ঢাকা ০৪:৩২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo কুমিল্লায় ধানক্ষেত থেকে যশোরের নিখোঁজ কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার Logo বেনাপোল কাস্টমসের যুগ্ম কমিশনার শরফুদ্দিন মিয়া’র বিরুদ্ধে এক সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা পেটানোর অভিযোগ Logo অভিযোগকারীকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিলেন আনসার কর্মকর্তা রউফ Logo তালা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরিত্যক্ত মালামাল বিক্রি নিয়ে প্রশ্ন Logo যশোরে শেষ হলো ১ম কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপ Logo রামনগর ইউনিয়নের ৯টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা, নিরাপত্তায় গ্রাম পুলিশ Logo নড়াইলের পেড়লীতে বিশ্ব দৃষ্টি দিবসে র‍্যালি ও আলোচনা সভা Logo কুয়াদায় মাদকসহ দুই কারবারী আটক Logo শার্শায় ইয়াবাসহ যুবক গ্রেপ্তার Logo শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে পাথরঘাটায় প্রশাসনের প্রস্তুতি সভা
নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

বেনাপোল কাস্টমসের যুগ্ম কমিশনার শরফুদ্দিন মিয়া’র বিরুদ্ধে এক সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা পেটানোর অভিযোগ

বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১১:৫১:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
  • / ৬২ বার পঠিত

বেনাপোল কাস্টমস হাউসের যুগ্ম কমিশনার শরফুদ্দিন মিয়ার বিরুদ্ধে আরমান নামে এক সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তাকে লাঠি দিয়ে মারধরের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বেনাপোল কাস্টমসের ৪১ নম্বর শেডের ভেতরে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

কাস্টমস-সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা আরমানকে তাঁর এক সহকারীর মাধ্যমে ৪১ নম্বর শেডে ডেকে নেন যুগ্ম কমিশনার শরফুদ্দিন মিয়া। সেখানে তাঁকে লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। ঘটনাটি জানাজানি হলে কাস্টমসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দেয়।

অভিযোগ রয়েছে, এর আগেও যুগ্ম কমিশনার শরফুদ্দিন মিয়া’র বিরুদ্ধে অধস্তন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং বিভিন্নভাবে হয়রানির অভিযোগ রয়েছে। তাঁর নির্দেশ বা কথামতো না চললে কোনো কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীকে শাস্তির মুখোমুখি হতে হয় বলেও দাবি করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কাস্টমস-সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে ব্যবসায়ী মহলেও যুগ্ম কমিশনারকে ঘিরে নানা অভিযোগ রয়েছে বলে জানা গেছে। হয়রানি, ইচ্ছাকৃতভাবে জটিলতা সৃষ্টি, দায়িত্ব পালনে অবহেলা ও অসহযোগিতাসহ বিভিন্ন অভিযোগের কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

ঘটনার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে সাংবাদিকরা কাস্টমস কার্যালয়ে গেলে যুগ্ম কমিশনার শরফুদ্দিন মিয়া কোনো তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন বলে দাবি করেছেন উপস্থিত সাংবাদিকরা। এ সময় দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকদের সঙ্গে তিনি অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কাস্টমসের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী বলেন, ৪১ নম্বর শেডের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করলেই ঘটনার প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে। তাঁদের দাবি, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট সময়ের সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ করে তদন্ত কমিটির মাধ্যমে তা পর্যালোচনা করা হোক।

প্রশ্ন উঠেছে, যুগ্ম কমিশনার শরফুদ্দিন মিয়া’র খুটির জোর কোথায় ? একজন ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা কীভাবে অধস্তন কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে এমন আচরণ করার সাহস পান? অভিযোগ সত্য হলে এর পেছনে কারও প্রভাব বা প্রশ্রয় রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখার দাবি করেছেন কাস্টমস সংশ্লিষ্টরা।

সচেতন মহলের দাবি, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে দ্রুত একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে যুগ্ম কমিশনার শরফুদ্দিন মিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। এতে সরকারি কর্মস্থলে শৃঙ্খলা ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে কোনো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা যেন ক্ষমতার অপব্যবহার করে অধস্তনের গায়ে হাত তোলার সাহস না পান—এমন দৃষ্টান্ত তৈরি হবে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে যুগ্ম কমিশনার শরফুদ্দিন মিয়ার বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে পরবর্তী প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

ট্যাগস :

নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

বেনাপোল কাস্টমসের যুগ্ম কমিশনার শরফুদ্দিন মিয়া’র বিরুদ্ধে এক সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা পেটানোর অভিযোগ

আপডেট সময় : ১১:৫১:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

বেনাপোল কাস্টমস হাউসের যুগ্ম কমিশনার শরফুদ্দিন মিয়ার বিরুদ্ধে আরমান নামে এক সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তাকে লাঠি দিয়ে মারধরের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বেনাপোল কাস্টমসের ৪১ নম্বর শেডের ভেতরে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

কাস্টমস-সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা আরমানকে তাঁর এক সহকারীর মাধ্যমে ৪১ নম্বর শেডে ডেকে নেন যুগ্ম কমিশনার শরফুদ্দিন মিয়া। সেখানে তাঁকে লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। ঘটনাটি জানাজানি হলে কাস্টমসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দেয়।

অভিযোগ রয়েছে, এর আগেও যুগ্ম কমিশনার শরফুদ্দিন মিয়া’র বিরুদ্ধে অধস্তন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং বিভিন্নভাবে হয়রানির অভিযোগ রয়েছে। তাঁর নির্দেশ বা কথামতো না চললে কোনো কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীকে শাস্তির মুখোমুখি হতে হয় বলেও দাবি করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কাস্টমস-সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে ব্যবসায়ী মহলেও যুগ্ম কমিশনারকে ঘিরে নানা অভিযোগ রয়েছে বলে জানা গেছে। হয়রানি, ইচ্ছাকৃতভাবে জটিলতা সৃষ্টি, দায়িত্ব পালনে অবহেলা ও অসহযোগিতাসহ বিভিন্ন অভিযোগের কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

ঘটনার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে সাংবাদিকরা কাস্টমস কার্যালয়ে গেলে যুগ্ম কমিশনার শরফুদ্দিন মিয়া কোনো তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন বলে দাবি করেছেন উপস্থিত সাংবাদিকরা। এ সময় দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকদের সঙ্গে তিনি অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কাস্টমসের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী বলেন, ৪১ নম্বর শেডের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করলেই ঘটনার প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে। তাঁদের দাবি, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট সময়ের সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ করে তদন্ত কমিটির মাধ্যমে তা পর্যালোচনা করা হোক।

প্রশ্ন উঠেছে, যুগ্ম কমিশনার শরফুদ্দিন মিয়া’র খুটির জোর কোথায় ? একজন ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা কীভাবে অধস্তন কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে এমন আচরণ করার সাহস পান? অভিযোগ সত্য হলে এর পেছনে কারও প্রভাব বা প্রশ্রয় রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখার দাবি করেছেন কাস্টমস সংশ্লিষ্টরা।

সচেতন মহলের দাবি, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে দ্রুত একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে যুগ্ম কমিশনার শরফুদ্দিন মিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। এতে সরকারি কর্মস্থলে শৃঙ্খলা ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে কোনো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা যেন ক্ষমতার অপব্যবহার করে অধস্তনের গায়ে হাত তোলার সাহস না পান—এমন দৃষ্টান্ত তৈরি হবে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে যুগ্ম কমিশনার শরফুদ্দিন মিয়ার বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে পরবর্তী প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।