
স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদ ও পার্শ্ববর্তী আভিলা প্রদেশে ভয়াবহ দাবানলের কারণে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে দেশটির সরকার। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় হাজারো মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় সামরিক বাহিনীর জরুরি ইউনিট মোতায়েন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) গভীর রাতে স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দাবানল দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা এবং প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জাম মোতায়েনের সুবিধার্থেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়েছে, দাবানলের কারণে মাদ্রিদ অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা থেকে ইতোমধ্যে ১০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। রাজধানী থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরের আলদেয়া দে ফ্রেসনো এলাকার সাড়ে তিন হাজার বাসিন্দাকে বৃহস্পতিবার ভোরে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সময়ে মাদ্রিদ অঞ্চলের বিভিন্ন বনাঞ্চলে একযোগে আগুন ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটে।
আভিলা প্রদেশের দাবানলও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। স্প্যানিশ গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বুরগোহন্দো, এল তিয়েমব্লো এবং নাভালুয়েঙ্গা পৌরসভার বাসিন্দাদের নিরাপত্তার স্বার্থে ঘরের ভেতরে অবস্থান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দৈনিক এল পাইস জানিয়েছে, আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় এল তিয়েমব্লো এলাকার একটি গ্রামীণ পর্যটন কমপ্লেক্স এবং একটি আবাসন প্রকল্প থেকে প্রায় ১ হাজার ৫০০ মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এদিকে সবচেয়ে বড় দাবানলটি ছড়িয়ে পড়েছে মাদ্রিদের উত্তরাঞ্চলের গুয়াদালাহারা প্রদেশে। রাজধানী থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরের ওই এলাকায় বৃহস্পতিবার থেকে প্রায় ৩২ হাজার হেক্টর বনভূমি আগুনে পুড়ে গেছে।
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, আভিলা, লেওন, তোলেদো, মাদ্রিদসহ ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন অঞ্চলে দাবানল নিয়ন্ত্রণে সরকার সর্বাত্মক ব্যবস্থা নিয়েছে। তিনি জনগণকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানান।
ইউরোপিয়ান ফরেস্ট ফায়ার ইনফরমেশন সিস্টেমের (ইএফএফআইএস) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে স্পেনে ইতোমধ্যে প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার হেক্টর বনভূমি আগুনে পুড়ে গেছে। যদিও গত বছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল প্রায় ৩ লাখ ৯৩ হাজার হেক্টর। তবে সাম্প্রতিক দাবানলের ব্যাপকতা ইউরোপে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।