ঢাকা ০১:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo মণিরামপুরে দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শনে শহীদ ইকবাল Logo মণিরামপুরে দুর্গাপূজা মণ্ডপ পরিদর্শনে ইউএনও সম্রাট হোসেন Logo কুয়াদার বাজুয়াডাঙ্গা পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী Logo যশোরে মিল ম্যানেজারকে অচেতন করে টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ Logo ‘বিদ্রোহী’ ২০২৬ প্রকাশনা উপলক্ষে যশোরে মতবিনিময় সভা Logo গোপালগঞ্জের গোপিনাথপুরে বার্ষিক ওয়াজ মাহফিল অনুষ্ঠিত Logo মসজিদ-মন্দির রাজনীতির বাইরে রাখার আহ্বান প্রতিমন্ত্রী অমিতের Logo ঝিকরগাছায় বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে উপজেলা বিএনপি নেতৃবৃন্দ Logo বাবা-ছেলের ছবি দিয়ে অপপ্রচারের ঘটনায় থানায় অভিযোগ Logo শার্শায় চাঁদার দাবিতে পিস্তল দেখিয়ে হুমকি
কুমারী পূজায় ভক্তদের সমাগম

যশোরে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে মহাষ্টমী উদযাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৪:৩৮:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১৮ বার পঠিত

ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ভক্তি ও নানা আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে যশোরে শারদীয় দুর্গাপূজার মহাষ্টমী উদযাপিত হয়েছে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) যশোর রামকৃষ্ণ আশ্রম ও মিশনে কুমারী পূজা ও সন্ধিপূজাকে কেন্দ্র করে ভক্তদের ব্যাপক সমাগম ঘটে। পূজার আনুষ্ঠানিকতায় মুখর হয়ে ওঠে আশ্রম প্রাঙ্গণ।

সকালে মহাষ্টমী পূজার মধ্য দিয়ে দিনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। সকাল সাড়ে ৯টায় অনুষ্ঠিত হয় কুমারী পূজা। এ বছর যশোরের বেজপাড়া এলাকার বাসিন্দা সোহাগ পাঠক ও মল্লিকা পাঠকের পাঁচ বছর বয়সী কন্যা, প্লে-শ্রেণির শিক্ষার্থী সোহানী পাঠককে শাস্ত্রমতে ‘সুভগা’ রূপে পূজা করা হয়।

কুমারী পূজা শেষে ভক্তরা দেবীর চরণে অঞ্জলি নিবেদন করেন। এ সময় তাঁরা সন্তানদের মঙ্গল, পরিবারের শান্তি ও বিশ্বমানবতার কল্যাণ কামনায় প্রার্থনা করেন।

অষ্টমী ও নবমী তিথির সন্ধিক্ষণে ধর্মীয় রীতি অনুসারে অনুষ্ঠিত হয় বিশেষ সন্ধিপূজা। বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা অনুযায়ী, বাংলাদেশ সময় সোমবার সকাল ১০টা ৫৮ মিনিট থেকে ১১টা ৪৬ মিনিট পর্যন্ত ছিল সন্ধিপূজার নির্ধারিত ৪৮ মিনিট। এ সময় অসুরশক্তির বিনাশের প্রতীক হিসেবে চালকুমড়ো, ইক্ষু ও পাকা কলা দিয়ে প্রতীকী বলির আয়োজন করা হয় বলে স্থানীয়ভাবে জানানো হয়েছে।

পুরোহিতদের মতে, হিন্দু পুরাণ অনুসারে অষ্টমী ও নবমী তিথির সন্ধিক্ষণে দেবী চামুণ্ডা রূপে চণ্ড ও মুণ্ড নামে দুই অসুরকে বধ করেন। এ কারণে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে সন্ধিপূজার বিশেষ ধর্মীয় তাৎপর্য রয়েছে।

যশোর রামকৃষ্ণ আশ্রম ও মিশনে পূজার পুরোহিতের দায়িত্ব পালন করেন প্রণয় চক্রবর্তী। তন্ত্রধারী পুরোহিত ছিলেন শক্তিপ্রসাদ গাঙ্গুলী। পূজার সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন আশ্রমের অধ্যক্ষ স্বামী জ্ঞানপ্রকাশানন্দ ও সহসম্পাদক স্বামী আত্মবিভানন্দ।

এদিকে, মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) মহানবমী উপলক্ষে যশোরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপে বিহিত পূজা ও বিশেষ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালিত হবে। ভক্তরা দেবীর চরণে অঞ্জলি নিবেদন করে মঙ্গল ও শান্তি কামনায় প্রার্থনা করবেন।

বুধবার (২১ অক্টোবর) বিজয়া দশমী। এদিন দশমীর বিহিত পূজা ও দর্পণ বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গাকে আনুষ্ঠানিক বিদায় জানানো হবে। পরে প্রতিমা নিরঞ্জন ও শান্তিজল সিঞ্চনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা।

মহানবমী ও বিজয়া দশমী উপলক্ষে যশোরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও ভক্তদের সমাগম অব্যাহত থাকবে বলে আশা করছেন আয়োজকেরা।

ট্যাগস :

কুমারী পূজায় ভক্তদের সমাগম

যশোরে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে মহাষ্টমী উদযাপন

আপডেট সময় : ০৪:৩৮:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ভক্তি ও নানা আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে যশোরে শারদীয় দুর্গাপূজার মহাষ্টমী উদযাপিত হয়েছে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) যশোর রামকৃষ্ণ আশ্রম ও মিশনে কুমারী পূজা ও সন্ধিপূজাকে কেন্দ্র করে ভক্তদের ব্যাপক সমাগম ঘটে। পূজার আনুষ্ঠানিকতায় মুখর হয়ে ওঠে আশ্রম প্রাঙ্গণ।

সকালে মহাষ্টমী পূজার মধ্য দিয়ে দিনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। সকাল সাড়ে ৯টায় অনুষ্ঠিত হয় কুমারী পূজা। এ বছর যশোরের বেজপাড়া এলাকার বাসিন্দা সোহাগ পাঠক ও মল্লিকা পাঠকের পাঁচ বছর বয়সী কন্যা, প্লে-শ্রেণির শিক্ষার্থী সোহানী পাঠককে শাস্ত্রমতে ‘সুভগা’ রূপে পূজা করা হয়।

কুমারী পূজা শেষে ভক্তরা দেবীর চরণে অঞ্জলি নিবেদন করেন। এ সময় তাঁরা সন্তানদের মঙ্গল, পরিবারের শান্তি ও বিশ্বমানবতার কল্যাণ কামনায় প্রার্থনা করেন।

অষ্টমী ও নবমী তিথির সন্ধিক্ষণে ধর্মীয় রীতি অনুসারে অনুষ্ঠিত হয় বিশেষ সন্ধিপূজা। বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা অনুযায়ী, বাংলাদেশ সময় সোমবার সকাল ১০টা ৫৮ মিনিট থেকে ১১টা ৪৬ মিনিট পর্যন্ত ছিল সন্ধিপূজার নির্ধারিত ৪৮ মিনিট। এ সময় অসুরশক্তির বিনাশের প্রতীক হিসেবে চালকুমড়ো, ইক্ষু ও পাকা কলা দিয়ে প্রতীকী বলির আয়োজন করা হয় বলে স্থানীয়ভাবে জানানো হয়েছে।

পুরোহিতদের মতে, হিন্দু পুরাণ অনুসারে অষ্টমী ও নবমী তিথির সন্ধিক্ষণে দেবী চামুণ্ডা রূপে চণ্ড ও মুণ্ড নামে দুই অসুরকে বধ করেন। এ কারণে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে সন্ধিপূজার বিশেষ ধর্মীয় তাৎপর্য রয়েছে।

যশোর রামকৃষ্ণ আশ্রম ও মিশনে পূজার পুরোহিতের দায়িত্ব পালন করেন প্রণয় চক্রবর্তী। তন্ত্রধারী পুরোহিত ছিলেন শক্তিপ্রসাদ গাঙ্গুলী। পূজার সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন আশ্রমের অধ্যক্ষ স্বামী জ্ঞানপ্রকাশানন্দ ও সহসম্পাদক স্বামী আত্মবিভানন্দ।

এদিকে, মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) মহানবমী উপলক্ষে যশোরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপে বিহিত পূজা ও বিশেষ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালিত হবে। ভক্তরা দেবীর চরণে অঞ্জলি নিবেদন করে মঙ্গল ও শান্তি কামনায় প্রার্থনা করবেন।

বুধবার (২১ অক্টোবর) বিজয়া দশমী। এদিন দশমীর বিহিত পূজা ও দর্পণ বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গাকে আনুষ্ঠানিক বিদায় জানানো হবে। পরে প্রতিমা নিরঞ্জন ও শান্তিজল সিঞ্চনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা।

মহানবমী ও বিজয়া দশমী উপলক্ষে যশোরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও ভক্তদের সমাগম অব্যাহত থাকবে বলে আশা করছেন আয়োজকেরা।