যুদ্ধবিরতিতে কমল তেলের দাম
- আপডেট সময় : ০১:০৩:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬
- / ৬৭ বার পঠিত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সাময়িকভাবে হামলা বন্ধের ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ-উত্তেজনার কারণে আগের কার্যদিবসে যে মূল্যবৃদ্ধি হয়েছিল, তার বেশিরভাগই এদিন হারিয়ে যায়।
মঙ্গলবার (৯ জুন) আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম প্রতি ব্যারেলে ৯১ সেন্ট বা ১ শতাংশ কমে ৯৩ দশমিক ৩৪ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ১ দশমিক ১৩ ডলার বা ১ দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৯০ দশমিক ১৭ ডলারে দাঁড়ায়।
এর আগে ইরানের ওপর নতুন করে ইসরায়েলি বিমান হামলা এবং লেবাননে সামরিক অভিযানের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে বৃহৎ পরিসরের যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। সেই উত্তেজনার প্রভাবে আগের সেশনে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রায় ৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়। তবে পরবর্তীতে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তাদের সামরিক অভিযান সমাপ্তির ঘোষণা দিলে বাজারে স্বস্তি ফিরে আসে। এর ফলে তেলের দামও নিম্নমুখী হতে শুরু করে।
বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান কেসিএম ট্রেডের প্রধান বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, সরাসরি সংঘাত আপাতত বন্ধ হওয়ায় বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। তবে এই যুদ্ধবিরতি কতদিন স্থায়ী হবে, তা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল। যেকোনো সময় নতুন করে সংঘাত শুরু হলে জ্বালানি বাজারে আবারও বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির আহ্বানের পরই ইরান ও ইসরায়েল হামলা স্থগিতের ঘোষণা দেয়। তবে তেহরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ইসরায়েল যদি লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখে, তাহলে ইরান পুনরায় সামরিক প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে।
অন্যদিকে বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান আইজি-এর টনি সিকামোর মনে করেন, ট্রাম্পের কূটনৈতিক উদ্যোগ পরিস্থিতিকে বৃহত্তর সংঘাতে রূপ নেওয়া থেকে আপাতত রক্ষা করেছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এখনো উচ্চমাত্রায় রয়েছে এবং স্থায়ী শান্তির সম্ভাবনা অনিশ্চিত।
এদিকে এক ভিডিও বার্তায় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সতর্ক করে বলেছেন, ইরান নতুন করে হামলা চালালে ইসরায়েল কঠোর শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে জবাব দেবে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে নতুন সংঘাত শুরু হলে ইসরায়েলকে হয়তো একাই সেই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হতে পারে বলে তিনি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে সতর্ক করেছেন।
বর্তমানে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করা। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই কৌশলগত নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এ পথে যেকোনো ধরনের বিঘ্ন বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে সোমবার মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরানের ওপর আরোপিত অবরোধ অমান্য করে ওমান উপসাগর হয়ে একটি খালি তেলবাহী ট্যাংকার ইরানি বন্দরের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল। পরে মার্কিন বাহিনী সেটিকে অবরুদ্ধ করে অচল করে দেয়।
বিশ্লেষকদের মতে, আপাতত বাজারে স্বস্তি ফিরলেও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালীর ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি আগামী দিনগুলোতে বৈশ্বিক তেলের বাজারের গতিপ্রকৃতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সূত্র: রয়টার্স

























