সারদায় শিক্ষানবিশ সার্জেন্ট ও ক্যাডেট এসআইদের সনদ বিতরণ
- আপডেট সময় : ০৬:৩২:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
- / ২৭ বার পঠিত

গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, আইনের শাসন ও মানবাধিকার সমুন্নত রেখে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও পেশাদার পুলিশ বাহিনী গড়ে তুলতে সরকার সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। পুলিশের আধুনিকায়ন ও লজিস্টিক সহায়তায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কোনো অর্থ বরাদ্দ পেন্ডিং থাকবে না বলেও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির চেমেনি মেমোরিয়াল হলে ২৭তম শিক্ষানবিশ সার্জেন্ট ও ৪৩তম ক্যাডেট সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) ব্যাচ ২০০৬-এর ছয় মাসব্যাপী মৌলিক প্রশিক্ষণের সমাপনী ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিগত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং স্বৈরাচারী ও একদলীয় শাসনব্যবস্থার কারণে অনেক পুলিশ কর্মকর্তা অন্যায়ভাবে চাকরি ও ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছিলেন। বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন করে তাঁদের চাকরিতে পুনর্বহাল এবং প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছে।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে এসব কর্মকর্তাকে মর্যাদার সঙ্গে পেশাগত জীবনে ফিরিয়ে আনা সরকারের একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।
নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জনগণ দিনশেষে পুলিশের কাছেই ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করে। পুলিশের সততা, কর্মনিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের ওপর সরকারের ভাবমূর্তি নির্ভর করে। দেশ ও জনগণের সেবা এবং শৃঙ্খলা রক্ষায় অর্পিত দায়িত্ব নিষ্ঠা ও পবিত্রতার সঙ্গে পালন করতে হবে।
প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ ও সাইবার অপরাধ দমনে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে অপরাধের ধরন ও কৌশল বদলেছে। এ কারণে সরকার ফরেনসিক ও কেমিক্যাল ল্যাবের সম্প্রসারণ, আধুনিক প্রযুক্তির সংযোজন এবং দেশে-বিদেশে উচ্চতর প্রশিক্ষণের সুযোগ সৃষ্টি করছে।
পুলিশের অভ্যন্তরীণ দক্ষতা বাড়াতে ‘ট্রেনিং অব দ্য ট্রেইনার্স’ (টিওটি) কর্মসূচির আওতায় কর্মকর্তাদের চীনসহ বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণে পাঠানোর প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির, বিপিএম। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি সারদার প্রিন্সিপাল ও অতিরিক্ত আইজিপি মাইনুল হাসান, এনডিসি। এ সময় ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা, একাডেমির প্রশিক্ষক ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন, বর্তমান সরকারের গত আট মাসের মেয়াদে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে কোনো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম বা কাস্টডিয়াল ডেথের ঘটনা ঘটেনি। তাঁর মতে, এটি দেশে আইনের শাসন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার প্রতিফলন। তবে জনকল্যাণ নিশ্চিত করতে সরকারকে আরও অনেক দূর এগোতে হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে পুলিশ দ্রুত অপরাধী শনাক্ত, গ্রেপ্তার, যথাযথ তদন্ত এবং বিচারপ্রক্রিয়ার মুখোমুখি করতে সক্ষম হচ্ছে।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভোটগ্রহণ অত্যন্ত সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে পরিচালিত হচ্ছে। নির্বাচন চলাকালে কোথাও অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দুপুর পর্যন্ত প্রায় ৩০ শতাংশ ভোট পড়েছে।
মন্ত্রী বলেন, ভোটাররা যাতে স্বাধীনভাবে ও নিরাপদে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে জন্য সরকার সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
নাটোরের সংসদ সদস্যের সন্তানের বিরুদ্ধে অভিযোগ ও গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান। সংসদ সদস্যের সন্তান হলেও অপরাধের অভিযোগ থাকলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, এ ঘটনায় প্রমাণিত হয়েছে, বর্তমান সরকার প্রভাব-প্রতিপত্তি কিংবা পরিচয় বিবেচনা না করে নিরপেক্ষভাবে আইনি প্রক্রিয়া পরিচালনা করছে।




















