যশোরে উত্তরা হাসপাতালে চিকিৎসা অবহেলায় প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ
- আপডেট সময় : ১০:৪৩:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৯ বার পঠিত

যশোর শহরের জেল রোডে অবস্থিত উত্তরা প্রাইভেট হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের পর উর্মি খাতুন নামে এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে চিকিৎসায় অবহেলা ও অপচিকিৎসার অভিযোগ তুলেছেন নিহতের স্বজনেরা। তাঁদের দাবি, অপারেশনের পর প্রসূতির জ্ঞান ফেরেনি।
পরে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তাঁর অবস্থার অবনতি হলে খুলনায় রেফার করা হয়। সেখানে নেওয়ার পর স্বজনেরা জানতে পারেন, আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। নিহত উর্মি খাতুন যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার নারকেলবাড়িয়া ইউনিয়নের উত্তর শ্রীরামপুর গ্রামের আব্দুল আলিমের স্ত্রী।
স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে সিজারিয়ান অপারেশনের জন্য উর্মি খাতুনকে উত্তরা প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভর্তির প্রায় ৩০ মিনিট পর চিকিৎসক ফারহা দিবা তাঁর অস্ত্রোপচার করেন। এ সময় তিনি একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। তবে অপারেশনের পর থেকে তাঁর আর জ্ঞান ফেরেনি বলে দাবি স্বজনদের।
তাঁদের অভিযোগ, একপর্যায়ে অপারেশনের ক্ষতস্থান থেকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হলে উর্মির শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটে। পরে একই দিন সন্ধ্যায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাঁকে খুলনায় রেফার করে।
নিহতের স্বজনদের দাবি, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পৌঁছানোর পর তাঁরা জানতে পারেন, উর্মি খাতুনের আনুমানিক আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা আগেই মৃত্যু হয়েছে। সংকটাপন্ন অবস্থায় তাঁকে যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। পাশাপাশি হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়ে থাকলে কেন তাঁকে খুলনায় পাঠানো হলো, সে বিষয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্বজনেরা।
নিহতের ভাসুর তুহিন হোসেন অভিযোগ করে বলেন, হাসপাতালে ভর্তির সময় তাঁর ভাবি সুস্থ ছিলেন। কিন্তু সিজারিয়ান অপারেশনের পর থেকেই তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। চিকিৎসায় অবহেলার কারণেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে তাঁরা মনে করছেন। এ ঘটনায় মামলা করার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ফারহা দিবাকে ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এমনকি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ গা ঢাকা দেওয়ায় তাদের বক্তব্য গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি।
প্রসুতির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগের সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর কারণ নির্ধারণ এবং অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন নিহতের স্বজনেরা।























