বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞানভীতি: কারণ ও সমাধান
- আপডেট সময় : ০৯:০৫:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৯৭ বার পঠিত

বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞানভীতি: কারণ ও সমাধান
(গ্রামাঞ্চলের বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর একটি গবেষণা)
গবেষক: এম. আরশুল্লাহ আল-ইমরান
সহকারী শিক্ষক (পদার্থবিজ্ঞান)
বল্লারটোপ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, নড়াইল সদর, নড়াইল
বিজ্ঞান শিক্ষা একটি দেশের প্রযুক্তিগত, অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি। কিন্তু বাংলাদেশের অনেক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ বিজ্ঞান বিষয়কে কঠিন ও ভীতিকর হিসেবে বিবেচনা করে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে ল্যাবরেটরির সীমাবদ্ধতা, প্রয়োজনীয় উপকরণের অভাব, দক্ষ শিক্ষকের সংকট এবং বিজ্ঞান শিক্ষা সম্পর্কে অভিভাবকদের নেতিবাচক ধারণা শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞানভীতি সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখতে পারে। বর্তমান গবেষণার উদ্দেশ্য ছিল গ্রামাঞ্চলের একটি বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞানভীতির প্রকৃতি, কারণ এবং সম্ভাব্য সমাধান নির্ণয় করা।
গবেষণাটি বর্ণনামূলক (Descriptive Survey) পদ্ধতিতে পরিচালিত হয়েছে। উদ্দেশ্যমূলক নমুনা নির্বাচনের মাধ্যমে ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণির প্রতিটি শ্রেণি থেকে ১০ জন করে মোট ৫০ জন শিক্ষার্থী এবং ৫ জন বিজ্ঞান শিক্ষককে গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তথ্য সংগ্রহের জন্য প্রশ্নমালা, আধা-কাঠামোবদ্ধ সাক্ষাৎকার এবং শ্রেণিকক্ষ পর্যবেক্ষণ ব্যবহার করা হয়েছে।
গবেষণায় দেখা যায়, ৬ষ্ঠ–৮ম শ্রেণির ৮০% শিক্ষার্থী বিজ্ঞানকে তুলনামূলক সহজ মনে করলেও ৯ম–১০ম শ্রেণির ৮০% শিক্ষার্থী বিজ্ঞানকে কঠিন মনে করে। শিক্ষক সাক্ষাৎকারে বিজ্ঞানাগারের অপ্রতুলতা, প্রয়োজনীয় শিক্ষাসামগ্রীর অভাব, শিক্ষক প্রশিক্ষণের সীমাবদ্ধতা এবং অভিভাবকদের বিজ্ঞান শিক্ষাকে ব্যয়বহুল মনে করার প্রবণতা বিজ্ঞান শিক্ষার প্রধান প্রতিবন্ধকতা হিসেবে উঠে আসে।
গবেষণায় সুপারিশ করা হয়েছে যে, বিজ্ঞানাগারের উন্নয়ন, ব্যবহারিক কার্যক্রম বৃদ্ধি, শিক্ষক প্রশিক্ষণ জোরদার, প্রযুক্তিনির্ভর পাঠদান এবং অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বিজ্ঞানভীতি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা সম্ভব।
কী-শব্দ: বিজ্ঞানভীতি, বিজ্ঞান শিক্ষা, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, গ্রামাঞ্চল, বিজ্ঞানাগার, বিজ্ঞান শিক্ষণ।
১. ভূমিকা
বিজ্ঞান মানুষের জ্ঞানচর্চার এমন একটি শাখা যা পর্যবেক্ষণ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, বিশ্লেষণ এবং যুক্তির মাধ্যমে প্রকৃতি ও মহাবিশ্বের বিভিন্ন ঘটনার ব্যাখ্যা প্রদান করে। বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তি, চিকিৎসা, কৃষি, শিল্প, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং টেকসই উন্নয়নের প্রতিটি ক্ষেত্রেই বিজ্ঞানের অবদান অপরিসীম। তাই একটি দেশের উন্নয়নের জন্য বিজ্ঞানমনস্ক নাগরিক গড়ে তোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশের জাতীয় শিক্ষাক্রমে বিজ্ঞান শিক্ষাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের অনুসন্ধিৎসু, সৃজনশীল, সমস্যা সমাধানে দক্ষ এবং বৈজ্ঞানিক মনোভাবসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলাই বিজ্ঞান শিক্ষার অন্যতম উদ্দেশ্য। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, অনেক শিক্ষার্থী বিজ্ঞান বিষয়কে কঠিন, জটিল এবং ভয়ভীতির বিষয় হিসেবে মনে করে। ফলে তারা বিজ্ঞান বিষয়ে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে এবং উচ্চশিক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ নির্বাচনেও অনীহা প্রকাশ করে।
গ্রামাঞ্চলের বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে এই সমস্যা তুলনামূলকভাবে বেশি লক্ষ করা যায়। পর্যাপ্ত বিজ্ঞানাগার, পরীক্ষণ সরঞ্জাম, প্রশিক্ষিত শিক্ষক এবং ব্যবহারিক ক্লাসের সীমাবদ্ধতা শিক্ষার্থীদের শেখার অভিজ্ঞতাকে প্রভাবিত করে। এছাড়া অনেক অভিভাবক বিজ্ঞান শিক্ষাকে অতিরিক্ত ব্যয়বহুল মনে করেন, যা শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান শিক্ষায় উৎসাহ কমিয়ে দিতে পারে।
এই বাস্তব প্রেক্ষাপটে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞানভীতির প্রকৃত কারণ নির্ণয় এবং কার্যকর সমাধান প্রস্তাব করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান গবেষণা সেই প্রয়োজনীয়তা থেকেই পরিচালিত হয়েছে।
২. সমস্যার বিবৃতি
বিজ্ঞান শিক্ষা কেবল পরীক্ষায় ভালো ফল করার বিষয় নয়; এটি যুক্তিবোধ, অনুসন্ধিৎসা এবং বাস্তব সমস্যা সমাধানের দক্ষতা গড়ে তোলে। কিন্তু অনেক শিক্ষার্থী বিজ্ঞানকে এমন একটি বিষয় হিসেবে দেখে, যেখানে প্রচুর মুখস্থ করতে হয়, কঠিন সূত্র শিখতে হয় এবং পরীক্ষায় ভালো ফল করা কঠিন। এই ধারণা ধীরে ধীরে বিজ্ঞানভীতিতে রূপ নিতে পারে।
গ্রামাঞ্চলের অনেক বেসরকারি বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত ল্যাব সুবিধা, পরীক্ষণ উপকরণ এবং আধুনিক শিক্ষণ উপকরণের অভাব রয়েছে। শিক্ষকরা সবসময় ব্যবহারিক ক্লাস পরিচালনা করতে পারেন না। ফলে বিজ্ঞান শিক্ষা অনেক ক্ষেত্রে তত্ত্বনির্ভর হয়ে পড়ে।
অন্যদিকে শিক্ষক সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে যে, অনেক অভিভাবক বিজ্ঞান শিক্ষা গ্রহণকে ব্যয়বহুল মনে করেন। ফলে শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনীয় বই, উপকরণ বা অতিরিক্ত সহায়তা থেকে বঞ্চিত হতে পারে।
এসব কারণে শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান বিষয়ে আগ্রহ, আত্মবিশ্বাস এবং অংশগ্রহণ কমে যায়। তাই বিজ্ঞানভীতির প্রকৃত কারণ নির্ণয় এবং তা দূরীকরণের বাস্তবসম্মত কৌশল নির্ধারণ করা সময়োপযোগী ও প্রয়োজনীয়।
৩. গবেষণার উদ্দেশ্য
বর্তমান গবেষণার মূল উদ্দেশ্য ছিল গ্রামাঞ্চলের একটি বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞানভীতির প্রকৃতি, কারণ এবং সম্ভাব্য সমাধান নির্ণয় করা।
নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যসমূহ
১. মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞানভীতির বর্তমান অবস্থা নির্ণয় করা।
২. শ্রেণিভেদে (৬ষ্ঠ–১০ম) বিজ্ঞান বিষয়ে শিক্ষার্থীদের মনোভাবের পার্থক্য বিশ্লেষণ করা।
৩. শিক্ষার্থীদের দৃষ্টিতে বিজ্ঞানভীতির প্রধান কারণসমূহ চিহ্নিত করা।
৪. বিজ্ঞান শিক্ষার ক্ষেত্রে বিদ্যালয়ের অবকাঠামো, বিজ্ঞানাগার, শিক্ষাসামগ্রী ও শিক্ষকের ভূমিকা মূল্যায়ন করা।
৫. শিক্ষক সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে বিজ্ঞান শিক্ষার প্রতিবন্ধকতা ও সম্ভাব্য সমাধান নির্ণয় করা।
৬. বিজ্ঞানভীতি দূরীকরণের জন্য বাস্তবভিত্তিক সুপারিশ প্রদান করা।
৪. গবেষণা প্রশ্ন
গবেষণাটি নিম্নোক্ত প্রশ্নগুলোর উত্তর অনুসন্ধান করেছে—
১. মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞানভীতির বর্তমান অবস্থা কী?
২. ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞান বিষয়ে দৃষ্টিভঙ্গির কী ধরনের পার্থক্য রয়েছে?
৩. শিক্ষার্থীদের মতে বিজ্ঞানভীতির প্রধান কারণগুলো কী?
৪. শিক্ষকরা বিজ্ঞান শিক্ষা পরিচালনার ক্ষেত্রে কী ধরনের সমস্যা অনুভব করেন?
৫. বিজ্ঞানভীতি কমাতে বিদ্যালয়, শিক্ষক ও অভিভাবকদের কী ভূমিকা পালন করা উচিত?
৫. সাহিত্য পর্যালোচনা
৫.১ বিজ্ঞানভীতির ধারণা
বিজ্ঞানভীতি (Science Anxiety) হলো এমন একটি মানসিক অবস্থা, যেখানে শিক্ষার্থী বিজ্ঞান বিষয়ে শেখা, পরীক্ষা দেওয়া, সমস্যা সমাধান করা বা বিজ্ঞান ক্লাসে অংশগ্রহণের সময় উদ্বেগ, ভয় বা আত্মবিশ্বাসের অভাব অনুভব করে। বিজ্ঞানভীতি শিক্ষার্থীর শেখার আগ্রহ, একাডেমিক সাফল্য এবং ভবিষ্যতে বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা ও পেশা নির্বাচনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
শিক্ষা মনোবিজ্ঞানের গবেষণায় দেখা গেছে, বিজ্ঞানভীতি সাধারণত জন্মগত নয়; বরং শিক্ষণ পদ্ধতি, পূর্ব অভিজ্ঞতা, সামাজিক পরিবেশ এবং মূল্যায়ন পদ্ধতির প্রভাবে ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে।
৫.২ বাংলাদেশে বিজ্ঞান শিক্ষা
বাংলাদেশের জাতীয় শিক্ষাক্রমে বিজ্ঞান শিক্ষার অন্যতম লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৈজ্ঞানিক মনোভাব, অনুসন্ধিৎসা, সৃজনশীলতা এবং সমস্যা সমাধানের দক্ষতা গড়ে তোলা।
তবে বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের বিদ্যালয়গুলোতে বিজ্ঞান শিক্ষার ক্ষেত্রে কয়েকটি সাধারণ সমস্যা বিদ্যমান—
– পর্যাপ্ত বিজ্ঞানাগারের অভাব
– প্রয়োজনীয় ব্যবহারিক উপকরণের সংকট
– বড় শ্রেণিকক্ষ ও সীমিত সময়
– তথ্যপ্রযুক্তির সীমিত ব্যবহার
– পরীক্ষাকেন্দ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থা
এসব কারণে অনেক শিক্ষার্থী বিজ্ঞানকে বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে শেখার পরিবর্তে মুখস্থনির্ভরভাবে শেখে, যা বিজ্ঞানভীতি বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে।
৫.৩ আন্তর্জাতিক গবেষণার ফলাফল
Tobias (1993) তাঁর গবেষণায় উল্লেখ করেন যে, বিজ্ঞান ও গণিতভীতি শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দেয় এবং সমস্যা সমাধানের দক্ষতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
Bandura (1997)-এর Self-Efficacy তত্ত্ব অনুযায়ী, কোনো বিষয়ে শিক্ষার্থীর আত্মবিশ্বাস যত বেশি হবে, সে বিষয় শেখার আগ্রহ ও সফলতার সম্ভাবনাও তত বেশি হবে। আত্মবিশ্বাস কমে গেলে শিক্ষার্থীরা কঠিন মনে হওয়া বিষয় এড়িয়ে চলার প্রবণতা দেখায়।
OECD-এর PISA গবেষণাতেও দেখা যায়, যেসব বিদ্যালয়ে ব্যবহারিক কার্যক্রম, অনুসন্ধানমূলক শিক্ষা এবং শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক পাঠদান বেশি, সেখানে শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান বিষয়ে আগ্রহ ও সাফল্য তুলনামূলকভাবে বেশি।
৫.৪ গবেষণা ফাঁক (Research Gap)
বাংলাদেশে বিজ্ঞান শিক্ষা নিয়ে বিভিন্ন গবেষণা থাকলেও গ্রামাঞ্চলের বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানভীতি নিয়ে মাঠপর্যায়ের গবেষণা তুলনামূলকভাবে কম। বিশেষ করে একই গবেষণায় শিক্ষার্থী ও শিক্ষক—উভয়ের মতামত বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানভীতির কারণ এবং সমাধান নির্ণয়ের উদ্যোগ সীমিত।
বর্তমান গবেষণা এই শূন্যস্থান পূরণের চেষ্টা করেছে। এতে বাস্তব তথ্যের ভিত্তিতে শিক্ষার্থী ও শিক্ষক—উভয় পক্ষের মতামত বিশ্লেষণ করা হয়েছে এবং বিজ্ঞানভীতি দূরীকরণের জন্য বাস্তবসম্মত সুপারিশ প্রদান করা হয়েছে।
৬. গবেষণা পদ্ধতি
৬.১ গবেষণার ধরন
বর্তমান গবেষণাটি একটি বর্ণনামূলক (Descriptive Survey Research) গবেষণা। গবেষণায় পরিমাণগত (Quantitative) এবং গুণগত (Qualitative) উভয় ধরনের তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হয়েছে। ফলে এটি একটি Mixed-Method Research হিসেবেও বিবেচিত।
৬.২ গবেষণার ক্ষেত্র
গবেষণাটি বাংলাদেশের একটি গ্রামাঞ্চলের বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পরিচালিত হয়েছে। বিদ্যালয়টি ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত বিজ্ঞান শিক্ষা প্রদান করে।
৬.৩ গবেষণার জনসংখ্যা (Population)
গবেষণার জনসংখ্যা ছিল বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণির সকল শিক্ষার্থী এবং বিজ্ঞান বিষয়ে পাঠদানকারী শিক্ষকগণ।
৬.৪ নমুনা নির্বাচন (Sample)
উদ্দেশ্যমূলক নমুনা (Purposive Sampling) পদ্ধতিতে—
– ৬ষ্ঠ শ্রেণি থেকে ১০ জন
– ৭ম শ্রেণি থেকে ১০ জন
– ৮ম শ্রেণি থেকে ১০ জন
– ৯ম শ্রেণি থেকে ১০ জন
– ১০ম শ্রেণি থেকে ১০ জন
অর্থাৎ মোট ৫০ জন শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হয়।
এছাড়া ৫ জন বিজ্ঞান শিক্ষক সাক্ষাৎকারে অংশগ্রহণ করেন।
৬.৫ তথ্য সংগ্রহের উপকরণ
গবেষণায় নিম্নোক্ত উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছে—
– শিক্ষার্থীদের জন্য কাঠামোবদ্ধ প্রশ্নমালা
– শিক্ষকদের জন্য আধা-কাঠামোবদ্ধ সাক্ষাৎকার
– শ্রেণিকক্ষ পর্যবেক্ষণ
– গবেষকের মাঠ নোট
৬.৬ তথ্য বিশ্লেষণ
সংগৃহীত পরিমাণগত তথ্য শতকরা হার, সারণি ও বর্ণনামূলক বিশ্লেষণের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়েছে। গুণগত তথ্য থিমভিত্তিক (Thematic Analysis) পদ্ধতিতে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। শিক্ষক সাক্ষাৎকার থেকে প্রাপ্ত মতামতকে বিষয়ভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাস করে গবেষণার ফলাফলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
৬.৭ গবেষণার নৈতিক দিক
গবেষণায় অংশগ্রহণকারী সকল শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের সম্মতি গ্রহণ করা হয়েছে। গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের ব্যক্তিগত পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে এবং সংগৃহীত তথ্য শুধুমাত্র গবেষণার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে।
৭. গবেষণার ফলাফল, বিশ্লেষণ ও আলোচনা
৭.১ অংশগ্রহণকারীদের প্রোফাইল
গবেষণাটি বাংলাদেশের একটি গ্রামাঞ্চলের বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পরিচালিত হয়। গবেষণায় ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণির মোট ৫০ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। প্রতিটি শ্রেণি থেকে সমানভাবে ১০ জন শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হয়। এছাড়া বিদ্যালয়ের ৫ জন বিজ্ঞান শিক্ষক আধা-কাঠামোবদ্ধ সাক্ষাৎকারে অংশগ্রহণ করেন।
সারণি–১ : অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের শ্রেণিভিত্তিক বণ্টন
শ্রেণি| শিক্ষার্থী| শতাংশ
৬ষ্ঠ | ১০ | ২০%
৭ম | ১০ | ২০%
৮ম | ১০ | ২০%
৯ম | ১০ | ২০%
১০ম | ১০ | ২০%
মোট | ৫০ | ১০০%
উপরের সারণি থেকে দেখা যায়, প্রতিটি শ্রেণি থেকে সমসংখ্যক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করায় শ্রেণিভিত্তিক তুলনা নিরপেক্ষভাবে করা সম্ভব হয়েছে।
৭.২ বিজ্ঞান সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের ধারণা
শিক্ষার্থীদের কাছে প্রথমে জানতে চাওয়া হয় বিজ্ঞান বিষয়টি তারা সহজ নাকি কঠিন বলে মনে করে।
সারণি–২ : বিজ্ঞান বিষয় সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের ধারণা
মতামত| শিক্ষার্থী| শতাংশ
সহজ | ২৮ | ৫৬%
কঠিন | ২২ | ৪৪%
মোট | ৫০ | ১০০%
সারণি–২ অনুযায়ী ৫০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ২৮ জন (৫৬%) বিজ্ঞানকে তুলনামূলকভাবে সহজ মনে করেছে। অন্যদিকে ২২ জন (৪৪%) বিজ্ঞানকে কঠিন মনে করেছে।
যদিও সামগ্রিকভাবে সহজ মনে করা শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি, কিন্তু শ্রেণিভিত্তিক বিশ্লেষণে একটি ভিন্ন চিত্র দেখা যায়।
৭.৩ শ্রেণিভেদে বিজ্ঞান সম্পর্কে ধারণার তুলনা
সারণি–৩ : শ্রেণিভেদে তুলনামূলক বিশ্লেষণ
শ্রেণি | সহজ | কঠিন
৬ষ্ঠ | ৮ (৮০%)| ২ (২০%)
৭ম | ৮ (৮০%)| ২ (২০%)
৮ম | ৮ (৮০%)| ২ (২০%)
৯ম | ২ (২০%)| ৮ (৮০%)
১০ম | ২ (২০%)| ৮ (৮০%)
এই ফলাফল থেকে স্পষ্টভাবে বোঝা যায় যে, ৬ষ্ঠ–৮ম শ্রেণির অধিকাংশ শিক্ষার্থী বিজ্ঞানকে সহজ মনে করলেও ৯ম ও ১০ম শ্রেণিতে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। উচ্চ শ্রেণিতে বিজ্ঞানকে কঠিন মনে করা শিক্ষার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
এর সম্ভাব্য কারণ হতে পারে—
– পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়নের গাণিতিক বিশ্লেষণ বৃদ্ধি
– রাসায়নিক সমীকরণ ও সূত্রের জটিলতা
– বোর্ড পরীক্ষার চাপ
– সিলেবাসের বিস্তৃতি
– ব্যবহারিক ক্লাসের সীমাবদ্ধতা
৭.৪ বিজ্ঞানভীতির কারণ
প্রশ্নমালায় শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানভীতির সম্ভাব্য কারণ সম্পর্কে মতামত নেওয়া হয়। শিক্ষার্থীরা একাধিক কারণ নির্বাচন করতে পেরেছে।
বিশ্লেষণে নিম্নোক্ত কারণগুলো প্রধান হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে—
১. জটিল সূত্র ও গাণিতিক সমস্যা
২. বিজ্ঞান ল্যাবের সীমিত ব্যবহার
৩. ব্যবহারিক ক্লাসের অভাব
৪. পরীক্ষার অতিরিক্ত চাপ
৫. বিষয়বস্তু মুখস্থ করার প্রবণতা
৬. আত্মবিশ্বাসের অভাব
৭. ভুল উত্তর দিলে সহপাঠীদের প্রতিক্রিয়ার ভয়
ফলাফল নির্দেশ করে যে, বিজ্ঞানভীতি একটি একক কারণের ফল নয়; বরং এটি ব্যক্তিগত, শিক্ষণগত এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিভিন্ন উপাদানের সম্মিলিত প্রভাব।
৭.৫ শিক্ষক সাক্ষাৎকারের থিমভিত্তিক বিশ্লেষণ
৫ জন বিজ্ঞান শিক্ষকের সাক্ষাৎকার বিশ্লেষণ করে চারটি প্রধান থিম নির্ধারণ করা হয়েছে।
থিম–১ : বিজ্ঞান শিক্ষা ব্যয়বহুল—অভিভাবকদের ধারণা
শিক্ষকদের মতে, অনেক অভিভাবক মনে করেন বিজ্ঞান বিভাগে পড়াশোনা করতে অতিরিক্ত বই, কোচিং এবং ব্যবহারিক উপকরণের প্রয়োজন হয়। এই ধারণার কারণে কিছু পরিবার শুরু থেকেই শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান বিষয়ে উৎসাহ দিতে অনিচ্ছুক থাকে।
থিম–২ : বিজ্ঞানাগারের সীমাবদ্ধতা
সব শিক্ষকই উল্লেখ করেছেন যে বিদ্যালয়ে বিজ্ঞানাগারের সুবিধা সীমিত। ফলে নিয়মিত ব্যবহারিক ক্লাস পরিচালনা করা সম্ভব হয় না। এতে শিক্ষার্থীরা বাস্তব অভিজ্ঞতার পরিবর্তে কেবল তাত্ত্বিক জ্ঞানের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে।
থিম–৩ : শিক্ষক প্রশিক্ষণের প্রয়োজন
শিক্ষকদের মতে, আধুনিক বিজ্ঞান শিক্ষণ, STEM শিক্ষা, অনুসন্ধানভিত্তিক পাঠদান এবং ডিজিটাল শিক্ষণ কৌশল বিষয়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়ানো প্রয়োজন।
থিম–৪ : প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাব
সাক্ষাৎকারে অংশগ্রহণকারী শিক্ষকরা জানান যে পর্যাপ্ত পরীক্ষণ সামগ্রী, মডেল, চার্ট, মাপযন্ত্র এবং নিরাপত্তা উপকরণের অভাব বিজ্ঞান শিক্ষাকে কার্যকরভাবে পরিচালনার ক্ষেত্রে বড় বাধা সৃষ্টি করছে।
৭.৬ সমন্বিত আলোচনা
শিক্ষার্থী ও শিক্ষক—উভয় পক্ষের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বিজ্ঞানভীতি শুধুমাত্র শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত দুর্বলতার ফল নয়। এটি বিদ্যালয়ের অবকাঠামো, শিক্ষণ পদ্ধতি, ব্যবহারিক সুযোগ, শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং অভিভাবকদের দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত।
গবেষণার ফলাফল নির্দেশ করে যে, নিম্ন মাধ্যমিকে বিজ্ঞান শিক্ষা তুলনামূলকভাবে আনন্দদায়ক হলেও উচ্চ মাধ্যমিকে বিষয়বস্তুর জটিলতা এবং মূল্যায়নভিত্তিক চাপ শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞানকে কঠিন মনে করার প্রবণতা বাড়িয়ে দেয়।
অতএব, বিজ্ঞানভীতি কমানোর জন্য কেবল শিক্ষার্থীর ওপর অতিরিক্ত পড়াশোনার চাপ বাড়ানো নয়; বরং বিদ্যালয়, শিক্ষক, অভিভাবক এবং শিক্ষা প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
৮. উপসংহার
বিজ্ঞান শিক্ষা একটি জাতির টেকসই উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং বৈজ্ঞানিক মনোভাব গঠনের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। কিন্তু বর্তমান গবেষণায় দেখা গেছে যে, গ্রামাঞ্চলের বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বিজ্ঞান শিক্ষা বিভিন্ন কাঠামোগত ও শিক্ষণগত সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি। গবেষণায় অংশগ্রহণকারী ৫০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে শ্রেণিভেদে বিজ্ঞান সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গির উল্লেখযোগ্য পার্থক্য পাওয়া গেছে। ৬ষ্ঠ–৮ম শ্রেণির অধিকাংশ শিক্ষার্থী বিজ্ঞানকে তুলনামূলকভাবে সহজ মনে করলেও ৯ম–১০ম শ্রেণির অধিকাংশ শিক্ষার্থী বিজ্ঞানকে কঠিন বলে মনে করেছে। এটি নির্দেশ করে যে উচ্চ শ্রেণিতে পাঠ্যবস্তুর জটিলতা এবং মূল্যায়নভিত্তিক চাপ বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান বিষয়ে আত্মবিশ্বাস কমে যেতে পারে।
৫ জন বিজ্ঞান শিক্ষকের সাক্ষাৎকারে বিজ্ঞান শিক্ষার ক্ষেত্রে চারটি প্রধান প্রতিবন্ধকতা উঠে এসেছে: (ক) অভিভাবকদের বিজ্ঞান শিক্ষাকে ব্যয়বহুল মনে করা, (খ) বিজ্ঞানাগারের অপ্রতুলতা, (গ) বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক প্রশিক্ষণের সীমাবদ্ধতা এবং (ঘ) প্রয়োজনীয় বিজ্ঞান সরঞ্জামের অভাব। এসব বিষয় শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে শেখার সুযোগ সীমিত করে এবং বিজ্ঞানকে বাস্তব অভিজ্ঞতার পরিবর্তে তাত্ত্বিক বিষয়ে পরিণত করে।
গবেষণার ফলাফল থেকে প্রতীয়মান হয় যে, বিজ্ঞানভীতি দূর করতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং শিক্ষা প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। অনুসন্ধানভিত্তিক, ব্যবহারিক ও শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক বিজ্ঞান শিক্ষা নিশ্চিত করা গেলে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ, আত্মবিশ্বাস এবং বিজ্ঞান বিষয়ে অর্জন বৃদ্ধি করা সম্ভব।
৯. সুপারিশ
গবেষণার ফলাফলের ভিত্তিতে নিম্নলিখিত সুপারিশ প্রদান করা হলো—
১. প্রতিটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কার্যকর ও ব্যবহারযোগ্য বিজ্ঞানাগার প্রতিষ্ঠা এবং নিয়মিত ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
২. বিজ্ঞান বিষয়ের জন্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষণ সামগ্রী, মডেল, চার্ট এবং ডিজিটাল শিক্ষাসামগ্রী সরবরাহ করতে হবে।
৩. বিজ্ঞান শিক্ষকদের নিয়মিত বিষয়ভিত্তিক, ব্যবহারিক ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।
৪. প্রতি সপ্তাহে নির্ধারিত ব্যবহারিক বিজ্ঞান ক্লাস নিশ্চিত করতে হবে।
৫. বিজ্ঞান পাঠদানকে অনুসন্ধানভিত্তিক, সমস্যা-সমাধানভিত্তিক এবং শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক করতে হবে।
৬. অভিভাবকদের মধ্যে বিজ্ঞান শিক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বিদ্যালয়ভিত্তিক সভা ও কর্মশালার আয়োজন করা উচিত।
৭. বিজ্ঞান বিষয়ে দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য সহায়ক ক্লাস, বিজ্ঞান ক্লাব এবং বিজ্ঞান মেলার আয়োজন করা যেতে পারে।
৮. মূল্যায়ন পদ্ধতিতে মুখস্থনির্ভর প্রশ্নের পরিবর্তে বিশ্লেষণধর্মী, ব্যবহারিক ও দক্ষতাভিত্তিক মূল্যায়নকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
১০. গবেষণার সীমাবদ্ধতা
বর্তমান গবেষণার কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
– গবেষণাটি একটি গ্রামাঞ্চলের বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পরিচালিত হয়েছে; তাই ফলাফল দেশের সব বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রযোজ্য নাও হতে পারে।
– নমুনার আকার সীমিত (৫০ জন শিক্ষার্থী ও ৫ জন শিক্ষক)।
– তথ্য প্রধানত প্রশ্নমালা ও সাক্ষাৎকারের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় উত্তরদাতাদের ব্যক্তিগত মতামতের প্রভাব থাকতে পারে।
– দীর্ঘমেয়াদি অনুসরণ (Longitudinal Study) এই গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত ছিল না।
১১. ভবিষ্যৎ গবেষণার দিকনির্দেশনা
ভবিষ্যতে নিম্নোক্ত বিষয়ে গবেষণা পরিচালনা করা যেতে পারে—
– সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয়ের তুলনামূলক গবেষণা।
– শহর ও গ্রামাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানভীতির তুলনামূলক বিশ্লেষণ।
– বিজ্ঞানভীতি কমাতে STEM শিক্ষা ও ডিজিটাল শিক্ষণ কৌশলের কার্যকারিতা।
– বিজ্ঞানভীতি ও শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ফলাফলের সম্পর্ক।
– বিজ্ঞানভীতি, লিঙ্গ এবং সামাজিক-অর্থনৈতিক অবস্থার পারস্পরিক সম্পর্ক।
১২. তথ্যসূত্র (APA 7th Edition – প্রাথমিক তালিকা)
Bandura, A. (1997). Self-efficacy: The exercise of control. W. H. Freeman.
National Curriculum and Textbook Board. (2021). National Curriculum Framework. Dhaka: NCTB.
National Curriculum and Textbook Board. (2023). Secondary Science Textbooks (Grades 6–10). Dhaka: NCTB.
OECD. (2019). PISA 2018 Results (Volume I): What Students Know and Can Do. OECD Publishing.
Tobias, S. (1993). Overcoming Math Anxiety. W. W. Norton & Company.
১৩. পরিশিষ্ট
পরিশিষ্ট–ক: শিক্ষার্থীদের প্রশ্নমালা (সংক্ষেপ)
১. আপনি কি বিজ্ঞান বিষয়টি পছন্দ করেন?
২. বিজ্ঞান বিষয়টি কি আপনার কাছে সহজ নাকি কঠিন?
৩. বিজ্ঞান ক্লাসে প্রশ্ন করতে আপনার কি ভয় লাগে?
৪. ব্যবহারিক ক্লাস কি নিয়মিত হয়?
৫. বিজ্ঞান শেখার সবচেয়ে বড় সমস্যা কী?
৬. বিজ্ঞান শেখাকে আরও আনন্দদায়ক করতে আপনার কী পরামর্শ?
পরিশিষ্ট–খ: শিক্ষক সাক্ষাৎকার নির্দেশিকা
১. শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞানভীতির প্রধান কারণ কী?
২. বিজ্ঞান শিক্ষায় বিদ্যালয়ের প্রধান সীমাবদ্ধতা কী?
৩. বিজ্ঞানাগারের বর্তমান অবস্থা কেমন?
৪. শিক্ষক প্রশিক্ষণের কী প্রয়োজন রয়েছে?
৫. বিজ্ঞানভীতি কমাতে বিদ্যালয় ও শিক্ষা প্রশাসনের কী উদ্যোগ নেওয়া উচিত?
























