যশোর আইটি পার্কের হোটেল নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত চায় খান প্রপার্টিজ
- আপডেট সময় : ০৪:৪৪:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ২৪ বার পঠিত

যশোর আইটি পার্কের হোটেল ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনা নিয়ে সম্প্রতি ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের নিরপেক্ষ ও তথ্য-প্রমাণভিত্তিক তদন্ত দাবি করেছে খান প্রপার্টিজ গ্রুপ। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, বর্তমান ব্যবস্থাপনার সময়ে কোনো অনিয়ম বা অভিযোগের ঘটনা ঘটে থাকলে তার দায় পূর্ববর্তী ব্যবস্থাপনার ওপর চাপানো সমীচীন নয়।
মঙ্গলবার সকালে প্রেসক্লাব যশোরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান খান প্রপার্টিজ গ্রুপের জনসংযোগ কর্মকর্তা শামছুজ্জামান স্বজন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, যশোর আইটি পার্কের হোটেলকে ঘিরে অনৈতিক কর্মকাণ্ড, স্বল্প সময়ের জন্য কক্ষ ভাড়া, গোপনে ছবি ও ভিডিও ধারণ এবং সেগুলো ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেইলসহ বিভিন্ন অভিযোগ সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল আইটি পার্ক পরিদর্শন করেছে বলেও জানান তিনি।
খান প্রপার্টিজের পক্ষ থেকে বলা হয়, ২০২২ সালে প্রতিষ্ঠানটি যশোর আইটি পার্কের হোটেল প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হয়। এরপর হোটেল সংস্কার, আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম স্থাপন এবং কর্মীদের প্রশিক্ষণ শেষে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু করা হয়।
প্রতিষ্ঠানটির দাবি, তাদের পরিচালনাকালে হোটেল থেকে প্রায় ৭ কোটি ৮৮ লাখ টাকা গ্রস আয় হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১ কোটি ২৬ লাখ টাকা সরকারি রেভিনিউ শেয়ারিং হিসেবে দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে হোটেলে প্রায় ৭০টি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, ২০২৬ সালের ২৭ জানুয়ারি কর্তৃপক্ষের নির্দেশে খান প্রপার্টিজকে সাময়িকভাবে হোটেলের পরিচালনা থেকে সরে যেতে বলা হয়। এরপর প্রতিষ্ঠানটিকে আর পরিচালনায় ফিরতে দেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে অন্য একটি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানকে হোটেল পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়।
খান প্রপার্টিজের দাবি, ব্যবস্থাপনা পরিবর্তনের সময় তাদের বিভিন্ন সরঞ্জাম, নথিপত্র ও অন্যান্য সম্পদ হোটেল প্রাঙ্গণে রয়ে গেছে। এসব সম্পদের সুষ্ঠু হিসাব ও নথিপত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করার দাবিও জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে।
প্রতিষ্ঠানটির জনসংযোগ কর্মকর্তা বলেন, বর্তমান ব্যবস্থাপনার সময়ে সংঘটিত কোনো ঘটনা বা অভিযোগের দায় পূর্ববর্তী ব্যবস্থাপনার ওপর চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়। খান প্রপার্টিজের পরিচালনাকালে হোটেলে কোনো অনৈতিক বা বেআইনি কর্মকাণ্ডে প্রতিষ্ঠানটি জড়িত ছিল না বলেও দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে খান প্রপার্টিজের পক্ষ থেকে চারটি বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে—বর্তমান ও পূর্ববর্তী ব্যবস্থাপনার সময়কাল পৃথক করে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, বর্তমান অপারেটরের কার্যক্রম পর্যালোচনা, খান প্রপার্টিজের বিনিয়োগ ও সরঞ্জামের নথিপত্রভিত্তিক যাচাই এবং প্রতিষ্ঠানটির অন্যান্য দাবি ও পাওনা যথাযথ প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি।
খান প্রপার্টিজের পক্ষ থেকে বলা হয়, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে কোনো পক্ষের বক্তব্যের ওপর নির্ভর না করে সংশ্লিষ্ট নথি, আর্থিক হিসাব, ব্যবস্থাপনার সময়কাল এবং অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। এতে প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট হওয়ার পাশাপাশি দায়ী ব্যক্তিদেরও শনাক্ত করা সম্ভব হবে বলে মনে করে প্রতিষ্ঠানটি।












