ঢাকা ০৬:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মাদক ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে কঠোর বার্তা দিলেন নবাগত ওসি শহীদ তিতুমীর

বেনাপোলে হয় মাদক ব্যবসায়ী থাকবে, না হয় পুলিশ থাকবে

আলমগীর হোসেন, বেনাপোল
  • আপডেট সময় : ০৩:৪৩:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
  • / ১০৬ বার পঠিত

বেনাপোল পোর্ট থানায় যোগদানের মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যেই মাদকবিরোধী কঠোর অবস্থান ঘোষণা করে স্থানীয় মানুষের দৃষ্টি কেড়েছেন নবাগত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহীদ তিতুমীর।

একের পর এক অভিযান, পাড়া-মহল্লায় সরাসরি উপস্থিতি এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দিচ্ছেন তিনি। তাঁর এমন তৎপরতায় বেনাপালজুড়ে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে।

সম্প্রতি স্থানীয় একটি মসজিদে নামাজ আদায় করতে গিয়ে মুসল্লিদের সামনে মাদক নির্মূলে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন ওসি শহীদ তিতুমীর। এ সময় তিনি বলেন, হয় বেনাপোলে মাদক ব্যবসায়ীরা থাকবে, না হয় পুলিশ থাকবে। তাঁর এই বক্তব্য উপস্থিত মুসল্লি ও স্থানীয় মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

যোগদানের পর থেকেই মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে মাঠপর্যায়ে তৎপরতা শুরু করেছেন তিনি। মাদক চোরাচালানের অন্যতম প্রবেশপথ হিসেবে পরিচিত বারোপোতা বাজারে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। পাশাপাশি ছোটআঁচড়া-শিকড়ি সড়ক, বেনাপোল পৌরগেটসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

এখানেই থেমে থাকেননি ওসি। বেনাপোল পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন বাড়িতে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক করেছেন। মাদক ব্যবসা ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর বার্তা, প্রয়োজনে দুই হাত-পা দিয়ে পরিশ্রম করে জীবিকা নির্বাহ করতে হবে, তবুও মাদক বিক্রির মতো অপরাধে জড়ানো যাবে না।

মাদকের পাশাপাশি কিশোর ও তরুণদের মোবাইল আসক্তি এবং অনলাইন জুয়া নিয়েও কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। বিশেষ করে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা যেন মোবাইলের অপব্যবহার ও অনলাইন জুয়ার ফাঁদে পা না দেয়, সে বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

বেনাপোল দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থলবন্দর ও সীমান্তবর্তী এলাকা। এ অঞ্চলে মাদক চোরাচালান প্রতিরোধ পুলিশের জন্য বরাবরই বড় চ্যালেঞ্জ। তাই শুধু অভিযান নয়, অপরাধ দমনে ধারাবাহিক নজরদারি এবং স্থানীয় মানুষের সহযোগিতাও জরুরি।

যোগদানের পাঁচ দিনের মধ্যে ওসি শহীদ তিতুমীরের এমন তৎপরতায় স্থানীয় মানুষের মধ্যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। তবে এই কঠোর অবস্থান কতটা কার্যকর ও দীর্ঘস্থায়ী হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, মাদক ও অপরাধ দমনে তাঁর এই উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে এবং বেনাপোল পোর্ট থানা সুনাম ও পেশাদারত্বের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।

ট্যাগস :

মাদক ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে কঠোর বার্তা দিলেন নবাগত ওসি শহীদ তিতুমীর

বেনাপোলে হয় মাদক ব্যবসায়ী থাকবে, না হয় পুলিশ থাকবে

আপডেট সময় : ০৩:৪৩:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

বেনাপোল পোর্ট থানায় যোগদানের মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যেই মাদকবিরোধী কঠোর অবস্থান ঘোষণা করে স্থানীয় মানুষের দৃষ্টি কেড়েছেন নবাগত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহীদ তিতুমীর।

একের পর এক অভিযান, পাড়া-মহল্লায় সরাসরি উপস্থিতি এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দিচ্ছেন তিনি। তাঁর এমন তৎপরতায় বেনাপালজুড়ে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে।

সম্প্রতি স্থানীয় একটি মসজিদে নামাজ আদায় করতে গিয়ে মুসল্লিদের সামনে মাদক নির্মূলে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন ওসি শহীদ তিতুমীর। এ সময় তিনি বলেন, হয় বেনাপোলে মাদক ব্যবসায়ীরা থাকবে, না হয় পুলিশ থাকবে। তাঁর এই বক্তব্য উপস্থিত মুসল্লি ও স্থানীয় মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

যোগদানের পর থেকেই মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে মাঠপর্যায়ে তৎপরতা শুরু করেছেন তিনি। মাদক চোরাচালানের অন্যতম প্রবেশপথ হিসেবে পরিচিত বারোপোতা বাজারে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। পাশাপাশি ছোটআঁচড়া-শিকড়ি সড়ক, বেনাপোল পৌরগেটসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

এখানেই থেমে থাকেননি ওসি। বেনাপোল পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন বাড়িতে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক করেছেন। মাদক ব্যবসা ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর বার্তা, প্রয়োজনে দুই হাত-পা দিয়ে পরিশ্রম করে জীবিকা নির্বাহ করতে হবে, তবুও মাদক বিক্রির মতো অপরাধে জড়ানো যাবে না।

মাদকের পাশাপাশি কিশোর ও তরুণদের মোবাইল আসক্তি এবং অনলাইন জুয়া নিয়েও কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। বিশেষ করে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা যেন মোবাইলের অপব্যবহার ও অনলাইন জুয়ার ফাঁদে পা না দেয়, সে বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

বেনাপোল দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থলবন্দর ও সীমান্তবর্তী এলাকা। এ অঞ্চলে মাদক চোরাচালান প্রতিরোধ পুলিশের জন্য বরাবরই বড় চ্যালেঞ্জ। তাই শুধু অভিযান নয়, অপরাধ দমনে ধারাবাহিক নজরদারি এবং স্থানীয় মানুষের সহযোগিতাও জরুরি।

যোগদানের পাঁচ দিনের মধ্যে ওসি শহীদ তিতুমীরের এমন তৎপরতায় স্থানীয় মানুষের মধ্যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। তবে এই কঠোর অবস্থান কতটা কার্যকর ও দীর্ঘস্থায়ী হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, মাদক ও অপরাধ দমনে তাঁর এই উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে এবং বেনাপোল পোর্ট থানা সুনাম ও পেশাদারত্বের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।