ঢাকা ১০:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নড়াইল বাস-মিনিবাস মালিক সমিতি নিয়ে দ্বন্দ্ব চরমে

রিপন মন্ডল, নড়াইল
  • আপডেট সময় : ০৫:১০:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
  • / ৬৬ বার পঠিত

নড়াইল জেলা বাস-মিনিবাস পরিবহন মালিক সমিতির নবগঠিত কমিটি নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধের জেরে সমিতির কার্যালয় প্রশাসনের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। শনিবার (১৩ জুন) শহরের পুরাতন বাস টার্মিনাল এলাকায় সংঘাতময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে প্রশাসন কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে সেটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়।

জানা গেছে, নড়াইল জেলা বাস-মিনিবাস পরিবহন মালিক সমিতির ২০২০ সাল থেকে চলতি বছরের ৯ জুন পর্যন্ত বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি অনুমোদিত কোনো বৈধ কমিটি ছিল না। এ অবস্থায় সম্প্রতি জেলার অধিকাংশ বাস মালিকের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এক সভায় রেজুলেশনের মাধ্যমে বাস মালিক দেলোয়ার হোসেন হাজীকে সভাপতি এবং জেলা বিএনপির সাবেক ১ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলী হাসানকে সাধারণ সম্পাদক করে ১৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, নড়াইল-১ ও নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য এবং জেলা প্রশাসকের সুপারিশের ভিত্তিতে গত ৯ জুন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি ওই কমিটির অনুমোদন দেয়। তবে নবগঠিত এ কমিটিকে অবৈধ দাবি করে মোস্তফা কামাল (মোস্ত) নেতৃত্বাধীন একটি পক্ষ এর বিরোধিতা শুরু করে। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়তে থাকে। শনিবার সকাল থেকে সমিতির কার্যালয় দখলকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের সমর্থকরা পুরাতন বাস টার্মিনাল এলাকায় অবস্থান নিতে শুরু করেন। একপর্যায়ে সংঘাতের আশঙ্কা দেখা দিলে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

এ সময় দেলোয়ার-হাসান সমর্থিত পক্ষ মিছিল নিয়ে সমিতির কার্যালয়ের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে প্রশাসন তাদের বাধা দেয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট লিংকন বিশ্বাসের নেতৃত্বে সমিতির কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে প্রশাসনের হেফাজতে নেওয়া হয়।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট লিংকন বিশ্বাস বলেন, “নড়াইলের দুই সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের মধ্যস্থতায় সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হবে। কোনো ধরনের সংঘাত বা সহিংসতা এড়াতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত মালিক সমিতির কার্যালয় প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে তালাবদ্ধ রাখা হবে।”

প্রশাসনের এ পদক্ষেপের ফলে তাৎক্ষণিকভাবে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেও বিরোধের স্থায়ী সমাধানে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমঝোতা প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে প্রশাসন।

ট্যাগস :

নড়াইল বাস-মিনিবাস মালিক সমিতি নিয়ে দ্বন্দ্ব চরমে

আপডেট সময় : ০৫:১০:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

নড়াইল জেলা বাস-মিনিবাস পরিবহন মালিক সমিতির নবগঠিত কমিটি নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধের জেরে সমিতির কার্যালয় প্রশাসনের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। শনিবার (১৩ জুন) শহরের পুরাতন বাস টার্মিনাল এলাকায় সংঘাতময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে প্রশাসন কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে সেটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়।

জানা গেছে, নড়াইল জেলা বাস-মিনিবাস পরিবহন মালিক সমিতির ২০২০ সাল থেকে চলতি বছরের ৯ জুন পর্যন্ত বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি অনুমোদিত কোনো বৈধ কমিটি ছিল না। এ অবস্থায় সম্প্রতি জেলার অধিকাংশ বাস মালিকের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এক সভায় রেজুলেশনের মাধ্যমে বাস মালিক দেলোয়ার হোসেন হাজীকে সভাপতি এবং জেলা বিএনপির সাবেক ১ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলী হাসানকে সাধারণ সম্পাদক করে ১৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, নড়াইল-১ ও নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য এবং জেলা প্রশাসকের সুপারিশের ভিত্তিতে গত ৯ জুন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি ওই কমিটির অনুমোদন দেয়। তবে নবগঠিত এ কমিটিকে অবৈধ দাবি করে মোস্তফা কামাল (মোস্ত) নেতৃত্বাধীন একটি পক্ষ এর বিরোধিতা শুরু করে। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়তে থাকে। শনিবার সকাল থেকে সমিতির কার্যালয় দখলকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের সমর্থকরা পুরাতন বাস টার্মিনাল এলাকায় অবস্থান নিতে শুরু করেন। একপর্যায়ে সংঘাতের আশঙ্কা দেখা দিলে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

এ সময় দেলোয়ার-হাসান সমর্থিত পক্ষ মিছিল নিয়ে সমিতির কার্যালয়ের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে প্রশাসন তাদের বাধা দেয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট লিংকন বিশ্বাসের নেতৃত্বে সমিতির কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে প্রশাসনের হেফাজতে নেওয়া হয়।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট লিংকন বিশ্বাস বলেন, “নড়াইলের দুই সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের মধ্যস্থতায় সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হবে। কোনো ধরনের সংঘাত বা সহিংসতা এড়াতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত মালিক সমিতির কার্যালয় প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে তালাবদ্ধ রাখা হবে।”

প্রশাসনের এ পদক্ষেপের ফলে তাৎক্ষণিকভাবে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেও বিরোধের স্থায়ী সমাধানে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমঝোতা প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে প্রশাসন।