‘এবার মাছের খাবারের দিকে নজর যুবদল নেতা’ শিরোনামে ফেসবুক পোস্ট
বাবা-ছেলের ছবি দিয়ে অপপ্রচারের ঘটনায় থানায় অভিযোগ
- আপডেট সময় : ০৭:১৩:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
- / ৬৫ বার পঠিত

যশোরে মাছের ফিড চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাবা-ছেলের ছবি ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মাছচাষি মো. হাদিউজ্জামান (৪৫)। তাঁর দাবি, মাছের খাবার চুরির সঙ্গে তাঁদের কোনো সম্পৃক্ততা না থাকলেও ‘যশোরের দর্পণ-Jessore Mirror’ নামে ফেসবুক পেজে তাঁদের ছবি দিয়ে অপপ্রচার চালানো হয়েছে।
অভিযোগকারী হাদিউজ্জামান যশোর সদর উপজেলার কচুয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দেয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর বাবা আব্দুল মজিদ মোল্যা একই ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি।
হাদিউজ্জামানের অভিযোগ, গত ১৬ অক্টোবর সন্ধ্যায় যশোর কোতোয়ালি থানাধীন মালিডাঙ্গা গ্রামের একটি মাছের ঘের থেকে ফিড চুরির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ঘেরের এক কর্মচারীকে হাতেনাতে আটক করা হয় বলে দাবি করেন তিনি। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়।
তাঁর ভাষ্য, ঘটনার তিন দিন পর ১৯ অক্টোবর রাত আনুমানিক ১২টা ২০ মিনিটে ‘যশোরের দর্পণ-Jessore Mirror’ নামের একটি ফেসবুক পেজে ‘এবার মাছের খাবারের দিকে নজর যুবদল নেতা’ শিরোনামে পোস্ট দেওয়া হয়। ওই পোস্টে তাঁর ও তাঁর বাবা আব্দুল মজিদ মোল্যার ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। এতে তাঁদের সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
হাদিউজ্জামান বলেন, মাছের খাবার চুরির ঘটনার সঙ্গে তাঁদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। অথচ তাঁদের ছবি ব্যবহার করে এমন পোস্ট দেওয়ায় তাঁরা বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছেন। পোস্টটির পেছনে কারা জড়িত, তা তিনি জানেন না।
এদিকে, হাদিউজ্জামানের বাবা আব্দুল মজিদ মোল্যা অভিযোগ করেন, এলাকার একটি স্কুলের মাঠ থেকে গাছ কাটার কাজে বাধা দেওয়ার পর স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে তাঁর বিরোধ তৈরি হয়। ওই বিরোধের জের ধরে তাঁকে ও তাঁর ছেলেকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করতে এমন কর্মকাণ্ড ঘটানো হয়ে থাকতে পারে বলে তাঁর ধারণা।
একই অভিযোগের বিষয়ে ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আফসার মোল্যা বলেন, পূর্বশত্রুতার জেরে বাবা-ছেলেকে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের তদন্তের মাধ্যমে শনাক্ত করার দাবি জানান তিনি।
হাদিউজ্জামান জানান, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় ও ঠিকানা সংগ্রহের চেষ্টা করেও তাঁরা ব্যর্থ হয়েছেন। স্থানীয়ভাবে প্রতিকার না পেয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এ ধরনের প্রচারের কারণে তাঁদের সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হওয়াসহ ভবিষ্যতে বিভিন্ন ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তাঁরা।
অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মেহেদি মারুফ জানান, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত রয়েছেন। একটি অজ্ঞাতনামা ফেসবুক পেজে এ ধরনের তথ্য প্রচারের অভিযোগের বিষয়ে তিনি কাজ শুরু করবেন।
অভিযোগকারী ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, পোস্ট দেওয়ার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত এবং তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।























