ডুমুরিয়ায় ঘোড়ার মাংস বিক্রির চেষ্টাকালে একব্যক্তি আটক
- আপডেট সময় : ০৯:৩২:৪০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৬ বার পঠিত

খুলনার ডুমুরিয়ায় প্রকাশ্যে ঘোড়া জবাই করে মাংস প্রস্তুত ও তা গোপনে বিক্রির চক্রের মূলহোতাকে আটক করেন এসআরবি-৬। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযুক্তকে ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) ভোর ৪টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআরবি-৬ এর সাতক্ষীরা ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল ডুমুরিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে হাতেনাতে আটক করে। দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম আনিসুর রহমান পলাশ (৪০)। তিনি উপজেলার কাঞ্চনপুর গ্রামের মৃত লুৎফর রহমান মাহমুদের ছেলে।
এসআরবি সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ডুমুরিয়া ও এর আশপাশের এলাকায় অবৈধভাবে ঘোড়া জবাই করে গোশত প্রস্তুত করে কিছু অসাধু চক্রের সহায়তায় তা অন্য পশুর মাংস হিসেবে সরবরাহ করা হচ্ছিল। এসআরবি-৬ দীর্ঘদিন ধরে এই চক্রটির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে আসছিল।
শনিবার ভোরে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে এসআরবি-৬ এর সাতক্ষীরা ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জায়েন উদ্দিন মোহাম্মদ জিহাদের নেতৃত্বে অভিযানটি পরিচালিত হয়। অভিযানে কাঞ্চনপুর এলাকা থেকে ঘোড়ার মাংস প্রস্তুতকালে পলাশকে এসআরবি সদস্যরা তাকে আটক করে।
পরবর্তীতে শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় আটককৃত আসামিকে ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) সোহেল রানার কার্যালয়ে হাজির করা হয়। আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণ বিবেচনা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত আইনের আওতায় আনিসুর রহমান পলাশকে ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।
আভিযানিক দলের প্রধান ও এসআরবি-৬ এর সাতক্ষীরা ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জায়েন উদ্দিন মোহাম্মদ জিহাদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, গত প্রায় ২ মাস ধরে এসআরবি-৬ এই অসাধু চক্রটির প্রতিটি কর্মকাণ্ড অত্যন্ত সতর্কতার সাথে অনুসরণ করছিল। এরা গোপনে ঘোড়া জবাই করে মাংস বাজারজাত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত ছিল। শনিবার ভোরে আমাদের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য আসে যে সেখানে ঘোড়া জবাইয়ের কাজ চলছে। তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান চালিয়ে আলামতসহ আসামিকে হাতেনাতে আটক করা সম্ভব হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এ ধরনের প্রতারণামূলক অপরাধের বিরুদ্ধে আমাদের এ কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ডুমুরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সোহেল রানা জানান, অপরাধ স্বীকার ও আলামত প্রমাণের ভিত্তিতে আটককৃত ব্যক্তিকে ৩ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। জনস্বার্থবিরোধী ও প্রতারণামূলক যেকোনো কর্মকাণ্ড রোধে উপজেলা প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আনিসুর রহমান পলাশকে জেলহাজতে প্রেরণের প্রক্রিয়া চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানানো হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
























