শীতের সকালে জমবে গুড়-পাটালির স্বাদ
বাঘারপাড়ার জোরকদমে চলছে খেজুরের রস সংগ্রহের প্রস্তুতি
- আপডেট সময় : ০৭:৪৭:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
- / ১১ বার পঠিত

শীতের আগমনী বার্তার সঙ্গে সঙ্গে যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার গ্রামাঞ্চলে শুরু হয়েছে খেজুরের রস সংগ্রহের প্রস্তুতি। খেজুরগাছের পরিচর্যা, ডালপালা পরিষ্কার ও গাছের গায়ে চাঁছ দেওয়ার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন গাছিরা। শীতের সকালে টাটকা খেজুরের রস, গুড় ও পাটালির স্বাদ নিতে অপেক্ষায় রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
খেজুরের রস বাংলার শীতকালীন খাদ্যসংস্কৃতির অন্যতম ঐতিহ্য। এ রস দিয়ে তৈরি হয় সুস্বাদু পিঠা, পায়েস, ক্ষীর, গুড় ও পাটালি। বিশেষ করে শীতের কুয়াশাচ্ছন্ন সকালে খেজুরের রস পানের আনন্দ গ্রামবাংলার মানুষের কাছে এক ভিন্ন অনুভূতি।
যশোর অঞ্চলের সঙ্গে খেজুরের রস ও গুড়ের রয়েছে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক। খেজুরের রস থেকে তৈরি গুড় ও পাটালি স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হয়। এ ঐতিহ্যকে ঘিরে শীত মৌসুমে গ্রামাঞ্চলে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।
রস সংগ্রহের আগে গাছ প্রস্তুত করতে বেশ পরিশ্রম করতে হয় গাছিদের। প্রথমে খেজুরগাছের শুকনো পাতা ও অপ্রয়োজনীয় অংশ পরিষ্কার করা হয়। এরপর গাছের গায়ে থাকা পুরোনো কাটা অংশ সরিয়ে নির্দিষ্ট স্থানে দা দিয়ে চাঁছ দেওয়া হয়। পরে রস সংগ্রহের জন্য গাছে মাটির হাঁড়ি বা ভাঁড় ঝুলিয়ে রাখা হয়। রাতভর হাঁড়িতে জমতে থাকে খেজুরের মিষ্টি রস।
শীতের সকালে গাছ থেকে নামানো টাটকা রস দিয়ে তৈরি হয় সুস্বাদু গুড় ও পাটালি। এসব পণ্য স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে বাড়তি আয়ের সুযোগ পান গাছিরা। তবে এ পেশায় সফল হতে প্রয়োজন অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও শারীরিক পরিশ্রম।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে খেজুরের রস সংগ্রহ পুরোদমে শুরু হবে। গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী এ মৌসুমকে ঘিরে প্রাণ ফিরে পাবে স্থানীয় বাজার ও গ্রামীণ অর্থনীতি।
খেজুরের রস ও গুড়ের ঐতিহ্য ধরে রাখতে গাছের পরিচর্যা এবং গাছিদের উৎসাহিত করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। শীতের সকালে খেজুরের রস, গুড় ও পাটালির স্বাদ উপভোগের অপেক্ষায় রয়েছেন যশোরের মানুষ।
























