ঢাকা ০৫:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo উন্নয়ন ও জনসেবার প্রতিশ্রুতি নিয়ে মাঠে মাহবুর রহমান মালেক Logo ঝিকরগাছায় দৈনিক রানারের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত Logo নদীভাঙনে বিলীন দোকানপাট ও গুদামঘর, ১৬ ব্যবসায়ীকে প্রণোদনা Logo ডুমুরিয়ায় বরফ কল দেখিয়ে সারের ডিলার নিয়োগ! Logo সংস্কারের অভাবে বেহাল সৌম্য-মোস্তাফিজের স্মৃতিবিজড়িত মাঠ Logo মনিরামপুরে পূর্বশত্রুতার জেরে কামরুজ্জামানকে কুপিয়ে জখম Logo ৩২ বছরের শিক্ষকতা জীবনের ইতি টানলেন গণিত শিক্ষক সোহরাব উদ্দিন Logo রাইস ট্রান্সপ্লান্টারে আধুনিক ধান চাষ: ডুমুরিয়ায় মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত Logo কেশবপুরে দরিদ্র নারী, অভিভাবক ও কিশোরীদের সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ Logo টাকা চুরির অপবাদে সাজমীর হত্যা: এজাহারভুক্ত দুই আসামি গ্রেপ্তার
ঢাকায় চাকরিজীবী ও আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপি বনে যাওয়া নেতার কাণ্ড

ডুমুরিয়ায় বরফ কল দেখিয়ে সারের ডিলার নিয়োগ!

শেখ মাহতাব হোসেন
  • আপডেট সময় : ০৪:৩৬:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১৭ বার পঠিত

খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলা সদরে একটি বরফ কলকে সারের গুদাম বানিয়ে ও অস্তিত্বহীন অবকাঠামো দেখিয়ে সারের ডিলার নিয়োগ দেওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, ডিলারশিপ প্রাপ্ত জি. এম. হাফিজুর রহমান ডুমুরিয়া সদরের ভোটার ও বাসিন্দা না হওয়া সত্ত্বেও গুটুদিয়া ইউনিয়নে তার অন্য ব্যবসার স্থান দেখিয়ে এই সুযোগ হাতিয়ে নিয়েছেন।পাশাপাশি তিনি বর্তমানে ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পূর্ণকালীন চাকরি করছেন।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, ঢাকায় চাকরি করে তিনি কীভাবে সারের মতো জরুরি ও সংবেদনশীল ডিলারশিপ পরিচালনা করবেন?

অভিযোগ রয়েছে, জি. এম. হাফিজুর রজমান ও তাঁর পরিবার গত ১৭ বছর ধরে আওয়ামী লীগের ছত্রছায়ায় সুবিধা ভোগ করেছে। গত ৫ই আগস্টের পটপরিবর্তনের পর তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতা গোলাম পরওয়ারের বলয়ে যোগ দিয়ে তার পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় নামেন। আবার রাজনৈতিক বাতাস বুঝে এখন রাতারাতি কট্টর ‘বিএনপি পরিবার’ সেজে সুবিধা বাগিয়ে নিচ্ছেন।

ডুমুরিয়া উপজেলার স্থানীয় বাসিন্দা ইসমাইল হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একজন লোক ঢাকায় চাকরি করে, ডুমুরিয়া সদরে তার কোনো বৈধ গুদাম নেই একটি বরফ কল দেখিয়ে সে সারের ডিলারশিপ বাগিয়ে নিলো! গুটুদিয়া ইউনিয়নের ঘর দেখিয়ে সদর ইউনিয়নের ডিলারশিপ কীভাবে সম্ভব? এছাড়া ১৭ বছর আওয়ামী লীগ করে ৫ আগস্টের পর জামায়াত, আর এখন বিএনপি সেজে সুবিধাবাদিতার চূড়ান্ত দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে সে। আমরা এই ভুয়া ও অবৈধ নিয়োগ অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানাচ্ছি।

ঢাকায় চাকরির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে অভিযুক্ত চাকরিজীবী জি. এম. হাফিজুর রহমান বলেন, আমি ঢাকায় চাকরি করি ঠিকই, তবে ডিলারশিপের ব্যবসা দেখাশোনার জন্য আমার বিশ্বস্ত লোক রয়েছে। আর ঘরের বিষয়ে যেসব অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তা সঠিক নয়। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সাথে আমার ডিলারশিপের কোনো সম্পর্ক নেই, নিয়ম মেনেই সব করা হয়েছে।

ঘটনার সত্যতা ও তদন্তের বিষয়ে জানতে চাইলে ডুমুরিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা তদন্ত কমিটির কর্মকর্তা ড. আশরাফুল কবির জানান, বরফ কলকে গুদাম হিসেবে দেখানো এবং ইউনিয়নের সীমানা বহির্ভূত ঘর দেখানোর বিষয়ে আমরা বেশ কিছু লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়গুলো আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছি। তদন্ত প্রতিবেদনে কোনো অসঙ্গতি বা জালিয়াতির প্রমাণ মিললে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ সবিতা সরকার তিনি বলেন, সারের ডিলার নিয়োগে কোনো অনিয়ম বা ভুয়া তথ্য দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেলে তা বরদাশত করা হবে না। আবেদনের সময় দেওয়া তথ্য এবং সরজমিন পরিদর্শনের তথ্যে কোনো গরমিল থাকলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে খুলনা জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সারের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম, জালিয়াতি বা রাজনৈতিক প্রভাব বরদাশত করা হবে না। যদি কোনো ব্যক্তি বরফ কল দেখিয়ে কিংবা ঢাকায় চাকরি করা সত্ত্বেও ভুয়া কাগজপত্রে ডিলারশিপ পেয়ে থাকেন, তবে তদন্ত সাপেক্ষে তার নিয়োগ বাতিলসহ কঠোর আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ডুমুরিয়ার সাধারণ কৃষক ও সচেতন মহল মনে করছেন, প্রকৃত কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় এবং সারের সুষ্ঠু বণ্টন নিশ্চিত করতে এই বিতর্কিত নিয়োগ দ্রুত বাতিল করে একজন যোগ্য ও স্থানীয় ব্যবসায়ীকে নিয়োগ দেওয়া জরুরি।

ট্যাগস :

ঢাকায় চাকরিজীবী ও আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপি বনে যাওয়া নেতার কাণ্ড

ডুমুরিয়ায় বরফ কল দেখিয়ে সারের ডিলার নিয়োগ!

আপডেট সময় : ০৪:৩৬:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলা সদরে একটি বরফ কলকে সারের গুদাম বানিয়ে ও অস্তিত্বহীন অবকাঠামো দেখিয়ে সারের ডিলার নিয়োগ দেওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, ডিলারশিপ প্রাপ্ত জি. এম. হাফিজুর রহমান ডুমুরিয়া সদরের ভোটার ও বাসিন্দা না হওয়া সত্ত্বেও গুটুদিয়া ইউনিয়নে তার অন্য ব্যবসার স্থান দেখিয়ে এই সুযোগ হাতিয়ে নিয়েছেন।পাশাপাশি তিনি বর্তমানে ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পূর্ণকালীন চাকরি করছেন।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, ঢাকায় চাকরি করে তিনি কীভাবে সারের মতো জরুরি ও সংবেদনশীল ডিলারশিপ পরিচালনা করবেন?

অভিযোগ রয়েছে, জি. এম. হাফিজুর রজমান ও তাঁর পরিবার গত ১৭ বছর ধরে আওয়ামী লীগের ছত্রছায়ায় সুবিধা ভোগ করেছে। গত ৫ই আগস্টের পটপরিবর্তনের পর তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতা গোলাম পরওয়ারের বলয়ে যোগ দিয়ে তার পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় নামেন। আবার রাজনৈতিক বাতাস বুঝে এখন রাতারাতি কট্টর ‘বিএনপি পরিবার’ সেজে সুবিধা বাগিয়ে নিচ্ছেন।

ডুমুরিয়া উপজেলার স্থানীয় বাসিন্দা ইসমাইল হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একজন লোক ঢাকায় চাকরি করে, ডুমুরিয়া সদরে তার কোনো বৈধ গুদাম নেই একটি বরফ কল দেখিয়ে সে সারের ডিলারশিপ বাগিয়ে নিলো! গুটুদিয়া ইউনিয়নের ঘর দেখিয়ে সদর ইউনিয়নের ডিলারশিপ কীভাবে সম্ভব? এছাড়া ১৭ বছর আওয়ামী লীগ করে ৫ আগস্টের পর জামায়াত, আর এখন বিএনপি সেজে সুবিধাবাদিতার চূড়ান্ত দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে সে। আমরা এই ভুয়া ও অবৈধ নিয়োগ অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানাচ্ছি।

ঢাকায় চাকরির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে অভিযুক্ত চাকরিজীবী জি. এম. হাফিজুর রহমান বলেন, আমি ঢাকায় চাকরি করি ঠিকই, তবে ডিলারশিপের ব্যবসা দেখাশোনার জন্য আমার বিশ্বস্ত লোক রয়েছে। আর ঘরের বিষয়ে যেসব অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তা সঠিক নয়। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সাথে আমার ডিলারশিপের কোনো সম্পর্ক নেই, নিয়ম মেনেই সব করা হয়েছে।

ঘটনার সত্যতা ও তদন্তের বিষয়ে জানতে চাইলে ডুমুরিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা তদন্ত কমিটির কর্মকর্তা ড. আশরাফুল কবির জানান, বরফ কলকে গুদাম হিসেবে দেখানো এবং ইউনিয়নের সীমানা বহির্ভূত ঘর দেখানোর বিষয়ে আমরা বেশ কিছু লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়গুলো আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছি। তদন্ত প্রতিবেদনে কোনো অসঙ্গতি বা জালিয়াতির প্রমাণ মিললে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ সবিতা সরকার তিনি বলেন, সারের ডিলার নিয়োগে কোনো অনিয়ম বা ভুয়া তথ্য দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেলে তা বরদাশত করা হবে না। আবেদনের সময় দেওয়া তথ্য এবং সরজমিন পরিদর্শনের তথ্যে কোনো গরমিল থাকলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে খুলনা জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সারের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম, জালিয়াতি বা রাজনৈতিক প্রভাব বরদাশত করা হবে না। যদি কোনো ব্যক্তি বরফ কল দেখিয়ে কিংবা ঢাকায় চাকরি করা সত্ত্বেও ভুয়া কাগজপত্রে ডিলারশিপ পেয়ে থাকেন, তবে তদন্ত সাপেক্ষে তার নিয়োগ বাতিলসহ কঠোর আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ডুমুরিয়ার সাধারণ কৃষক ও সচেতন মহল মনে করছেন, প্রকৃত কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় এবং সারের সুষ্ঠু বণ্টন নিশ্চিত করতে এই বিতর্কিত নিয়োগ দ্রুত বাতিল করে একজন যোগ্য ও স্থানীয় ব্যবসায়ীকে নিয়োগ দেওয়া জরুরি।