
বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহ-এর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে প্রায় ২৯ বছর পর তার মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। হত্যা মামলা হিসেবে চলমান পুনঃতদন্তের অংশ হিসেবে এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, গত ২৪ মে তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে মরদেহ উত্তোলনের আদেশ দেন। একই সঙ্গে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত এবং পুনরায় ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১০ জুন) মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক জিয়াউল মোর্শেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের লক্ষ্যে মরদেহ উত্তোলন, সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত এবং ময়নাতদন্তের অনুমতি চেয়ে আদালতে আবেদন করা হয়েছিল, যা মঞ্জুর হয়েছে। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহ উত্তোলনের কার্যক্রম শুরু হবে।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সকালে রাজধানীর নিউ ইস্কাটনের বাসায় পরিবারের সদস্যরা সালমান শাহকে দেখতে পান। পরে অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ওই ঘটনায় একই দিন রমনা থানায় অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছিল।
পরবর্তীতে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ সিলেটে হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার সংলগ্ন কবরস্থানে দাফন করা হয়। দীর্ঘদিন আলোচিত এই মৃত্যুর ঘটনায় গত বছরের ২০ অক্টোবর আদালত অপমৃত্যুর মামলাকে হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। পরদিন নিহত অভিনেতার মামা মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম রমনা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলায় সালমান শাহর স্ত্রী সামীরা হক, সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাইসহ ১৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
তদন্ত নথি অনুযায়ী, এটি সালমান শাহর মরদেহ উত্তোলনের দ্বিতীয় ঘটনা। ১৯৯৬ সালে দাফনের নয় দিন পর প্রথমবার মরদেহ উত্তোলন করে ময়নাতদন্ত করা হয়েছিল। তবে তখন পচনজনিত কারণে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আধুনিক ফরেনসিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে নতুন করে ময়নাতদন্তের মাধ্যমে আলোচিত এই মৃত্যুর রহস্য সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।