
সরকারের কোটি টাকা ব্যয়ে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার হরিভদ্রা নদী খনন করা হলেও প্রত্যাশিত সুফল মিলছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। খনন শেষে নদীর একপাশে ক্রস বাঁধ নির্মাণের কারণে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে পলি জমে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হয়েছে। এতে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে দ্রুত পলি অপসারণের দাবিতে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত আবেদন দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হরিভদ্রা নদী খননের মূল উদ্দেশ্য ছিল পানি নিষ্কাশন সক্ষমতা বৃদ্ধি, দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা দূর করা এবং কৃষি উৎপাদনে ইতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করা। কিন্তু খননকাজ শেষে খর্ণিয়া এলাকায় একটি ক্রস বাঁধ নির্মাণের ফলে উজান থেকে আসা বিপুল পরিমাণ পলি নদীতে জমে যায়। এতে নদীর পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং বর্ষা মৌসুমে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত পলি অপসারণ না করা হলে ডুমুরিয়ার খর্ণিয়া, রুদাঘরা, ধামালিয়া, আটলিয়া ও শোভনাসহ পার্শ্ববর্তী যশোরের কেশবপুর ও মনিরামপুর উপজেলার বিস্তীর্ণ ফসলি জমি ও জনপদ প্লাবিত হতে পারে। এতে শত শত কৃষক এবং কয়েক হাজার মানুষ ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়বেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মোল্লা আবুল কাশেম বলেন, নদী খননের পর ক্রস বাঁধ দেওয়ায় অপর পাশে বিপুল পরিমাণ পলি জমে নদী ভরাট হয়ে গেছে। সম্প্রতি ভারী বর্ষণে নদীর পানি লোকালয়ে ঢুকতে শুরু করলে বাঁধটি কেটে দেওয়া হলেও জমে থাকা পলির কারণে পানি স্বাভাবিকভাবে নামছে না। বর্তমানে মাত্র একটি ড্রেজার দিয়ে পলি অপসারণের কাজ চলছে, যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় যথেষ্ট নয়। দ্রুত আরও ড্রেজার মোতায়েনের দাবি জানান তিনি।
ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজ সবিতা সরকার বলেন, এলাকাবাসীর গণস্বাক্ষরিত আবেদন পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবহিত করা হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে যাতে আশপাশের এলাকা প্লাবিত না হয়, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জ্বল কুমার সেন বলেন, ক্রস বাঁধের কারণে নদীর কিছু অংশে পলি জমে পানি প্রবাহে সাময়িক বাধা সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় একটি ড্রেজার দিয়ে পলি অপসারণের কাজ শুরু হয়েছে। কাজের গতি বাড়াতে আরও ড্রেজার যুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, হরিভদ্রা নদী এ অঞ্চলের কৃষি ও জনজীবনের অন্যতম প্রধান অবলম্বন। তাই দ্রুত পলি অপসারণ করে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে না আনলে সরকারের ব্যয়বহুল খনন প্রকল্পের সুফল নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি কয়েক হাজার পরিবার ও বিপুল কৃষিজমি নতুন করে জলাবদ্ধতার ঝুঁকিতে পড়বে। এখন প্রশাসনের আশ্বাস কত দ্রুত বাস্তবে রূপ নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন নদীপাড়ের মানুষ।