ঢাকা ১২:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo শার্শায় আপন দাদার বিরুদ্ধে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ Logo ঐক্য, সম্প্রীতি ও উন্নয়ন সবার আগে রামনগর ইউনিয়ন: রাজু আহমেদ Logo মাদ্রাসা পরিচালকের বিরুদ্ধে ছাত্রী নির্যাতনের অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি Logo ৩১ অক্টোবর লংমার্চ সফল করতে যশোরে এনসিপির লিফলেট বিতরণ Logo অভয়নগরে জামায়েত ইসলামীর লং মার্চের প্রস্তুতি সভা Logo যশোর সীমান্তে ৪ লাখ টাকার মদ ও চোরাচালানি পণ্য জব্দ Logo যশোরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গাছের ডাল কেটে বিক্রির অভিযোগ Logo ডেঙ্গু আক্রান্ত কৃষকদল সভাপতি আমিরুলের পাশে যুবদল-ছাত্রদল নেতৃবৃন্দ Logo কালীগঞ্জে সাধারণ মানুষের চলাচলের পথ অবরুদ্ধ করার অভিযোগ Logo কেশবপুরে জামাইয়ের বিরুদ্ধে শ্বশুর-শাশুড়িকে মারধরের অভিযোগ

মায়ের জন্য জীবন উৎসর্গকারী অভিনেতা সমু চৌধুরীর জীবনের গল্প

শফিকুল ইসলাম
  • আপডেট সময় : ১০:১৫:৫৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১৫ বার পঠিত

যশোরের সন্তান সমু চৌধুরী। নব্বইয়ের দশকে অভিনয় দিয়ে জয় করেছিলেন দর্শকের হৃদয়। জীবনের এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় পরিবারের অন্য সদস্যদের হারানোর পর মাকে আগলে রাখতেই বিয়ের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন বলে জানিয়েছেন তাঁর বন্ধু চলচ্চিত্র পরিচালক রবিউল ইসলাম রাজ।

যশোর জেলার এই কৃতী সন্তান অভিনয়ের টানে পাড়ি জমিয়েছিলেন ঢাকায়। যুক্ত হয়েছিলেন নাট্যদলের সঙ্গে। মঞ্চনাটকে অভিনয় করতে করতেই একসময় সুযোগ পান টেলিভিশন নাটকে। নিজের অভিনয়দক্ষতা দিয়ে ধীরে ধীরে জায়গা করে নেন দর্শকের হৃদয়ে। পরিচিতি ছড়িয়ে পড়ে দেশজুড়ে। পরবর্তী সময়ে চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেন তিনি।

সমু চৌধুরীর চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে বিখ্যাত পরিচালক আমজাদ হোসেন পরিচালিত ‘আদরের সন্তান’ ছবির মাধ্যমে। ছবিটিতে সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করেছিলেন চলচ্চিত্র পরিচালক রবিউল ইসলাম রাজ।

অভিনয়জীবনে পরিচিতি ও সাফল্য পেলেও ব্যক্তিজীবনে এক মর্মান্তিক ট্র্যাজেডির মুখোমুখি হতে হয় সমু চৌধুরীকে। সড়ক দুর্ঘটনায় মা ছাড়া পরিবারের অন্য সদস্যদের হারান তিনি। দুর্ঘটনার সময় ঢাকায় ছিলেন এই অভিনেতা। এক মুহূর্তে তাঁর জীবনের পরিচিত জগৎ যেন বদলে যায়।

পরিবারের সদস্যদের হারানোর সেই শোক তাঁর জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছে বলে জানিয়েছেন তাঁর ঘনিষ্ঠজনেরা। সময়ের সঙ্গে জীবনের স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে তাঁকে নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। তাঁর আচরণ নিয়ে নানা আলোচনা থাকলেও তাঁকে অসম্মান করা বা কষ্ট দেওয়া সমাধান নয়—এমনটাই মনে করেন তাঁর বন্ধু রবিউল ইসলাম রাজ।

সমু চৌধুরীর জীবনের আরেকটি আবেগঘন দিক তাঁর মায়ের প্রতি দায়িত্ববোধ। বন্ধুর ভাষ্য অনুযায়ী, মাকে নিয়ে উদ্বেগ ও তাঁর দেখভালের বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই সমু বিয়ের সিদ্ধান্ত নেননি। তাঁর আশঙ্কা ছিল, ভবিষ্যতে স্ত্রী ও মায়ের মধ্যে সম্পর্ক কেমন হবে, কিংবা তাঁর মা যথাযথ যত্ন পাবেন কি না।

জীবনে অনেক সময় ও সুযোগ এলেও তাই সংসারী হওয়ার পথে হাঁটেননি তিনি। মাকে আগলে রাখার দায়িত্বকেই নিজের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ করে নিয়েছেন।

সমু চৌধুরীর বন্ধু চলচ্চিত্র পরিচালক রবিউল ইসলাম রাজ বলেন, আমার বন্ধু সমু চৌধুরীকে কেউ আঘাত করবেন না। তিনি কারও ক্ষতি করেন না। তাঁকে নিয়ে উপহাস না করে সহানুভূতির চোখে দেখুন। আমি চাই, আমার বন্ধু সুস্থ হয়ে উঠুক এবং ভালো থাকুক।

খ্যাতির আলোয় একসময় যাঁর জীবন আলোকিত ছিল, সেই অভিনেতার ব্যক্তিজীবনের গল্পে রয়েছে শোক, একাকিত্ব ও মায়ের প্রতি গভীর মমতার অধ্যায়। সমু চৌধুরীর জীবন তাই শুধু একজন অভিনেতার গল্প নয়; এটি পরিবারের প্রতি দায়িত্ববোধ, প্রিয়জন হারানোর বেদনা এবং মাকে আগলে রাখার এক ব্যক্তিগত সংগ্রামের গল্পও।

ট্যাগস :

মায়ের জন্য জীবন উৎসর্গকারী অভিনেতা সমু চৌধুরীর জীবনের গল্প

আপডেট সময় : ১০:১৫:৫৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

যশোরের সন্তান সমু চৌধুরী। নব্বইয়ের দশকে অভিনয় দিয়ে জয় করেছিলেন দর্শকের হৃদয়। জীবনের এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় পরিবারের অন্য সদস্যদের হারানোর পর মাকে আগলে রাখতেই বিয়ের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন বলে জানিয়েছেন তাঁর বন্ধু চলচ্চিত্র পরিচালক রবিউল ইসলাম রাজ।

যশোর জেলার এই কৃতী সন্তান অভিনয়ের টানে পাড়ি জমিয়েছিলেন ঢাকায়। যুক্ত হয়েছিলেন নাট্যদলের সঙ্গে। মঞ্চনাটকে অভিনয় করতে করতেই একসময় সুযোগ পান টেলিভিশন নাটকে। নিজের অভিনয়দক্ষতা দিয়ে ধীরে ধীরে জায়গা করে নেন দর্শকের হৃদয়ে। পরিচিতি ছড়িয়ে পড়ে দেশজুড়ে। পরবর্তী সময়ে চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেন তিনি।

সমু চৌধুরীর চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে বিখ্যাত পরিচালক আমজাদ হোসেন পরিচালিত ‘আদরের সন্তান’ ছবির মাধ্যমে। ছবিটিতে সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করেছিলেন চলচ্চিত্র পরিচালক রবিউল ইসলাম রাজ।

অভিনয়জীবনে পরিচিতি ও সাফল্য পেলেও ব্যক্তিজীবনে এক মর্মান্তিক ট্র্যাজেডির মুখোমুখি হতে হয় সমু চৌধুরীকে। সড়ক দুর্ঘটনায় মা ছাড়া পরিবারের অন্য সদস্যদের হারান তিনি। দুর্ঘটনার সময় ঢাকায় ছিলেন এই অভিনেতা। এক মুহূর্তে তাঁর জীবনের পরিচিত জগৎ যেন বদলে যায়।

পরিবারের সদস্যদের হারানোর সেই শোক তাঁর জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছে বলে জানিয়েছেন তাঁর ঘনিষ্ঠজনেরা। সময়ের সঙ্গে জীবনের স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে তাঁকে নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। তাঁর আচরণ নিয়ে নানা আলোচনা থাকলেও তাঁকে অসম্মান করা বা কষ্ট দেওয়া সমাধান নয়—এমনটাই মনে করেন তাঁর বন্ধু রবিউল ইসলাম রাজ।

সমু চৌধুরীর জীবনের আরেকটি আবেগঘন দিক তাঁর মায়ের প্রতি দায়িত্ববোধ। বন্ধুর ভাষ্য অনুযায়ী, মাকে নিয়ে উদ্বেগ ও তাঁর দেখভালের বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই সমু বিয়ের সিদ্ধান্ত নেননি। তাঁর আশঙ্কা ছিল, ভবিষ্যতে স্ত্রী ও মায়ের মধ্যে সম্পর্ক কেমন হবে, কিংবা তাঁর মা যথাযথ যত্ন পাবেন কি না।

জীবনে অনেক সময় ও সুযোগ এলেও তাই সংসারী হওয়ার পথে হাঁটেননি তিনি। মাকে আগলে রাখার দায়িত্বকেই নিজের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ করে নিয়েছেন।

সমু চৌধুরীর বন্ধু চলচ্চিত্র পরিচালক রবিউল ইসলাম রাজ বলেন, আমার বন্ধু সমু চৌধুরীকে কেউ আঘাত করবেন না। তিনি কারও ক্ষতি করেন না। তাঁকে নিয়ে উপহাস না করে সহানুভূতির চোখে দেখুন। আমি চাই, আমার বন্ধু সুস্থ হয়ে উঠুক এবং ভালো থাকুক।

খ্যাতির আলোয় একসময় যাঁর জীবন আলোকিত ছিল, সেই অভিনেতার ব্যক্তিজীবনের গল্পে রয়েছে শোক, একাকিত্ব ও মায়ের প্রতি গভীর মমতার অধ্যায়। সমু চৌধুরীর জীবন তাই শুধু একজন অভিনেতার গল্প নয়; এটি পরিবারের প্রতি দায়িত্ববোধ, প্রিয়জন হারানোর বেদনা এবং মাকে আগলে রাখার এক ব্যক্তিগত সংগ্রামের গল্পও।