙ্গে কোনো বিষয়ে মতপার্থক্য দেখা দিলে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব। পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আইনজীবীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ অনাকাঙ্ক্ষিত। এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে তাঁরা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার অপসারণ দাবি করেন।
সভায় সিদ্ধান্ত হয়, আগামী ২৮ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১০টায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হবে। একই সঙ্গে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হবে। জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আকবর আলীর সভাপতিত্বে সভায় সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট এবিএম সেলিম, অ্যাডভোকেট শহীদ হাসান, অ্যাডভোকেট আবু সাঈদ রাজা, অ্যাডভোকেট শাহরিয়ার হাসিব, অ্যাডভোকেট জি এম ফিরোজ আহমেদ, অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান বাপ্পি, অ্যাডভোকেট ওলিউল্লাহ, অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম (৫), অ্যাডভোকেট সোহরাব হোসেন বাবলু, অ্যাডভোকেট সরদার সাইফসহ সংগঠনের অন্য নেতারা।
অভিযোগ অস্বীকার করে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রিপন বিশ্বাস বলেন, আইনজীবী অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন সরকারের স্বার্থপরিপন্থী কাজ করেছেন বলে তাঁর বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ে পত্র পাঠানো হয়েছে। এ কারণে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে থাকতে পারেন বলে মন্তব্য করেন রিপন বিশ্বাস।
তিনি আরও দাবি করেন, আইনজীবীর সঙ্গে কোনো ধরনের খারাপ আচরণ করা হয়নি। তাঁদের মধ্যে আলোচনার সময়কার ভিডিও সংরক্ষিত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
এ ঘটনায় আইনজীবী ফোরামের পক্ষ থেকে অপসারণের দাবি জানানো হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরবর্তী কোনো পদক্ষেপের তথ্য পাওয়া যায়নি।