
যশোরের কেশবপুর পৌরশহরের অধিকাংশ পরিবহন কাউন্টারে যাত্রীদের জন্য প্রয়োজনীয় শৌচাগার না থাকায় প্রতিদিন চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে নারী, শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ যাত্রীদের দুর্ভোগ সীমাহীন আকার ধারণ করেছে। দীর্ঘ সময় বাসের অপেক্ষায় কিংবা দূরপাল্লার যাত্রার আগে অনেক যাত্রী বাধ্য হয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কেশবপুর বাসস্ট্যান্ড ও আশপাশের বিভিন্ন পরিবহন কাউন্টারে প্রতিদিন শতশত যাত্রীর যাতায়াত হলেও অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে নেই কোনো ব্যবহারযোগ্য শৌচাগার। ফলে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে যাত্রীদের খুঁজতে হয় দূরের কোনো স্থান, আবার অনেকে বাধ্য হয়ে খোলা জায়গা ব্যবহার করছেন। এতে পরিবহন কাউন্টার সংলগ্ন এলাকায় নোংরা পরিবেশ সৃষ্টি হচ্ছে এবং দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে পড়ছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীরা। কেশবপুর থেকে ঢাকা গমনকারী এক নারীযাত্রী নাম প্রকাশনা করার শর্তে বলেন‘ দীর্ঘ সময় বাসের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। কিন্তু আশপাশে কোনো শৌচাগার না থাকায় খুব অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের জন্য বিষয়টি অত্যন্ত কষ্টকর।
আরেক যাত্রী আব্দুর রহমান বলেন, বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষদের জন্য এটি বড় ধরনের সমস্যা। অনেক সময় বাধ্য হয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা শৌচাগার ব্যবহার না করে থাকতে হয়, যা স্বাস্থ্যের জন্যও ক্ষতিকর। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, কাউন্টারগুলোর আশপাশে অনেকেই প্রয়োজনের তাগিদে খোলা স্থানে প্রসাব করায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। এতে ব্যবসা পরিচালনা যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিরও সৃষ্টি হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে বলে তারা অভিযোগ করেন।
পর্যাপ্ত স্যানিটেশন সুবিধার অভাব শুধু যাত্রীদের দুর্ভোগই বাড়ায় না এটি বিভিন্ন রোগবালাই ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও বাড়িয়ে দেয়। আধুনিক ও যাত্রীবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থার অন্যতমশর্ত হচ্ছে নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগার সুবিধা নিশ্চিত করা।
স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা বলছেন, কেশবপুর একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ কেন্দ্র হওয়া সত্ত্বেও পরিবহন কাউন্টারগুলোতে ন্যূনতম স্যানিটেশন সুবিধা না থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক। যাত্রীসেবার মান উন্নয়নে পরিবহন মালিক সমিতি, কাউন্টার কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তারা কেশবপুর পৌরসভা, উপজেলা প্রশাসন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং পরিবহন মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দের কাছে যাত্রীদের জন্য নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগার স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।
সচেতনমহলের মতে, যাত্রী সেবার মান উন্নয়ন ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার স্বার্থে কেশবপুরের পরিবহন কাউন্টারগুলোতে দ্রুত শৌচাগার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে এই দুর্ভোগ আরও প্রকট হয়ে উঠবে এবং জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতির অবনতি ঘটার আশঙ্কা থাকবে।
























