ঢাকা ০৯:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

সিআইডির হাতে সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা গ্রেফতার

দর্পণ ডেক্স
  • আপডেট সময় : ০৫:৪৯:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬
  • / ১১৩ বার পঠিত

ঢাকা: গ্রাহকের অজান্তে তার নামে ইস্যুকৃত ক্রেডিট কার্ড নিজের কাছে রেখে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণামূলক লেনদেনের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে এক সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি হলেন সারোয়ার হোসেন (৪০)। তিনি গোলাম মাওলা ও মাওলা জাহানের ছেলে। তার স্থায়ী ঠিকানা ঢাকার বাড্ডা থানার জোয়ার সাহারা এলাকায়।

সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার (৮ জুন) বিকেলে রাজধানীর গুলশান থানার ৩২ নম্বর রোডের কমার্শিয়াল কোভ ভবন এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। ঢাকা মেট্রো (পশ্চিম) অঞ্চলের একটি আভিযানিক দল এ অভিযান পরিচালনা করে।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, সারোয়ার হোসেন ২০১৭ সালে একটি স্বনামধন্য ব্যাংকের সিনিয়র রিলেশনশিপ অফিসার (কার্ড সেলস, রিটেইল ব্যাংকিং) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ওই সময় এক গ্রাহক তার নামে ক্রেডিট কার্ডের আবেদন করেন। পরবর্তীতে প্রয়োজন না হওয়ায় গ্রাহক কার্ডটি ব্যবহার না করে ব্যাংকে ফেরত দিলেও সারোয়ার সেটি ব্যাংকে জমা না দিয়ে নিজের কাছে রেখে দেন।

অভিযোগ রয়েছে, তিনি ভুয়া মোবাইল নম্বর ও ঠিকানা ব্যবহার করে কার্ডটির নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রাখেন, যাতে কার্ড-সংক্রান্ত ওটিপি তার কাছেই পৌঁছায়। এরপর ওই কার্ড ব্যবহার করে বিভিন্ন সময়ে প্রতারণামূলক আর্থিক লেনদেন পরিচালনা করেন।

সম্প্রতি ভুক্তভোগী ব্যক্তি ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোর (সিআইবি) একটি প্রতিবেদনের মাধ্যমে জানতে পারেন, তার নামে ২০১৭ সালে একটি ঋণ গ্রহণ দেখানো হয়েছে। অথচ তিনি এমন কোনো ঋণ গ্রহণের বিষয়ে অবগত ছিলেন না। পরে তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকে লিখিত অভিযোগ করলে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ তদন্তে জালিয়াতির ঘটনা উদঘাটিত হলে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় পেনাল কোডের ৪০৮, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮ ও ৪৭১ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়।

তদন্তে জানা যায়, ভুক্তভোগীর অজ্ঞাতে ওই ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে ২০১৭ সালের শেষ দিক থেকে ২০২২ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত মোট ১৭ লাখ ৭০ হাজার ২১৩ টাকার লেনদেন করা হয়। এর মধ্যে ১৪ লাখ ১৩ হাজার ৫০০ টাকা পরিশোধ করা হলেও সুদসহ অবশিষ্ট ৫ লাখ ৫৬ হাজার ৯৯৫ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সিআইডির তদন্তে আরও জানা যায়, গ্রাহকের প্রতি অর্পিত বিশ্বাসের অপব্যবহার করে সারোয়ার হোসেন জালিয়াতির মাধ্যমে এ অর্থ আত্মসাৎ করেন। ২০১৯ সালে চাকরি ছেড়ে দেওয়ার পরও তিনি ওই ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে লেনদেন চালিয়ে যান।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে সিআইডি। এছাড়া তিনি এ ধরনের আরও কোনো প্রতারণার সঙ্গে জড়িত ছিলেন কি না, সে বিষয়ে তদন্ত চলছে। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ এবং সম্ভাব্য সহযোগীদের শনাক্তে সিআইডির কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। গ্রেফতারকৃতকে আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলমান। বর্তমানে মামলার তদন্ত করছে সিআইডির ঢাকা মেট্রো (পশ্চিম) বিভাগ।

ট্যাগস :

সিআইডির হাতে সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা গ্রেফতার

আপডেট সময় : ০৫:৪৯:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

ঢাকা: গ্রাহকের অজান্তে তার নামে ইস্যুকৃত ক্রেডিট কার্ড নিজের কাছে রেখে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণামূলক লেনদেনের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে এক সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি হলেন সারোয়ার হোসেন (৪০)। তিনি গোলাম মাওলা ও মাওলা জাহানের ছেলে। তার স্থায়ী ঠিকানা ঢাকার বাড্ডা থানার জোয়ার সাহারা এলাকায়।

সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার (৮ জুন) বিকেলে রাজধানীর গুলশান থানার ৩২ নম্বর রোডের কমার্শিয়াল কোভ ভবন এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। ঢাকা মেট্রো (পশ্চিম) অঞ্চলের একটি আভিযানিক দল এ অভিযান পরিচালনা করে।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, সারোয়ার হোসেন ২০১৭ সালে একটি স্বনামধন্য ব্যাংকের সিনিয়র রিলেশনশিপ অফিসার (কার্ড সেলস, রিটেইল ব্যাংকিং) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ওই সময় এক গ্রাহক তার নামে ক্রেডিট কার্ডের আবেদন করেন। পরবর্তীতে প্রয়োজন না হওয়ায় গ্রাহক কার্ডটি ব্যবহার না করে ব্যাংকে ফেরত দিলেও সারোয়ার সেটি ব্যাংকে জমা না দিয়ে নিজের কাছে রেখে দেন।

অভিযোগ রয়েছে, তিনি ভুয়া মোবাইল নম্বর ও ঠিকানা ব্যবহার করে কার্ডটির নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রাখেন, যাতে কার্ড-সংক্রান্ত ওটিপি তার কাছেই পৌঁছায়। এরপর ওই কার্ড ব্যবহার করে বিভিন্ন সময়ে প্রতারণামূলক আর্থিক লেনদেন পরিচালনা করেন।

সম্প্রতি ভুক্তভোগী ব্যক্তি ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোর (সিআইবি) একটি প্রতিবেদনের মাধ্যমে জানতে পারেন, তার নামে ২০১৭ সালে একটি ঋণ গ্রহণ দেখানো হয়েছে। অথচ তিনি এমন কোনো ঋণ গ্রহণের বিষয়ে অবগত ছিলেন না। পরে তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকে লিখিত অভিযোগ করলে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ তদন্তে জালিয়াতির ঘটনা উদঘাটিত হলে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় পেনাল কোডের ৪০৮, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮ ও ৪৭১ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়।

তদন্তে জানা যায়, ভুক্তভোগীর অজ্ঞাতে ওই ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে ২০১৭ সালের শেষ দিক থেকে ২০২২ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত মোট ১৭ লাখ ৭০ হাজার ২১৩ টাকার লেনদেন করা হয়। এর মধ্যে ১৪ লাখ ১৩ হাজার ৫০০ টাকা পরিশোধ করা হলেও সুদসহ অবশিষ্ট ৫ লাখ ৫৬ হাজার ৯৯৫ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সিআইডির তদন্তে আরও জানা যায়, গ্রাহকের প্রতি অর্পিত বিশ্বাসের অপব্যবহার করে সারোয়ার হোসেন জালিয়াতির মাধ্যমে এ অর্থ আত্মসাৎ করেন। ২০১৯ সালে চাকরি ছেড়ে দেওয়ার পরও তিনি ওই ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে লেনদেন চালিয়ে যান।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে সিআইডি। এছাড়া তিনি এ ধরনের আরও কোনো প্রতারণার সঙ্গে জড়িত ছিলেন কি না, সে বিষয়ে তদন্ত চলছে। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ এবং সম্ভাব্য সহযোগীদের শনাক্তে সিআইডির কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। গ্রেফতারকৃতকে আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলমান। বর্তমানে মামলার তদন্ত করছে সিআইডির ঢাকা মেট্রো (পশ্চিম) বিভাগ।