দেখার যেন কেউ নেই!
মাদকের নীল দংশনে সাতক্ষীরার যুবসমাজ
- আপডেট সময় : ০৬:০২:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬
- / ২৩ বার পঠিত

সীমান্ত ঘেঁষা জেলা সাতক্ষীরায় মাদকের ভয়াবহ বিস্তার ও নীল দংশনে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে স্থানীয় যুবসমাজ। হাত বাড়ালেই মিলছে মরণনেশা ফেনসিডিল, ইয়াবা, গাঁজা ও অতি-পরিচিত মারাত্মক ড্রাগ ‘আইস’ (ক্রিস্টাল মেথ)।
দিন দিন আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে মাদকাসক্তের সংখ্যা, যার বড় একটা অংশই তরুণ ও কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য। ফলে জেলায় চুরি, ছিনতাই, কিশোর অপরাধ ও পারিবারিক সহিংসতা চরম আকার ধারণ করেছে। স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, প্রশাসনের ঢিলেঢালা ভাব এবং রাঘববোয়ালদের অধরা থাকার কারণেই পরিস্থিতি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে মনে হচ্ছে ‘দেখার যেন কেউ নেই’।
ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে সাতক্ষীরার দীর্ঘ সীমান্ত এলাকা মাদক চোরাচালানের প্রধান রুট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সীমান্ত পার হয়ে আসা মাদকের চালান খুব দ্রুতই ছড়িয়ে পড়ছে শহরের অলিগলি থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রাম অঞ্চলে। মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবহার করে চলছে মাদকের বেচাকেনা, যার ফলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দেওয়া সহজ হচ্ছে।
সাতক্ষীরার বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও বেকার যুবকদের একটি বড় অংশ এখন মাদকাসক্ত। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শহরের এক কলেজ শিক্ষক আক্ষেপ করে বলেন, আমাদের চোখের সামনে একটা প্রজন্ম শেষ হয়ে যাচ্ছে। পড়ালেখা বাদ দিয়ে তরুণরা দিন-রাত মাদকের টাকার খোঁজে ঘুরছে। মাদক না পেয়ে নিজ ঘরে বাবা-মাকে মারধর করার ঘটনা এখন নিত্যদিনের।
মাদকের গ্রাসে ভেঙে পড়ছে শত শত পরিবার। সন্তানকে বাঁচাতে গিয়ে নিঃস্ব হচ্ছেন বাবা-মা। মাদকাসক্তদের চিকিৎসার জন্য জেলায় পর্যাপ্ত নিরাময় কেন্দ্র নেই, আর যা আছে তাও সাধারণ মানুষের সামর্থ্যের বাইরে। অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাদকের এই নীল ছোবল এখনই না থামালে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে সাতক্ষীরা জেলা এক গভীর সামাজিক সংকটে পড়বে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাঝেমধ্যে ছোটখাটো মাদকসেবী বা খুচরা বিক্রেতা গ্রেফতার হলেও, মূল হোতা বা গডফাদাররা সব সময়ই পর্দার আড়ালে থেকে যাচ্ছে। রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় তারা বীরদর্পে এই অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।
তবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও জেলা পুলিশের দাবি, মাদকের বিরুদ্ধে তাদের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বলবৎ রয়েছে। প্রতিনিয়ত অভিযান চালিয়ে মাদক ও চোরাকারবারিদের ধরা হচ্ছে। কিন্তু স্থানীয়দের দাবি এই অভিযান যেন শুধু লোকদেখানো না হয়ে, মাদকের মূল উৎপাটনে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
সাতক্ষীরার যুবসমাজকে এই মরণফাঁদ থেকে বাঁচাতে এখনই প্রশাসন, পরিবার এবং সমাজকে একযোগে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জেলার সুশীল সমাজ।


























