চিতলমারীতে বিআরডিবি’র আয়োজনে কিশোরীদের সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ
- আপডেট সময় : ০৫:২০:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
- / ৩৬ বার পঠিত

বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের (বিআরডিবি) আয়োজনে বাগেরহাটের চিতলমারীতে কিশোরী শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের নিয়ে উদ্বুদ্ধকরণ ও সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সঙ্গে প্রশিক্ষণ শেষে শিক্ষার্থীদের মাঝে উপহারসামগ্রী ও আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ করা হয়।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় উপজেলার ত্রিপল্লী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে কিশোরীদের শিক্ষা, আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) এর খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের যুগ্ম পরিচালক এ কে এম আশরাফুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাটের জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (ডিও) সাদেকুল ইসলাম। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিআরডিবি বাগেরহাটের উপপরিচালক দেলোয়ার হোসেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ত্রিপল্লী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি শিপন মুন্সী এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিখিল রঞ্জন হাজরা, এ সময় বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রশিক্ষণে বক্তারা বলেন, কিশোরীদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের আত্মবিশ্বাসী, দায়িত্বশীল ও সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা জরুরি। পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে একসঙ্গে কাজ করলে কিশোরীদের বিভিন্ন সামাজিক ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব। বিশেষ করে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে অভিভাবকদের সচেতনতা ও ইতিবাচক ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বক্তারা আরও বলেন, একটি মেয়ের শিক্ষাজীবন বাধাগ্রস্ত হলে শুধু তার ব্যক্তিগত ভবিষ্যৎ নয়, পরিবার ও সমাজও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই কিশোরীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিতি, পড়াশোনায় মনোযোগ এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে পরিকল্পনা করার বিষয়ে উৎসাহিত করতে হবে। একই সঙ্গে অভিভাবকদেরও মেয়েদের মতামত ও স্বপ্নকে গুরুত্ব দিয়ে তাদের পাশে থাকার আহ্বান জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে কিশোরীদের বিভিন্ন বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা, সামাজিক মূল্যবোধ, নিরাপদ পরিবেশ এবং শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখার গুরুত্ব নিয়েও আলোচনা করা হয়। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি কিশোরীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে উপহারসামগ্রী ও চেক বিতরণ করা হয়। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, কিশোরীদের শিক্ষা ও উন্নয়নে এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অভিভাবকরা বলেন, কিশোরীদের নিয়ে এ ধরনের প্রশিক্ষণ ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সহায়ক হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আগ্রহী করে তোলা এবং বাল্যবিবাহসহ বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা প্রতিরোধেও এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা কিশোরীদের নিয়মিত পড়াশোনা করে নিজেদের যোগ্যতা ও দক্ষতা বিকাশের মাধ্যমে ভবিষ্যতে পরিবার, সমাজ ও দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। পরে শিক্ষার্থীদের মাঝে উপহারসামগ্রী ও চেক বিতরণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের কার্যক্রম শেষ হয়।














