
যশোরের ঝিকরগাছায় ১৭ কোটি টাকা মূল্যের কথিত প্লাটিনাম বিক্রির প্রলোভন দেখিয়ে ৬৭ লাখ ৩০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আরও দুই ব্যক্তিকে আটক করেছে যশোর জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম। এর আগে এ ঘটনায় ঢাকার রমনা এলাকা থেকে শরিফুল ইসলাম নামের আরও একজনকে আটক করা হয়।
আটক দুজন হলেন সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার বাজারগ্রামের মৃত জয়নালের ছেলে আব্দুর রাজ্জাক সরদার এবং একই উপজেলার সাতবসু গ্রামের মৃত কাসেম কারিকরের ছেলে শাহাজান আলী কারিকর। শুক্রবার মধ্যরাতে এসআই দেব্রবত ঘোষের নেতৃত্বে সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম অভিযান চালিয়ে তাঁদের নিজ নিজ বাড়ি থেকে আটক করে। এর আগে আটক শরিফুল ইসলাম সাতক্ষীরা সদর উপজেলার আলীপুর গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ঝিকরগাছা উপজেলার শিওরদাহ গ্রামের সিটি ব্যাংকের মোবাইল ব্যাংকিং সেবার এজেন্ট সোহরাব হোসেন পিন্টুর প্রতিষ্ঠানে তিনজন কর্মচারী কাজ করেন। তাঁদের মধ্যে মামুন নামের একজন প্রায় তিন বছর ধরে সেখানে কর্মরত। গত ৭ আগস্ট মামুন তাঁর পূর্বপরিচিত শরিফুল ইসলামের কাছ থেকে জানতে পারেন, শরিফুলসহ কয়েকজন একটি মূল্যবান ধাতব পদার্থ পেয়েছেন। তাঁদের দাবি, সেটি প্লাটিনাম এবং বাংলাদেশি বাজারে এর আনুমানিক মূল্য ১৭ কোটি টাকা।
শরিফুল মামুনকে জানান, কথিত ওই ধাতব পদার্থ বিক্রির জন্য তাঁরা একজন বিশ্বস্ত ক্রেতা খুঁজছেন। বিষয়টি মামুন তাঁর কর্মস্থলের মালিক সোহরাব হোসেন পিন্টুকে জানান। পরে ১০ আগস্ট শরিফুলসহ কয়েকজন সোহরাব হোসেনের বাড়িতে গিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলেন। একপর্যায়ে একটি মুঠোফোন নম্বরে যোগাযোগ করিয়ে দিয়ে বলা হয়, ওই ব্যক্তি কথিত ধাতব পদার্থটি কিনবেন এবং বাড়ি থেকেই নগদ টাকা দিয়ে নিয়ে যাবেন।
এ সময় ধাতব পদার্থটি সংগ্রহ করতে ৭২ লাখ টাকা প্রয়োজন বলে জানানো হয়। পরে সেটি ১৭ কোটি টাকায় বিক্রি করে বিপুল লাভের টাকা ভাগ করে নেওয়ার প্রলোভন দেখানো হয়। এই প্রলোভনে পড়ে বাদী সোহরাব হোসেন ও তাঁর কর্মচারী মামুন বিভিন্ন মাধ্যমে আসামিদের ৬৭ লাখ ৩০ হাজার টাকা দেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, গত ১৯ আগস্ট কথিত ধাতব পদার্থ আনতে সোহরাব হোসেন সাতক্ষীরায় গেলে শরিফুল তাঁকে একটি প্লাস্টিকের বক্স দিয়ে চলে যান। যাওয়ার সময় শরিফুল তাঁকে বাড়িতে গিয়ে বক্সটি খুলতে বলেন। পরে বাড়িতে ফিরে বক্সটি খুলে সোহরাব হোসেন দেখতে পান, এর ভেতরে প্লাটিনামের পরিবর্তে একটি ইটের টুকরা রয়েছে। তখন তিনি প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পারেন।
পরে তিনি যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলামের কাছে অভিযোগ করেন। পুলিশ সুপারের নির্দেশে সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত শুরু করে। একপর্যায়ে ঢাকার রমনা এলাকা থেকে শরিফুল ইসলামকে আটক করা হয়।
পুলিশের দাবি, শরিফুলকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার রাতে সাতক্ষীরার কালীগঞ্জে অভিযান চালিয়ে আব্দুর রাজ্জাক সরদার ও শাহাজান আলী কারিকরকে আটক করা হয়।
এ ঘটনায় রোববার রাতে সোহরাব হোসেন পিন্টু ঝিকরগাছা থানায় মামলা করেন। আটক তিনজনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। আদালতে আব্দুর রাজ্জাক ও শাহাজান আলী স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে বিচারক তাঁদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। কথিত প্লাটিনামের নামে প্রতারণার ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও আত্মসাৎ করা টাকা উদ্ধারে তদন্ত চলছে।