দেবী দুর্গার আর্বিভাবে ত্রিলোকের মহাবিপদ নাশ হয় মহাষ্টমীতে
- আপডেট সময় : ০৭:৪৬:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
- / ১১ বার পঠিত

মহাপূজা অর্থাৎ দেবী দুর্গা আরাধনায় অষ্টমীর তাৎপর্য সম্ভবত সবচেয়ে বেশি। হঠাৎ করে দিনটি ‘মহা’ অভিধা পেয়ে যায়নি। তার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। কালিকাপুরাণ অনুযায়ী, ‘আশ্বিনস্য তু শুক্লস্য ভবেদ্ যা অষ্টমী তিথিঃ। মহাষ্টমীতি সা প্রোক্তা দেব্যাঃ প্রীতিকরী পরা।।’ যার অর্থ, আশ্বিন মাসের শুক্লপক্ষের অষ্টমী তিথি দেবীর প্রীতিকরী। তাই সেটি ‘মহাষ্টমী’ নামে পরিচিত। স্মার্ত পণ্ডিত রঘুনন্দনের মতে, “মহাবিপত্তারকত্বাদ্ গীয়তেহসৌ মহাষ্টমী।”
অর্থাৎ, দেবী দুর্গার আবির্ভাবে ত্রিলোকের মহাবিপদ নাশ হয় বলে অষ্টমী তিথি মহাষ্টমী। অষ্টমীতে অস্ত্র পুজোর রেওয়াজ আছে। বিশ শতকের কলকাতায় অষ্টমীর দিনে বীরাষ্টমী ব্রত পালিত হতো। বিপ্লবী, স্বদেশি মন্ত্রে দীক্ষিতরা এ দিন দেশ স্বাধীন করার শপথ নিতেন মাতৃভূমির নামে। তবে পুষ্পাঞ্জলির ব্যাপক জনপ্রিয়তা দিনটির নবনির্মাণ করেছে। মহাপুজোয় প্রতিদিন অঞ্জলি নিবেদন করা হয়। পূজা মাত্রই অঞ্জলি নিবেদন। কিন্তু লোক বিশ্বাসে এ দিনের অঞ্জলির মাহাত্ম্য যেন সবচেয়ে বেশি। মহাষ্টমীর অঞ্জলি দিতে মণ্ডপে মণ্ডপে ভিড় উপচে পড়ে। জনপ্রিয়তার নিরিখে সরস্বতী পুজোর অঞ্জলি কেবল মহাষ্টমীর অঞ্জলির সঙ্গে লড়াইয়ে নামতে পারে।
গত ত্রিশ-চল্লিশ বছরে মহাষ্টমী এবং এই তিথির পুষ্পাঞ্জলিকে বাঙালি প্রেম, প্রণয়, অনুরাগের সঙ্গে মিলিয়ে দিয়েছে।মহাষ্টমীতে কুমারী পূজা হয়। দেবী শক্তির বীজ হিসাবে কুমারীকে পূজা করা হয়। অরজঃস্বলা, এক থেকে ষোলো বছর বয়সি কুমারীকে এই দিনে পুজো করা হয় দেবী জ্ঞানে। বঙ্গীয় সমাজে কুমারী পুজোর খ্যাতি এবং আকর্ষণ তৈরির ক্ষেত্রে বেলুড় মঠ ও স্বামী বিবেকানন্দের ভূমিকা অনস্বীকার্য। এ দিন কোথাও কোথাও সধবা পুজোও হয়। তাতে দেবী জ্ঞানে পূজা করা হয় সধবা রমণীকে।
মহাষ্টমীর আর একটি রেওয়াজ হল ধুনো পোড়ানো। মূলত গন্ধবণিক সম্প্রদায়ের দুর্গাপুজোয় এই ধুনো পোড়ানোর রীতি দেখা যায়। বনেদি পরিবারগুলোর কেউ কেউ অষ্টমীর দিন ধুনো পোড়ান। আবার কোনও কোনও বাড়িতে নবমীর দিন ধুনো পোড়ানো হয়। মহিলারা একসঙ্গে প্রতিমার সামনে বসেন। তাঁদের দুই হাতে এবং মাথায় নতুন গামছা দিয়ে বিড়ে বানিয়ে তার উপরে নতুন মালসা বসানো হয়। তার পরে সেই মালসার মধ্যে ধুনো পোড়ানো হয়। এক এক জন তিনটি করে মালসায় ধুনো পোড়ান। সন্তান ও পরিবারের মঙ্গলকামনায় এই আচার পালন করেন বাড়ির মহিলারা।
বিডন স্ট্রিটের ভোলানাথ ধাম অর্থাৎ দত্তবাড়ি, কলুটোলার বদনচাঁদ রায়ের বাড়ি, চোরবাগানের শীলবাড়ি ইত্যাদি বাড়ির পূজায় ধুনো পোড়ানোর রীতি আছে। মহাষ্টমী ও মহানবমীর সন্ধিক্ষণে সন্ধিপুজো হয়। অষ্টমী তিথির শেষ ২৪ মিনিট এবং নবমী তিথির প্রথম ২৪ মিনিট অর্থাৎ মোট ৪৮ মিনিট ধরে চলে পূজা। দেবী দুর্গাকে চামুণ্ডা রূপে পুজো করা হয়। এ সময়ে তিনি সর্বসংহারিণী। পৌরাণিক কাহিনি অনুসারে, এই মহাসন্ধিক্ষণে চামুণ্ডা রূপে চণ্ড ও মুণ্ডের নিধন করেন দেবী। সে কারণেই সন্ধিপুজোর আয়োজন। ১০৮ প্রদীপ, ১০৮ পদ্ম নিবেদন করে ৪৮ মিনিটের এই বিশেষ পূজার মাধ্যমে মহাষ্টমী পেরিয়ে এসে পড়ে মহাপূজার শেষ তিথি, নবমী।
সুমন চক্রবর্তী
গণমাধ্যমকর্মী ও মুক্তলেখক

























