ঢাকা ০৯:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo নবীন বিসিএস কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী Logo সাজেক বন্ধ, পর্যটননির্ভর হাজারো মানুষের জীবিকায় অনিশ্চয়তা Logo কেশবপুরে চালককে ছুরিকাঘাত করে ব্যাটারিচালিত ভ্যান ছিনতাই Logo ডুমুরিয়ায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে জাতীয় সমবায় দিবস উদযাপিত Logo মনিরামপুরে বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় দুজন গ্রেপ্তার Logo বাঘারপাড়ায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে জাতীয় সমবায় দিবস পালিত Logo বাসুদেব ইউনিয়ন পুনর্বহালের দাবিতে রেললাইন অবরোধ Logo পাইকগাছায় জাপানি প্রযুক্তির পয়ঃবর্জ্য শোধনাগার চালু Logo ঝিকরগাছায় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে বিএনপি’র সমাবেশ Logo সান্তাহারে আড়াই কোটি টাকায় আরসিসি সড়ক নির্মাণকাজের উদ্বোধন
দ্রুত সমাধানের দাবি

সাজেক বন্ধ, পর্যটননির্ভর হাজারো মানুষের জীবিকায় অনিশ্চয়তা

ভুবণ ত্রিপুরা, সাজেক
  • আপডেট সময় : ০৮:৫৮:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬
  • / ১৩ বার পঠিত

সাজেকে পর্যটন কার্যক্রম বন্ধ থাকায় চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন পর্যটন খাতের সঙ্গে জড়িত পরিবহনশ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা। দীর্ঘদিন ধরে আয়-রোজগার বন্ধ থাকায় অনেকেই ঋণের কিস্তি, সংসারের খরচ ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে জীবিকার একমাত্র অবলম্বন নিজের গাড়িটি বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন একাধিক সিএনজি চালক।

সিএনজি চালক সুমন ত্রিপুরা জানান, বিভিন্ন ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণের সাপ্তাহিক কিস্তি ৭ হাজার ৫০০ টাকা। কিন্তু সাজেকে পর্যটন কার্যক্রম বন্ধ থাকায় আয় প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। একদিকে ঋণের কিস্তির চাপ, অন্যদিকে পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্ব, সব মিলিয়ে তিনি দিশেহারা। বাধ্য হয়ে ঋণের বোঝা ও সংসারের ব্যয় সামাল দিতে নিজের উপার্জনের একমাত্র অবলম্বন গাড়িটি বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তিনি বলেন, আমি একা নই, আমার মতো হাজারো চালক ও তাঁদের পরিবার আজ কঠিন সময় পার করছেন। অনেকেই ঋণের চাপে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। কিন্তু সবার কষ্টের কথা প্রকাশ করার সুযোগ নেই।

সাজেকের পর্যটন কার্যক্রম বন্ধ থাকায় শুধু চালকরাই নন, পর্যটনকেন্দ্রিক হোটেল, রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ, দোকানসহ বিভিন্ন পেশার মানুষের জীবিকাও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। পর্যটকের উপস্থিতির ওপর নির্ভরশীল এসব মানুষের আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবার নিয়ে দিন কাটানো কঠিন হয়ে উঠেছে।

এ অবস্থায় সরকারের প্রতি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা। তাঁদের দাবি, সাজেকের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করে শান্তিপূর্ণ ও টেকসই সমাধান নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি পর্যটন কার্যক্রম স্বাভাবিক করার পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যাতে কর্মসংস্থান ও জীবিকা ফিরে আসে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, আমরা সংঘাত চাই না, শান্তি চাই। কারও ক্ষতি চাই না। আমরা শুধু সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকার জন্য কাজের সুযোগ চাই।

সাজেকের পর্যটন কার্যক্রম দ্রুত স্বাভাবিক করার পাশাপাশি সংকটে পড়া পর্যটনশ্রমিক ও সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোর জীবিকা রক্ষায় সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তাঁরা।

ট্যাগস :

দ্রুত সমাধানের দাবি

সাজেক বন্ধ, পর্যটননির্ভর হাজারো মানুষের জীবিকায় অনিশ্চয়তা

আপডেট সময় : ০৮:৫৮:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬

সাজেকে পর্যটন কার্যক্রম বন্ধ থাকায় চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন পর্যটন খাতের সঙ্গে জড়িত পরিবহনশ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা। দীর্ঘদিন ধরে আয়-রোজগার বন্ধ থাকায় অনেকেই ঋণের কিস্তি, সংসারের খরচ ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে জীবিকার একমাত্র অবলম্বন নিজের গাড়িটি বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন একাধিক সিএনজি চালক।

সিএনজি চালক সুমন ত্রিপুরা জানান, বিভিন্ন ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণের সাপ্তাহিক কিস্তি ৭ হাজার ৫০০ টাকা। কিন্তু সাজেকে পর্যটন কার্যক্রম বন্ধ থাকায় আয় প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। একদিকে ঋণের কিস্তির চাপ, অন্যদিকে পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্ব, সব মিলিয়ে তিনি দিশেহারা। বাধ্য হয়ে ঋণের বোঝা ও সংসারের ব্যয় সামাল দিতে নিজের উপার্জনের একমাত্র অবলম্বন গাড়িটি বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তিনি বলেন, আমি একা নই, আমার মতো হাজারো চালক ও তাঁদের পরিবার আজ কঠিন সময় পার করছেন। অনেকেই ঋণের চাপে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। কিন্তু সবার কষ্টের কথা প্রকাশ করার সুযোগ নেই।

সাজেকের পর্যটন কার্যক্রম বন্ধ থাকায় শুধু চালকরাই নন, পর্যটনকেন্দ্রিক হোটেল, রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ, দোকানসহ বিভিন্ন পেশার মানুষের জীবিকাও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। পর্যটকের উপস্থিতির ওপর নির্ভরশীল এসব মানুষের আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবার নিয়ে দিন কাটানো কঠিন হয়ে উঠেছে।

এ অবস্থায় সরকারের প্রতি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা। তাঁদের দাবি, সাজেকের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করে শান্তিপূর্ণ ও টেকসই সমাধান নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি পর্যটন কার্যক্রম স্বাভাবিক করার পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যাতে কর্মসংস্থান ও জীবিকা ফিরে আসে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, আমরা সংঘাত চাই না, শান্তি চাই। কারও ক্ষতি চাই না। আমরা শুধু সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকার জন্য কাজের সুযোগ চাই।

সাজেকের পর্যটন কার্যক্রম দ্রুত স্বাভাবিক করার পাশাপাশি সংকটে পড়া পর্যটনশ্রমিক ও সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোর জীবিকা রক্ষায় সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তাঁরা।